
প্রিন্ট এর তারিখঃ এপ্রিল ২৯, ২০২৬, ১০:২২ এ.এম || প্রকাশের তারিখঃ নভেম্বর ২০, ২০২৫, ১২:২১ পি.এম
মাদকবিরোধী অভিযানে ডিবি–ছাত্রদল–গ্রামবাসীর সংঘর্ষে আহত ১২

কুমিল্লার দেবিদ্বারে গোপন সংবাদের ভিত্তিতে বড় একটি মাদকচালান উদ্ধারে অভিযান পরিচালনা করতে গিয়ে জেলা গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি), স্থানীয় ছাত্রদল নেতা-কর্মী ও গ্রামবাসীর মধ্যে ত্রিমুখী সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। মঙ্গলবার (১৮ নভেম্বর) দুপুর ২টা থেকে রাত সাড়ে ৭টা পর্যন্ত জাফরগঞ্জ ইউনিয়নের ভিড়াল্লা গ্রামজুড়ে এ উত্তেজনা বিরাজ করে। ঘটনাস্থলে ডিবির ৭ সদস্য, ছাত্রদলের ২ নেতা এবং কয়েকজন গ্রামবাসীসহ অন্তত ১২ জন আহত হন।
ডিবি পুলিশ জানায়, গোমতী নদীর বেড়িবাঁধ এলাকায় বড় একটি ইয়াবা চালান লেনদেন হবে এমন তথ্যের ভিত্তিতে এসআই পাভেল মিয়ার নেতৃত্বে ৭ সদস্যের একটি ডিবি দল দুইটি প্রাইভেট কারে করে অভিযান চালায়। ক্রেতা সেজে যোগাযোগ করার পর ভিড়াল্লা ‘সাব্বির স্টোর’-এর সামনে সন্দেহভাজন হাসান আহমেদ (২৫)–কে আটক করা হয়। তল্লাশিতে তার প্যান্টের পকেট থেকে পাঁচটি পলিপ্যাকেটে মোট এক হাজার পিস ইয়াবা উদ্ধার করা হয় বলে দাবি করে ডিবি।
ঘটনার পর এসআই পাভেল মিয়া বাদী হয়ে ২০১৮ সালের মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে দেবিদ্বার থানায় মামলা (নং ৯) করেন। আটক হাসান ফতেহাবাদ ইউনিয়নের বিষ্ণপুর গ্রামের আলী হোসেনের ছেলে।
অন্যদিকে কুমিল্লা (উঃ) জেলা ছাত্রদলের সদস্য সচিব মাহমুদুল হাসান তানিম অভিযোগ তুলেছেন যে, ডিবি “উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে” হাসানের কাছে ইয়াবা ঢুকিয়ে দিয়েছে। তিনি দাবি করেন, “হাসান আমাদের সাথেই ছিল। সে কোনোভাবেই ইয়াবা ব্যবসায়ী নয়।”
তানিম জানান, ডিবির সোর্স নজরুলের তথ্য অনুযায়ী তারা দেবিদ্বার থানার কয়েকজন এসআইকে সঙ্গে নিয়ে মাদক কারবারি ধরতে এলাকায় অবস্থান নেন। সন্দেহজনক একটি প্রাইভেট কার আটক করলে গাড়ির আরোহীরা ডিবি পরিচয় দেয়। কিন্তু ছাত্রদল ও গ্রামবাসীর ধারণা ছিল তারা মাদকচক্রের সহযোগী। পরে আরেকদল ডিবি সদস্য পৌঁছালে তীব্র বাকবিতণ্ডা, তারপর হাতাহাতি ও ধাওয়া–পাল্টা ধাওয়া শুরু হয়।
তানিম আরও জানান, পরিস্থিতি উত্তপ্ত হলে ডিবি তাকে হাতকড়া পরিয়ে গাড়িতে তুলে নেয়। তবে পরে খবর পায় যে গ্রামবাসী কয়েকজন ডিবি সদস্যকে আটকে অস্ত্র লুট করেছে। এর পর তাকে ভিড়াল্লায় এনে ছেড়ে দেওয়া হয় এবং আলোচনার মাধ্যমে অস্ত্র উদ্ধার করা হয়।
সংবাদ পেয়ে দেবিদ্বার–বি-পাড়া সার্কেল এএসপি মো. শাহীন এবং দেবিদ্বার থানার ওসি মো. ইয়াসিন ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনেন।
ওসি ইয়াসিন নাগরিক ভাবনাকে জানান, “প্রথম গাড়িটিতে থাকা ৩ ডিবি সদস্য ক্রেতা সেজে মাদক কারবারিদের সঙ্গে যোগাযোগ করছিল। হাসানকে আটক করে আনার সময় স্থানীয়রা তাকে ছাড়িয়ে নেওয়ার চেষ্টা করলে সংঘর্ষ ঘটে।”
এএসপি শাহীন নাগরিক ভাবনাকে বলেন, “উভয় পক্ষই মাদককারবারি ধরতে চেয়েছিল। ভুল বোঝাবুঝির ফলে সংঘর্ষ হয়েছে। মূল কারবারিরা পালিয়ে গেলেও তাদের ধরতে অভিযান অব্যাহত রয়েছে।”
দৈনিক ‘নাগরিক ভাবনা’র অনলাইন পোর্টালটি ঢাকা হতে শেখ রিফান আহমেদ-এর সম্পাদনায় পরিচালিত।
হটলাইন: 09649-230220 ও 01915-708187, ইমেইল: info.nagorikvabna@gmail.com
@নাগরিক ভাবনা কর্তৃক সর্বস্বত্ত্ব সংরক্ষিত