
প্রিন্ট এর তারিখঃ মে ৯, ২০২৬, ২:১৮ পি.এম || প্রকাশের তারিখঃ ডিসেম্বর ৭, ২০২৫, ৪:৫৪ পি.এম
মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় ক্ষুধা-দারিদ্রমুক্ত আগামীর অঙ্গীকার

মহান স্বাধীনতা যুদ্ধের রক্তঝরা প্রতিটি দিনই ত্যাগ, অসাম্প্রদায়িক চেতনা, মানবতা ও অধিকার প্রতিষ্ঠার সাক্ষ্য বহন করে। সেই অনন্য চেতনাকে ধারণ করে আগামীর বাংলাদেশকে ক্ষুধা ও দারিদ্রমুক্ত করার প্রত্যয় ব্যক্ত করা হয়েছে দেবিদ্বারে হানাদারমুক্ত দিবসের আলোচনা সভায়।
বৃহস্পতিবার (৪ ডিসেম্বর) সকালে দেবিদ্বার উপজেলা প্রশাসনের উদ্যোগে যথাযোগ্য মর্যাদায় হানাদারমুক্ত দিবস পালিত হয়। দিবসটি উপলক্ষে উপজেলা পরিষদ প্রাঙ্গণ থেকে একটি বর্ণাঢ্য শোভাযাত্রা বের করা হয়। পরে মুক্তিযুদ্ধে শহীদদের স্মরণে ‘স্বাধীনতা স্তম্ভ’ ও ‘গণকবরে’ পুষ্পার্ঘ্য অর্পণ করে উপজেলা প্রশাসন, মুক্তিযোদ্ধা সংসদ, উপজেলা প্রেসক্লাবসহ বিভিন্ন সংগঠন ও ব্যক্তিবর্গ।
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা রাকিবুল ইসলামের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি বলেন, “মুক্তিযুদ্ধের অনন্য চেতনা লালন করেই আমরা সোনার বাংলাদেশ গড়ে তুলব।”
সভাটি সঞ্চালনা করেন উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা দেওয়ান মো. জাহাঙ্গীর। আলোচনায় অংশ নেন উপজেলা কমান্ডার বীর মুক্তিযোদ্ধা মূন্সী আব্দুর রৌফ, সাবেক কমান্ডার বীর মুক্তিযোদ্ধা কাজী আব্দুস সামাদ, বীর মুক্তিযোদ্ধা মো. সফিউল্লাহ মাস্টার, বীর মুক্তিযোদ্ধা আব্দুল মতিন, সাংবাদিক সফিউল আলম রাজীব, সাংস্কৃতিক কর্মী মো. দেলোয়ার হোসেন, বৈম্য বিরোধী ছাত্র আন্দোলনের নেতা কাজী নাছির উদ্দিন ও মো. নাঈম হাসান প্রমুখ।
স্বাগতিক বক্তব্য রাখেন দেবিদ্বার উপজেলা প্রেসক্লাবের সভাপতি সাংবাদিক এবিএম আতিকুর রহমান বাশার।
আলোচকরা জানান, ১৯৭১ সালের ৪ ডিসেম্বর মুক্তিবাহিনী ও মিত্রবাহিনীর যৌথ আক্রমণে দেবিদ্বার পাক হানাদারদের কবল থেকে মুক্ত হয়। ওইদিন মুক্তিযোদ্ধারা কুমিল্লা-সিলেট মহাসড়কের কোম্পানীগঞ্জ সেতু মাইন বিস্ফোরণে ধ্বংস করে দেয়। পরে মিত্রবাহিনীর ২৩ মাউন্টেন ডিভিশনের জেনারেল আর. ডি. হিরার নেতৃত্বে ট্যাংক বহর দেবীদ্বারে প্রবেশ করলে পাক সেনারা রাতের আঁধারে পালিয়ে যায়।
তবে দেবিদ্বার-চান্দিনা সড়কের মোহনপুর এলাকায় ভুল বোঝাবুঝির কারণে মুক্তিযোদ্ধা ও মিত্রবাহিনীর মধ্যে গুলি বিনিময়ের ঘটনা ঘটে; এতে মিত্রবাহিনীর ছয় সেনা শহীদ হন। সেদিনই দেবিদ্বারের আকাশে উড়ে স্বাধীন বাংলার পতাকা, বিজয়ের উচ্ছ্বাসে প্রকম্পিত হয়ে ওঠে উপজেলা সদর।
বক্তারা বলেন, ময়নামতি ক্যান্টনমেন্টের নিকটবর্তী হওয়ায় এ অঞ্চল ছিল অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ। স্বাধীনতার পাঁচ দিনের মাথায় মুক্তিযোদ্ধারা পাক সেনাদের সঙ্গে সম্মুখযুদ্ধে লড়ে ইতিহাসের প্রথম বিজয় ছিনিয়ে আনেন। এতে ১৫ পাক সেনা নিহত হয় এবং ৩৩ জন বাঙালি যোদ্ধা শহীদ হন। ভানী, বরকামতা ও অন্যান্য অঞ্চলের যুদ্ধে অসংখ্য পাক সেনা নিহত হয়, যার ভয়াবহ মাশুল দিতে হয়েছে দেবিদ্বারের মানুষকে।
পাক হানাদারদের বর্বরতার সাক্ষী হিসেবে আজও অক্ষত রয়েছে ১৯ শহীদের গণকবর, নৌ কমান্ডো শহীদ আবুবকরের কবর, ভূষনার ৬ শহীদের কবর, বারুর গ্রামের শহীদ যোদ্ধার কবর, মাওলানা আজীমুদ্দিন পীরের দুই নাতির কবর, ভিড়াল্লার শহীদ মজিবুর রহমানের কবর, মহেশপুরের ১৪ মুক্তিযোদ্ধার কবর, বরকামতার ২৬ শহীদের কবরসহ অসংখ্য স্মৃতিচিহ্ন।
ঢাকা ও বিভিন্ন অঞ্চল থেকে যোদ্ধা-নেতাদের সীমান্তে পৌঁছে দেওয়ার অন্যতম নিরাপদ রুট ছিল দেবিদ্বার। ফতেহাবাদের ‘নলআরা’ জঙ্গল ও অধ্যাপক মোজাফফর আহমদের এলাহাবাদের বাড়িতে ছিল দুটি প্রশিক্ষণ কেন্দ্র। মুক্তিযোদ্ধার সংখ্যার দিক থেকে দেবিদ্বার ছিল দেশের দ্বিতীয় বৃহত্তম মুক্তিযোদ্ধা অধ্যুষিত অঞ্চল।
দৈনিক ‘নাগরিক ভাবনা’র অনলাইন পোর্টালটি ঢাকা হতে শেখ রিফান আহমেদ-এর সম্পাদনায় পরিচালিত।
হটলাইন: 09649-230220 ও 01915-708187, ইমেইল: info.nagorikvabna@gmail.com
@নাগরিক ভাবনা কর্তৃক সর্বস্বত্ত্ব সংরক্ষিত