অপু দাস, রাজশাহী: রাজশাহীর মোহনপুরে মাদকবিরোধী অভিযানে ১৮০ বোতল দেশীয় চোলাই মদ জব্দ করেছে র্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়ন (র্যাব)-৫। পৃথক তিনটি বসতবাড়িতে অভিযান চালিয়ে এসব মদ উদ্ধার করা হয়। উদ্ধার হওয়া মদের মোট পরিমাণ ৪৫ লিটার ২৫০ মিলিলিটার। তবে অভিযান চলাকালে র্যাবের উপস্থিতি আঁচ করতে পেরে সংশ্লিষ্ট তিন ব্যক্তি বাড়ি থেকে সরে পড়ায় তাদের আটক করা সম্ভব হয়নি।
র্যাব-৫ সূত্রে জানা গেছে, মঙ্গলবার (৮ সেপ্টেম্বর) বিকেল ৩টা ৪৫ মিনিটের দিকে মোহনপুর উপজেলার ঘাসিগ্রাম ইউনিয়নের ৯ নম্বর ওয়ার্ডের বাসপুকুর গ্রামে এ অভিযান পরিচালিত হয়। সিপিএসসি, র্যাব-৫, রাজশাহীর একটি আভিযানিক দল আগে পাওয়া গোপন তথ্য যাচাই করে ওই এলাকায় অভিযান চালায়।
অভিযান পরিচালনাকারী দলের কাছে তথ্য ছিল, বাসপুকুর গ্রামের কয়েকটি বসতবাড়িতে দেশীয়ভাবে তৈরি চোলাই মদ রাখা হয়েছে। ওই তথ্যের ভিত্তিতে র্যাব সদস্যরা প্রথমে এলাকায় অবস্থান নেন এবং পরে নরেশ, রঞ্জিত ও রিপন নামের তিন ব্যক্তির বাড়িতে অভিযান পরিচালনা করেন।
র্যাবের দল বাড়িগুলোতে পৌঁছানোর বিষয়টি টের পেয়ে নরেশ, রঞ্জিত ও রিপন দ্রুত সেখান থেকে পালিয়ে যান। তাদের আটক করা সম্ভব না হলেও পরবর্তীতে র্যাব সদস্যরা বাড়িগুলোতে তল্লাশি চালান।
তল্লাশির একপর্যায়ে পৃথক তিনটি বাড়ির রান্নাঘর থেকে বিপুল পরিমাণ বোতল উদ্ধার করা হয়। পরে বোতলগুলোতে থাকা তরল পরীক্ষা করে দেশীয় তৈরি চোলাই মদ হিসেবে শনাক্ত করা হয়। নিরপেক্ষ সাক্ষীদের উপস্থিতিতে উদ্ধার করা মদের হিসাব করা হয় এবং প্রচলিত আইন ও বিধি অনুযায়ী তা জব্দ করা হয়।
অভিযানে মোট ১৮০টি বোতল পাওয়া যায়। প্রতিটি বোতলে ২৫০ মিলিলিটার করে চোলাই মদ ছিল। সব মিলিয়ে উদ্ধার হওয়া মদের পরিমাণ দাঁড়ায় ৪৫ লিটার ২৫০ মিলিলিটার।
এ ঘটনায় পলাতক তিনজনের পরিচয়ও জানিয়েছে র্যাব। তারা হলেন বাসপুকুর গ্রামের নরেশ (৩০), তার পিতা মঙ্গল; রঞ্জিত (৩৩), তার পিতা সুকুলাল এবং রিপন (৩২)। রিপনের বাবার নাম জানা যায়নি।
র্যাবের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, অভিযানের সময় সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা পালিয়ে গেলেও তাদের বিরুদ্ধে আইনগত পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। উদ্ধার হওয়া মাদকদ্রব্যের বিষয়ে প্রয়োজনীয় প্রক্রিয়া শেষে মোহনপুর থানায় মামলা দায়ের করা হয়েছে।
স্থানীয়ভাবে তৈরি ও বিক্রি হওয়া চোলাই মদসহ বিভিন্ন ধরনের মাদকদ্রব্যের বিস্তার রোধে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী নিয়মিত অভিযান পরিচালনা করে আসছে। মাদকদ্রব্যের অবৈধ মজুত, পরিবহন ও বিক্রির সঙ্গে জড়িত ব্যক্তিদের শনাক্ত করে আইনের আওতায় আনতে গোয়েন্দা নজরদারিও জোরদার করা হচ্ছে।
র্যাব-৫ জানিয়েছে, মাদকের বিরুদ্ধে তাদের অভিযান চলমান থাকবে। মাদকদ্রব্যের অবৈধ কার্যক্রমের সঙ্গে জড়িতদের বিরুদ্ধে তথ্যের ভিত্তিতে অভিযান পরিচালনার পাশাপাশি উদ্ধার হওয়া মাদকদ্রব্য আইন অনুযায়ী জব্দ করা হবে এবং সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।