
এইচ এম গোলাম কিবরিয়া রাকিব, কুমিল্লা
বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী বাংলাদেশের আমির ডা. শফিকুর রহমান বলেছেন- প্রশাসনের সর্বস্তরে সংস্কারের জন্য আমরা সরকারকারকে সময় দিয়েছি। প্রয়োজনে আরও দেবো। তবে মৌলিক সংস্কার করে যৌক্তিক সময় নির্বাচন দিতে হবে। ২০২৪ সালের জুলাই গণহত্যার বিচার করতে হবে। তবে আমরা আইন হাতে তুলে নিতে চাই না। পরাজিত শক্তি এখনও বিদেশে বসে দেশের বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র করছে। তিনি বলেন ভারতীয় মিডিয়ায় মিথ্যাচার চালিয়ে বাংলাদেশের সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি বিনষ্ট করতে চেয়েছিলো। কিন্ত এদেশের মানুষ তাদের সে পাতা ফাঁদে পা দেয়নি। দেশের প্রশ্নে সবাই ঐক্যবদ্ধ হয়ে সে ষড়যন্ত্র রুখে দিয়েছে। তিনি বলেন আমরা কাউকে ধর্মের ভিত্তিতে ভাগ করতে চাই না। সবার পরিচয় হবে আমরা বাংলাদেশি।
কুমিল্লা নামে বিভাগ না দেয়ায় বিগত সরকারের সমালোচনা করে তিনি বলেন, নামের কারণে বিভাগ না দিয়ে একটি জেলার মানুষের প্রতি জুলুম করা হয়েছে। দেশের এক ইঞ্চি মাটির প্রতি অবজ্ঞাকারী কোনো ব্যক্তির প্রধানমন্ত্রী হওয়ার যোগ্যতা নেই। তিনি কুমিল্লা নামে বিভাগ বাস্তবায়নের দাবি জানান। এছাড়াও কুমিল্লা বিমানবন্দর সচলের যৌক্তিকতাও তুলে ধরেন তিনি।শুক্রবার (৬ ডিসেম্বর) সকালে কুমিল্লা নগরীর টাউন হল মাঠে মহানগরী জামায়াতের কর্মী সম্মেলনে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।শুরুতে অর্থ সহ পবিত্র কোরআন মজীদ থেকে তেলাওয়াত করেন ড. ক্বারী আবরার আহম্মদ। সম্মেলনের উদ্বোধন করেন বৈষম্যবিরোধী আন্দোলনে শহীদ মাছুম মিয়ার পিতা মুহাম্মদ শাহীর মিয়া।উদ্বোধনী বক্তব্য রাখেন কুমিল্লা মহানগর জামায়াতের আমীর ও সম্মেলনের সভাপতি কাজী দ্বীন মোহাম্মদ।
প্রধান বক্তা হিসেবে বক্তব্য রাখেন জামায়াতের নায়েবে আমীর সাবেক এমপি ডা: সৈয়দ আব্দুল্লাহ মো: তাহের। বিশেষ অতিথি হিসেবে সম্মেলনে বক্তব্য রাখেন, জামায়াতের সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল মাওলানা আবু তাহের মুহাম্মদ মাছুম ও মাওলানা আব্দুল হালিম, কেন্দ্রীয় নির্বাহী পরিষদ সদস্য মো: মোবারক হোসাইন ও মুহাম্মদ আব্দুর রব, কেন্দ্রীয় কর্মপরিষদ সদস্য এডভেকেট জসীম উদ্দিন সরকার, কেন্দ্রীয় মজলিশে শূরা সদস্য অধ্যাপক লিয়াকত আলী ভূঁইয়া, মো: আব্দুস সাত্তার, কুমিল্লা দক্ষিণ জেলা আমীর এডভোকেট মো: শাহাজাহান, উত্তর জেলা আমীর অধ্যাপক আব্দুল মতিন, ঢাকা মহানগর জামায়াতের সহকারী সেক্ররটারি মাওলানা ইয়াছিন আরাফাত, কেন্দ্রীয় মজলিশে শূরা সদস্য ড. মোবারক হোসাইন, কুমিল্লা মহানগর জামায়াতের নায়েবে আমীর মুহাম্মদ মোছলেহ উদ্দিন, দক্ষিণ জেলা জামায়াতের সেক্রেটারি ড. সৈয়দ সরোয়ার উদ্দিন সিদ্দিকী, উত্তর জেলা সেক্রেটারি সাইফুল ইসলাম শহীদ, কুমিল্লা মহানগর জামায়াতের সহকারী সেক্রেটারি কামরুজ্জাম সোহেল, এডভোকেট নাছির আহাম্মদ মোল্লা ও মেশাররফ হেসাইন ,ইসলামী ছাত্রশিবির কুমিল্লা মহানগর সভাপতি নোমান হোসেন নয়ন ও কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয় সভাপতি হাফেজ ইউসুফ ইসলাহী।
জামায়াত আমির বলেন, গত সাড়ে ষোল বছর আদালত আঙ্গিনা ছিলো বিরোধী দলীয় নেতাকর্মীদের দখলে। মূলত পিলখানায় হত্যাকাণ্ডের মাধ্যমে দেশের অস্তিত্ব ধ্বংস করার মিশন শুরু হয়। এরপর ধাপে ধাপে মানুষের মৌলিক অধিকার হরণ করা হয়। বিরোধী দলের গণতান্ত্রিক অধিকার ছিলো৪৩৩৩ না। বিশেষ করে জামায়াতের ওপর সবচেয়ে বেশি অবিচার করা হয়। আমাদের শীর্ষ নেতাদের একে একে মিথ্যা মামলায় ফাঁসি দেয়া হয়। অনেক বয়োজ্যেষ্ঠ নেতাদের কারাগারের রেখে মৃত্যুর দিকে ঠেলে দেয়া হয়। আমাদের কার্যালয়গুলো অন্যায়ভাবে বন্ধ রাখা হয়। তবে এতো নির্যাতনের পরও আল্লাহর রহমত ও নেতাকর্মীদের ত্যাগের বিবিনিময়ে আমরা টিকে আছি। শেখ হাসিনাকে ইঙ্গিত করে তিনি বলেন বিদেশে বসে ষড়যন্ত্র করে কোনো লাভ নেই। দেশের প্রশ্নে জাতি এখন ঐক্যবদ্ধ।
তিনি শিক্ষা ব্যবস্থাকে ঢেলে সাজানোর দাবি জানান। বাস্তবভিত্তিক শিক্ষা কারিকুলাম প্রণয়নের দাবি জানান। তিনি বলেন, বৈষম্যবিরোধী বাংলাদেশ গড়তে সবাইকে নিজস্ব অবস্থান থেকে দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন করতে হবে। জামায়াতে ইসলামী ক্ষমতায় গেলে নারীরা যথাযথ মর্যাদা ও নিরাপত্তা পাবে বলে তিনি প্রতিশ্রুতি ব্যক্ত করেন। বলেন যোগ্যতার ভিত্তিতে সবাইকে মূল্যায়ন করা হবে। তিনি অভিযোগ করেন বিগত দিনে পুলিশের পক্ষ থেকে সবচেয়ে বেশি নির্যাতনের শিকার হয়েছে জামায়াতে ইসলামী। তারপরও আমরা প্রতিশোধপরায়ন হইনি। আমরা সবাই মিলে সুন্দর বাংলাদেশ গড়ে তুলতে চাই। গণমাধ্যম কর্মীদের উদ্দেশ্যে বলেন সব সময় সাদাকে সাদা ও কালোকে কালো বলতে হবে। অন্যায়কারী যেই হোক কাউকে ছাড় দেয়ার সুযোগ নেই। অন্যায়কারী হলে আমার বিরুদ্ধেও লিখবেন। তিনি বলেন ২৪ এর আন্দোলনের মূল সেনাপতি ছিলেন শিক্ষার্থীরা। আমরা শুধু তাদের পাশে থেকে পানি পান করিয়েছি। নেতাকর্মীদের চরিত্র গঠনের পাশাপাশি মানুষের যেকোনো ক্রান্তিকালে এগিয়ে যাওয়ার পরামর্শ দেন জামায়াতের আমির।
যৌথভাবে সম্মেলন পরিচালনা করেন কুমিল্লা মহানগর জামায়াতের নায়েবে আমীর একেএম এমদাদুল হক মামুন ও সেক্রেটারি মাওলানা মাহবুবুর রহমান।সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন, ফেনী জেলা জামায়াতের আমীর মুফতী আবদুল হান্নান, লক্ষীপুর জেলা আমীর রুহুল আমিন, নোয়াখালী জেলা সাবেক আমীর মাওলানা আলাউদ্দিন, কুমিল্লা উত্তর জেলা জামায়াতের সহকারী সেক্রেটারি অধ্যক্ষ মুফতি আমিনুল ইসলাম, নাগাইশ দরবারের পীর মোস্তাক ফয়েজী, ইবনে তাইমিয়া কলেজের অধ্যক্ষ শফিকুল আলম হেলাল ও তামিরুল মিল্লাত কামিল মাদরাসার অধ্যক্ষ ড. হিফজুর রহমান।
জামায়াতের নায়েবে আমীর ও সাবেক এমপি ডা: সৈয়দ আব্দুল্লাহ মো: তাহের বলেন, ডা: শফিকুর রহমান জাতির মুক্তি আন্দোলনের সেনাপতি। কুমিল্লার এই মাঠে মুহতারাম আমীরে জামায়াত প্রধান অতিথি, প্রধান বক্তা ও বিশেষ অতিথি। তিনি আসনে বসলে আমরা সবাই তাঁর কর্মী।তিনি বলেন, ভারত হামলা করলে দেশের জনগণ লাঠি, ইটপাটকেল সহ যার যা আছে তিনি আপনারা প্রতিরোধ গড়ে তুলবেন। তিনি বলেন, প্রয়োজনে সীমান্তে আমরা প্রাচীর তৈরী করবো যাতে ভারতে ঢুকতে না পারে।
তিনি মূখ্যমন্ত্রী মমতাকে উদ্দেশ্য করে বলেন, জাতিসঙ্ঘেরর শান্তিরক্ষী ভারতের প্রয়োজন, বাংলাদেশের প্রয়োজন নেই। কারণ ভারতে ধর্মীয় দাঙ্গা সংগঠিত হয়ে থাকে। তিনি বলেন, সাবধানে কথা বলবেন, নচেৎ পশ্চিমবঙ্গের ২৫% মুসলমান আপনাকে প্রত্যাক্ষাণ করবে। তিনি দেশের জনগণের উদ্দেশ্যে বলেন সৎ ও আল্লাহভীরু নেতৃত্বকে আপনারা ভোট দিয়ে ক্ষমতায় বসাবেন। তিনি কুমিল্লায় বিমানবন্দর পুনরায় চালু করতে আমীরে জামায়াত ডা: শফিকুর রহমানের কাছে দাবি জানান। কুমিল্লা নামে অল্প সময়ে কুমিল্লা বিভাগ ঘোষণা করার দাবি জানান।
সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল মাওলানা আবু তাহের মুহাম্মদ মাছুম বলেন, শেখ মুজিব ও তার কন্যা হাসিনা বাংলাদেশটাকে শেষ করে দিয়েছে। দেশটাকে ভারতের করদরাজ্যে পরিণত করেছে। শেখ মুজিবের চেরের খনিকে ডাকাতের খনিতে পরিণত করেছিলো মুজিব কন্যা হাসিনা।ছাত্র-জনতার আন্দোলনের মাধ্যমে ৫ আগস্ট দেশ দ্বিতীয়বারের মতো পরাধীনতা থেকে মুক্তি পেয়েছে। দেশ ও জনগণের কল্যাণে জামায়াত এদেশের মানুষের পাশে অতন্দ্রপ্রহরী হিসেবে সজাগ আছে।
সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল মাওলানা আবুল হাসানাত মো: আব্দুল হালিম বলেন, জুলুম নির্যাতনের পরেও কুমিল্লার এই সম্মেলন প্রমাণ করে জামায়াতের খুব বেশি ক্ষতি করতে পারেনি। ফ্যাসিস্ট হাসিনা পালিয়েছে কিন্তু তার মতো আর কোন ফ্যাসিস্ট যেন ক্ষমতায় না আসতে পারে। দেশের সার্বভৌমত্ব রক্ষায় ফ্যাসিস্টদল আওয়ামী লীগ ছাড়া আমরা সকল রাজনৈতিক দল এক ও অভিন্ন।জামায়াতের কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য মোবারক হোসাইন বলেন, জালিম শাসক দেশ থেকে পালিয়ে গিয়ে মাঝে মাঝে বার্তা দেয় টুস করে এসে যাবে। তিনি বলেন, স্বৈরাচারীকে ধরে এনে বিচারের মুখোমুখি করা দরকার।
এডভোকেট জসীম উদ্দিন সরকার বলেন, আওয়ামী লীগ জন্ম থেকে ফ্যাসিস্টদল। তারা চৌকস ৫৭ জন সেনা কর্মকর্তাকে হত্যা, হেফাজতে ইসলামের আলেমদের হত্যা এবং জামায়াতের কেন্দ্রীয় নেতৃবৃন্দকে ফাঁসির নামে হত্যা করেছে। জনরোষে পড়ে খুনি হাসিনা ভারতে পালিয়েছে। ভারত কখনোই বাংলাদেশের বন্ধু ছিলোনা তারা ফ্যাসিস্ট হাসিনার অপকর্মের সহযোগিতা করে বাংলাদেশের অনেক ক্ষতি করেছে।
দৈনিক ‘নাগরিক ভাবনা’র অনলাইন পোর্টালটি ঢাকা হতে শেখ রিফান আহমেদ-এর সম্পাদনায় পরিচালিত।
হটলাইন: 09649-230220 ও 01915-708187, ইমেইল: info.nagorikvabna@gmail.com
@নাগরিক ভাবনা কর্তৃক সর্বস্বত্ত্ব সংরক্ষিত