
প্রিন্ট এর তারিখঃ মে ১, ২০২৬, ৬:৪৪ পি.এম || প্রকাশের তারিখঃ অক্টোবর ৩০, ২০২৫, ২:২৯ পি.এম
যশোরের শিমুলিয়া ক্রিস্টিয়ান কবরস্থানে চলছে প্রস্তুতির ব্যস্ততা, স্মরণ ও প্রার্থনায় মুখর হবে এলাকা

আগামী ২ নভেম্বর বিশ্বব্যাপী খ্রিস্টান সমাজ পালন করবে ‘কবর প্রতিষ্ঠা দিবস’ বা ‘অল সোলস ডে’। এই দিনটি মৃত আত্মাদের স্মরণ, শ্রদ্ধা ও প্রার্থনার দিন হিসেবে খ্রিস্টীয় সমাজে বিশেষ মর্যাদাপূর্ণ। যশোরের শিমুলিয়া ক্রিস্টিয়ান কবরস্থানে ইতোমধ্যেই শুরু হয়েছে দিনটি ঘিরে নানা প্রস্তুতি ও আয়োজন। প্রিয়জন হারানোর বেদনা, স্মৃতির আবেগ এবং ধর্মীয় বিশ্বাস—সবকিছু মিলিয়ে এলাকাজুড়ে এখন এক শান্ত, পবিত্র পরিবেশ বিরাজ করছে।
শিমুলিয়া গির্জা ও সংলগ্ন কবরস্থান ঘিরে প্রতিদিনই ভোর থেকে বিকেল পর্যন্ত চলছে পরিস্কার-পরিচ্ছন্নতার কাজ। গির্জার তরুণ-তরুণীরা দল বেঁধে ঝোপঝাড় পরিষ্কার করছেন, কেউ রঙের কাজ করছেন, কেউবা কবরের চারপাশে ফুল লাগাচ্ছেন। আগামী ২ নভেম্বর সকাল থেকে এখানে শুরু হবে বিশেষ প্রার্থনা অনুষ্ঠান, যা পরিচালনা করবেন শিমুলিয়া গির্জার পাদরি জনাব পিটার গোমেজ। তিনি জানান, “এই দিনটি আমাদের আত্মার পরিশুদ্ধির দিন। আমরা প্রার্থনা করি যেন প্রয়াতদের আত্মা ঈশ্বরের শান্তি লাভ করে এবং জীবিতরা সেই ভালোবাসা ও ক্ষমার আলোয় আলোকিত হয়।”
গির্জা কর্তৃপক্ষ জানিয়েছেন, দিবসটি উপলক্ষে সকাল ৮টা থেকে বিশেষ ধর্মীয় প্রার্থনা, কবর পরিদর্শন, ফুল ও মোমবাতি নিবেদন এবং সন্ধ্যায় পবিত্র সংগীতানুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়েছে। শিশু ও তরুণ প্রজন্মকে এই ধর্মীয় ঐতিহ্যের সঙ্গে যুক্ত করতে গির্জার শিক্ষকদের পক্ষ থেকেও বিশেষ শিক্ষামূলক আলোচনা অনুষ্ঠিত হবে।
স্থানীয় বাসিন্দা রোজারিয়া বিশ্বাস বলেন, “প্রতিবছর আমরা এই দিনটির অপেক্ষায় থাকি। সকাল থেকে পরিবারের সবাই মিলে কবরস্থানে যাই, প্রয়াত বাবা-মাকে স্মরণ করি। মনে হয় তাঁরা আমাদের মাঝেই আছেন।” আরেক বাসিন্দা অ্যাঞ্জেলা মন্ডল বলেন, “মোমবাতির আলোয় কবরগুলো যখন জ্বলে ওঠে, তখন মনে হয় পুরো স্থানটা যেন স্বর্গীয় প্রশান্তিতে ভরে গেছে।”
শিমুলিয়া ক্রিস্টিয়ান কবরস্থানের ইতিহাসও বেশ পুরোনো। যশোরে ইউরোপীয় ধর্মপ্রচারকরা আসার পর থেকেই এখানে গড়ে ওঠে এই কবরস্থানটি। বহু প্রজন্ম ধরে এখানে শায়িত রয়েছেন খ্রিস্টীয় সম্প্রদায়ের ধর্মীয় নেতৃবৃন্দ, শিক্ষাবিদ, সমাজকর্মী ও সাধারণ মানুষ। তাই ২ নভেম্বরের এই দিনটি শুধু প্রার্থনার নয়, এটি এক প্রজন্ম থেকে আরেক প্রজন্মের ধর্মীয় ঐতিহ্য ও মানবতার বন্ধনকে পুনরুজ্জীবিত করার দিন।
দিনটিকে ঘিরে কবরস্থানের চারপাশে থাকবে নিরাপত্তা ও শৃঙ্খলা রক্ষার জন্য স্থানীয় প্রশাসনের তৎপরতা। এছাড়া খ্রিস্টান যুবসংঘ ও চার্চ কমিটির পক্ষ থেকেও স্বেচ্ছাসেবক দল নিয়োজিত থাকবে যাতে কেউ অসুবিধায় না পড়ে।
সূর্যাস্তের পর যখন শত শত মোমবাতির আলোয় আলোকিত হবে সমাধিক্ষেত্র, তখন শিমুলিয়া কবরস্থান যেন পরিণত হবে এক পবিত্র ও নীরব প্রার্থনার মন্দিরে। প্রিয়জন হারানোর বেদনা আর স্মৃতির মেলবন্ধনে মানুষ তখন প্রার্থনা করবে—
“প্রভু, তাঁদের আত্মাকে চিরশান্তিতে রাখুন।”
দৈনিক ‘নাগরিক ভাবনা’র অনলাইন পোর্টালটি ঢাকা হতে শেখ রিফান আহমেদ-এর সম্পাদনায় পরিচালিত।
হটলাইন: 09649-230220 ও 01915-708187, ইমেইল: info.nagorikvabna@gmail.com
@নাগরিক ভাবনা কর্তৃক সর্বস্বত্ত্ব সংরক্ষিত