
যশোরের আলোচিত উপজেলা শার্শা। সীমান্তের এই উপজেলাজুড়ে অপরাধীদের অভয়ারণ্য। হত্যা-খুন-মাদক-সোনা-অস্ত্র পাচারসহ সকল প্রকার অপরাধের পিটস্থান এই শার্শা উপজেলা। শার্শা উপজেলার শার্শা ও বেনাপোল থানা এলাকা হত্যা-খুন-মাদক-সোনা-অস্ত্র পাচার সিণ্ডিকেট এবং কিলাররা বেপরোয়া। বৃহস্পতিবার শার্শা থানার একটি মাদক পাচারের মামলায় তিনজনের যাবজ্জীবন কারাদণ্ডের রায় দিয়েছেন বিজ্ঞ আদালত।
আদালত সূত্রে জানা যায়, ফেনসিডিলের মামলায় শার্শার তিন মাদক ব্যবসায়ীকে যাবজ্জীবন সশ্রম কারাদণ্ড ও অর্থদণ্ডের আদেশ দিয়েছে যশোরের একটি আদালত। বৃহস্পতিবার বিশেষ দায়রা জজ ও বিশেষ জজ (জেলা ও দায়রা জজ) এসএম নূরুল ইসলাম এক রায়ে এ সাজা দিয়েছেন। বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন স্পেশাল পিপি অ্যাডভোকেট আমিনুর রহমান।
সাজাপ্রাপ্ত আসামিরা হলো, শার্শার শ্যামলাগাছি গ্রামের মতলেব হোসেনের ছেলে কামাল হোসেন, বেনাপোলের বুজতলা গ্রামের মৃত পাচু বেপারির ছেলে আজহার আলী ও ঝিকরগাছার উত্তর দেউলী গ্রামের মৃত চান মিয়ার ছেলে আমির হোসেন মেম্বর।
মামলার অভিযোগে জানা গেছে, ২০১৫ সালের ৭ ডিসেম্বর শার্শা থানা পুলিশের এসআই মুরাদ হোসেন একদল পুলিশ নিয়ে গাতিপাড়া দাখিল মাদ্রাসার পাশে অবস্থান নেন। এসময় পুলিশ দেখে তিনজন তিনটি প্লাস্টিকের বস্তা ফেলে পালিয়ে যায়। তাৎক্ষনিক সাক্ষীদের উপস্থিতিতে প্রত্যেক বস্তার ভিতর ১শ’ বোতল করে, মোট ৩শ’ বোতল ফেনসিডিল উদ্ধার করা হয়। এ ঘটনায় পলাতক আমীর হোসেন মেম্বর, কামাল হোসেন ও আজহারকে আসামি করে শার্শা থানায় মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে মামলা করেন এসআই মুরাদ হোসেন। এ মামলার তদন্ত শেষে ওই তিনজনকে অভিযুক্ত করে আদালতে চার্জশিট জমা দেন তদন্তকারী কর্মকর্তা এসআই বরকত হোসেন। দীর্ঘ সাক্ষ্য গ্রহণ শেষে আসামিদের বিরুদ্ধে অভিযোগ প্রমাণিত হওয়ায় বিচারক প্রত্যেককে যাবজ্জীবন সশ্রম কারাদণ্ড, ৫ হাজার টাকা করে জরিমানা অনাদায়ে আরও ৬ মাস করে সশ্রম কারাদণ্ডের আদেশ দিয়েছেন। কুখ্যাত কিলার ও মাদক সম্রাট কামাল হোসেন ও আমির হোসেন মেম্বারের উপস্থিতিতে বিচারক এ রায় ঘোষণা করেন। অপর আসামি আজহার পলাতক রয়েছে। সাজাপ্রাপ্ত আসামিরা শার্শার শ্যামলাগাছি গ্রামের মতলেব হোসেনের ছেলে কামাল হোসেন শুধু মাদক সম্রাট নয়, দুর্ধর্ষ কিলার। তার বিরুদ্ধে ৭টি হত্যা মামলা রয়েছে। শার্শা-বেনাপোলে কিলার কমাল নামে সে সমধিক পরিচিত। দুর্ধর্ষ কিলার-মাদক-সোনা-অস্ত্র ব্যবসায়ী কামাল হোসেনের যাবজ্জীবন সাজার খবরে এলাকার মানুষের মাঝে স্বস্তি ফিরে আসতে শুরু করেছে। ইতোপূর্বে এই কামাল হোসেনের অপরাধ কর্মকাণ্ড নিয়ে স্থানীয় বিভিন্ন পত্র-পত্রিকায় ধারাবাহিক প্রতিবেদন প্রকাশ হয়। অবশ্য কামাল হোসেনের কিলার ও মাদক সম্রাট হওয়ার পেছনে রয়েছে তার শালা এবং স্ত্রীর প্রকাশ্য সমর্থন। তবে এলাকাবাসির দাবি দুর্ধর্ষ কিলার-মাদক-সোনা-অস্ত্র ব্যবসায়ী কামাল হোসেনকে ধারাবাহিক ৭ টি হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় ফাঁসির আদেশ দেয়া হোক।
দৈনিক ‘নাগরিক ভাবনা’র অনলাইন পোর্টালটি ঢাকা হতে শেখ রিফান আহমেদ-এর সম্পাদনায় পরিচালিত।
হটলাইন: 09649-230220 ও 01915-708187, ইমেইল: info.nagorikvabna@gmail.com
@নাগরিক ভাবনা কর্তৃক সর্বস্বত্ত্ব সংরক্ষিত