

ব্রাহ্মণবাড়িয়ার নবীনগর উপজেলার জিনদপুর ইউনিয়নের কড়ইবাড়ি গ্রামের হতদরিদ্র পিতা অবনি দেবনাথের একমাত্র কন্যাকে স্বামীর পরকিয়াতে বাঁধা দেওয়ায় তারই স্বামী ঝন্টু দেবনাথ ও তার পরিবারের সদস্যরা সুকৌশলে খুন করে সেটাকে আত্মহত্যা বলে চালিয়ে দিয়েছে বলে দাবি করেছেন নিহতের বড় ভাই পিন্টু দেবনাথ। পাশ্ববর্তী মুরাদনগর উপজেলার হাটাশ গ্রামে গত ১৮ই ফেব্রুয়ারি আনুমানিক বিকাল তিনটার দিকে ঘটনাটি ঘটেছে।
হত্যার শিকার ডলি রানী দেবীর পরিবার সুত্রে জানা গেছে, ২০১৭ সালে ডলি রানী দেবীর সাথে মুরাদনগর উপজেলার হাটাশ গ্রামের দুলাল দেবনাথ এর পুত্র ঝন্টুর সাথে পারিবারিক ভাবে বিবাহ হয়।
বিয়ের পর থেকেই ঝন্টু ও তার পরিবারের সদস্যরা নানা ভাবে ডলিকে শারীরিক ও মানসিক নির্যাতন করতো। ঝন্টুরা আর্থিক সচ্ছলতার কারণে ডলি ও তার পরিবারের সদস্যদের তুচ্ছতাচ্ছিল্য করতো। এরই মধ্যে একদিন ঝন্টুর মোবাইলে অন্য নারীর সাথে তার পরকিয়ার বেশ কিছু অশ্লীলতার কিছু ছবি ডলির নজরে আসে, সেটি তার পরিবারকে জানিয়ে চরম বিপদ ডেকে আনেন নিজের। এরপর থেকেই অত্যাচারের মাত্রা আরো বেড়ে যায় ডলির উপর।
সরেজমিনে গিয়ে জানা গেছে, বিয়ের পর থেকেই ডলির সাথে বনিবনা হচ্ছিল না ঝন্টুর। প্রায়ই তাদের মধ্যে অশান্তি লেগে থাকতো। তাদের আচরণে ডলি দেবী অসন্তোষ দেখলে তারা তাকে বলতো মন চাইলে নির্যাতন সহ্য করেই সংসার করবি, নয়তো গিয়ে আত্মহত্যা করবি।
স্থানীয় লোকজনের সঙ্গে কথা বললে তারা জানান, ডলি তার নিজের সয়ন কক্ষের জানালার গ্রিলের সঙ্গে ওড়না পেঁচিয়ে ফাঁসি দিয়ে আত্মহত্যা করেন, তারা ডলিকে বাঁচানোর জন্য তাড়াতাড়ি ওড়না খুলে বাড়ির উঠানে এনে শোয়ায় অথচ জানালার গ্রিল মেজে থেকে তিন ফুট উঁচু। তাহলে পাঁচ ফুট এর অধিক উচ্চতার একজন মানুষ কি করে সেখানে ফাঁসি আটকায় এমন প্রশ্ন করলে তারা চুপচাপ থেকে বিষয়টি এড়িয়ে যেতে থাকেন। অনুসন্ধ্যানে বেরিয়ে আসে ঝন্টুর আরেক ছোট ভাই প্রতিবেশী এক মেয়েকে ধর্ষণ করায় মামলা চলমান রয়েছে, সেও নিজে পুলিশ ম্যানেজ করে মামলা চলমান থাকার পরও পুলিশ ক্লিয়ারেন্স নিয়ে প্রবাসে পালিয়ে যায়।
সার্বিক পরিস্থিতি বিবেচনা করলে দেখা যায় এটি একটি পরিকল্পিত হত্যাকাণ্ড। পুলিশ গিয়ে নিহতের লাশ উঠান থেকে উদ্ধার করে নিয়ে আসেন। ঘটনাস্থল থেকে শুধু নিহত ডলির স্বামী ঝন্টু দেবনাথকে আটক করে নিয়ে আসলেও ঘটনার আলামত নষ্ট করার অভিযোগে আর কাউকে আটক না করায় পুলিশের ভূমিকা নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে। এদিকে ঘর তালাবদ্ধ করে এখন পরিবারের সবাই পলাতক রয়েছে।
গভীর রাত পর্যন্ত এই ঘটনায় মামলা হবে কিনা সেটি নিয়ে বাদীর সাথে যাওয়া তার এলাকার স্থানীয় জনপ্রতিনিধিদের সঙ্গে দেনদরবার করে শেষ পর্যন্ত বাঙ্গরা বাজার থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মাহফুজুর রহমান মামলা নিলেও আসামি বাদ দিতে হয়।
পরবর্তীতে এই বিষয়গুলো নিয়ে মিডিয়ার সামনে অডিও বা ভিডিওতে কথা বলতে অপারগতা প্রকাশ করেন বাজার থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মাহফুজুর রহমান।
পুলিশের রহস্যময় আচরণে ন্যায় বিচার পাওয়া নিয়ে শংকিত ডলির পরিবার। তারা আসামীদের গ্রেফতার ও ময়নাতদন্তের রিপোর্টে যেন কোন কারসাজি না হয় সেজন্য উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের সুদৃষ্টি কামনা করে সরকারের কাছে ডলি হত্যার সঠিক বিচারের দাবী জানান।
দৈনিক ‘নাগরিক ভাবনা’র অনলাইন পোর্টালটি ঢাকা হতে শেখ রিফান আহমেদ-এর সম্পাদনায় পরিচালিত।
হটলাইন: 09649-230220 ও 01915-708187, ইমেইল: info.nagorikvabna@gmail.com
@নাগরিক ভাবনা কর্তৃক সর্বস্বত্ত্ব সংরক্ষিত