প্রিন্ট এর তারিখঃ এপ্রিল ২১, ২০২৬, ৯:২৮ পি.এম || প্রকাশের তারিখঃ এপ্রিল ২১, ২০২৬, ৫:৫৪ পি.এম
![]()
মোঃ আরিফুর রহমান: সম্প্রতি জ্বালানি তেলের দাম বৃদ্ধি, পরিবহন ব্যয় বেড়ে যাওয়া এবং সরবরাহ ঘাটতির কারণে দেশের বাজারে নিত্যপণ্যের দাম বেড়েই চলেছে। এর সবচেয়ে বড় প্রভাব পড়েছে সবজির বাজারে। রাজধানীর বিভিন্ন বাজারে এখন প্রায় সব ধরনের সবজিই ৮০ থেকে ১২০ টাকার মধ্যে বিক্রি হচ্ছে, যা স্বল্প আয়ের মানুষের জন্য বড় চাপ হয়ে দাঁড়িয়েছে।
বাজার ঘুরে দেখা গেছে, আলু, পেঁপে ও গাজর ছাড়া প্রায় সব সবজির দামই কেজিতে ৮০ টাকার ওপরে। গ্রীষ্মকালীন সবজি যেমন বেগুন, পটোল, ঢ্যাঁড়স বিক্রি হচ্ছে ৮০ থেকে ১০০ টাকা দরে। বরবটি, ঝিঙে, চিচিঙ্গা, শিম, শজনে ডাঁটা ১০০ থেকে ১২০ টাকা এবং কাঁকরোল, করলা বিক্রি হচ্ছে ১২০ থেকে ১৪০ টাকা কেজি দরে।
অন্যদিকে তুলনামূলক কম দামে পাওয়া যাচ্ছে আলু (২৫ টাকা), পেঁপে ও গাজর (৪০-৫০ টাকা)। শসা ৬০ থেকে ৮০ টাকা এবং টমেটো ৫০ থেকে ৬০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। কাঁচা মরিচ ৮০ থেকে ১০০ টাকা এবং পেঁয়াজ ৩০ থেকে ৩৫ টাকা কেজি দরে পাওয়া যাচ্ছে।
বাজারে এমন পরিস্থিতিতে চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন স্বল্প ও মধ্যম আয়ের মানুষ। রাজধানীর হাতিরপুল বাজারের এক ক্রেতা ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, “মাত্র তিন-চারটি সবজি কিনতেই ৩০০ টাকার বেশি খরচ হয়ে গেছে। এভাবে চললে সবজি খাওয়াও কঠিন হয়ে যাবে।”
আরেক বেসরকারি চাকরিজীবী নাজনিন ডালিয়া বলেন, “বেতন বাড়ে না, কিন্তু বাজারের খরচ প্রতিদিন বাড়ছে। আগে যেসব সবজি ৪০-৫০ টাকায় কিনতাম, এখন সেগুলো ১০০ টাকার কাছাকাছি।”
বিক্রেতারা বলছেন, জ্বালানি তেলের মূল্যবৃদ্ধির কারণে পরিবহন খরচ বেড়ে গেছে। পাশাপাশি সাম্প্রতিক বৃষ্টির কারণে সরবরাহ কমে যাওয়ায় দাম আরও বেড়েছে। হাতিরপুল বাজারের বিক্রেতা আব্দুল আলী জানান, “আগের মতো সবজি বাজারে আসে না। চাহিদার তুলনায় সরবরাহ কম থাকায় দাম বেড়েছে।”
আরেক বিক্রেতা মিলন মিয়া বলেন, “আমরাও বেশি দামে কিনে কম দামে বিক্রি করতে পারি না। এতে বিক্রি কমে গেছে, লাভও কম হচ্ছে।”
এদিকে সবজির দামের ঊর্ধ্বগতির সঙ্গে যুক্ত হয়েছে সয়াবিন তেলের সংকট। বাজারে এখনো পর্যাপ্ত সরবরাহ না থাকায় ক্রেতাদের ভোগান্তি বেড়েছে। অনেক দোকানেই তেল পাওয়া যাচ্ছে না, ফলে অনেকেই বিকল্প হিসেবে সরিষার তেল কিনছেন।
এর আগে বাণিজ্য মন্ত্রণালয় ব্যবসায়ীদের সঙ্গে বৈঠকে সয়াবিন তেলের দাম বাড়ানোর প্রস্তাব নাকচ করে সরবরাহ বাড়ানোর নির্দেশ দিলেও এখনো বাজারে তার প্রভাব দেখা যায়নি।
অন্যদিকে মাংস ও মাছের বাজারেও স্বস্তি নেই। গরুর মাংস এখনো ৮০০ থেকে ৮৫০ টাকা এবং খাসির মাংস ১,২৫০ থেকে ১,৩০০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। মাছের বাজারেও সরবরাহ ঘাটতির কারণে দাম বেড়েছে। বড় তেলাপিয়া ২৮০ থেকে ৩০০ টাকা, রুই ৪০০ থেকে ৪৫০ টাকা এবং কই মাছ ২০০ থেকে ২২০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে।
তবে কিছুটা স্বস্তি রয়েছে মুরগির বাজারে। ব্রয়লার মুরগি ১৮০ থেকে ১৯০ টাকা এবং সোনালি মুরগি ৩৮০ থেকে ৪০০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। ডিমের দাম প্রতি ডজন ১১৫ থেকে ১২০ টাকার মধ্যে রয়েছে।
সার্বিকভাবে জ্বালানি সংকট ও সরবরাহ ব্যবস্থার দুর্বলতার কারণে নিত্যপণ্যের বাজারে অস্থিরতা বিরাজ করছে, যা সাধারণ মানুষের জীবনে বাড়তি চাপ তৈরি করছে।