
প্রিন্ট এর তারিখঃ মে ৪, ২০২৬, ২:৩০ এ.এম || প্রকাশের তারিখঃ জুলাই ৩১, ২০২৫, ৪:১৯ পি.এম
রাজবাড়ীর রাখালগাছি ও বেতকা চরবাসীর সকল নাগরিক সেবা থেকে বঞ্চিত
![]()
রাজবাড়ীর গোয়ালন্দ উপজেলার পদ্মার বুকে জেগে ওঠা চর নাম তার রাখালগাছি বেতকা। এ চরবাসী নানা নাগরিক সুবিধা থেকে বঞ্চিত।
বৃহস্পতিবার ৩১ জুলাই সকালে সরজমিনে ঘুরে জানাযায়, বছরের পর বছর নানা দুর্ভোগ নিয়ে জীবন চলছে গোয়ালন্দ উপজেলার দেবগ্রাম ইউনিয়নের ১ নং ওয়ার্ডের রাখালগাছি ও বেতকা চরবাসীর। চরের একমাত্র ইটের সড়কটি জরাজীর্ণ অবস্থা। চিকিৎসার জন্য নেই কোন সরকারি কমিউনিটি ক্লিনিক। নেই কোন পোস্ট অফিস, নেই ভূমি অফিস, নেই পুলিশ ক্যাম, নেই সরকারী কোন ব্যাংক, নিজস্ব জায়গার উপর আছে ছোট্ট একটি কবরস্থান বর্তমানে কবরস্থানের জায়গা বাড়ানো প্রয়োজন। আছে একটি প্রাইমারি স্কুল যেখানে শিক্ষক স্বল্পতা।
তা ছাড়া সরকারিভাবে যত ধরনের নাগরিক সুবিধা পাওয়ার কথা, তার প্রায় কিছুই পান না এই এলাকার বাসিন্দারা। এই ওয়ার্ডের বাসিন্দারা নাগরিক সুবিধা ইউনিয়ন পরিষদের পেতে গেলে যেতে তাদের একদিন সময় লাগে। রাখালগাছি চড় থেকে ট্রলার যোগে অন্তর মোড় নামতে হয়। রিক্সা অটো ভ্যানে প্রায় ১০০ টাকা খরচ করে পরিষদে আসতে হয়।
এছাড়া প্রশাসনের নজরদারীর অভাবে চড়ে সন্ত্রাসের আনাগোনা বেড়েছে, বেরেছে মাদকের চোরা চালান বাল্যবিবাহ, বিভিন্ন অপরাধমূলক কাজ।
এ চরবাসীর একমাত্র পেশা কৃষি ও মৎস্য শিকার। এই এলাকায় শিক্ষিতর হার খুবই কম।
চরবাসীর দাবি, তারা বড় কোনো কর্মকর্তার মুখ দেখেন না কোনদিন। ছোট কর্মকর্তারাও ঠিকঠাকমতো আসে না।।
আক্ষেপ করে আমজাদ মাঝি (৬০) জানান, শুনেছি সরকার কিছু বরাদ্দ দেয়। কিন্তু এই চর এলাকার মানুষ কিছুই পায় না। সব থেকে যায় নদীর ওপারে। কোন সেবাই হয় না আমাদেরই চরে।পাঁচ হাজার মানুষের ভোগান্তি পর্দারই চরে।
এলাকার যুবক রফিক জানান, আমাদের এলাকায় একজন গুরুতর অসুস্থ হয়ে পড়লে সবাই মিলে টাকা তুলে ট্রলার ভাড়া করে রাজবাড়ী সদর হাসপাতালে নিয়ে যেতে হয়। সদর হাসপাতালে নিতে মিনিমাম পাঁচ ঘন্টা সময় ব্যয় হয়। এরই মধ্যে রোগীর বাঁচা মরার অবস্থা হয়।
শিক্ষার্থীর সুমাইয়া যেন, আমি উচ্চমাধ্যমিকে পড়ালেখা করি। আমাদের এখান থেকে শহরে যে পড়ালেখা করতে হয়। চলার জন্য অপেক্ষা করে বসে থাকতে হয়। সঠিক সময়ে স্কুলে যাওয়া প্রাইভেট পড়া কিছুই করতে পারিনা। পড়ালেখা কষ্ট জমে আছে হৃদয়।
দেবগ্রাম ইউনিয়ন পরিষদের সদ্য সাবেক চেয়ারম্যান হাফিজুল ইসলাম জানান, আমাদের এই চরের মানুষের অনেক দুর্ভোগ। ওখানে একটি ক্লিনিক স্থাপনের এই উদ্যোগ নেয়া হয়েছিল। যা বাস্তবায়ন এখনো হয়নি। তা ছাড়া যোগাযোগ ব্যবস্থার জন্য রাস্তাঘাট ভালো না। ট্রলার ছাড়া তারা শহরে আসতে পারে না। পরিষদে আসতে পারে না। আমরাও যোগাযোগ তেমন করতে পারি না। তাদের কৃষি পণ্য বাজারে নিয়ে আনা খুবই মুশকিল। সরকারের পক্ষ থেকে তাদের জন্য বড় প্রকল্প বাস্তবায়ন করা প্রয়োজন।
দৈনিক ‘নাগরিক ভাবনা’র অনলাইন পোর্টালটি ঢাকা হতে শেখ রিফান আহমেদ-এর সম্পাদনায় পরিচালিত।
হটলাইন: 09649-230220 ও 01915-708187, ইমেইল: info.nagorikvabna@gmail.com
@নাগরিক ভাবনা কর্তৃক সর্বস্বত্ত্ব সংরক্ষিত