
প্রিন্ট এর তারিখঃ এপ্রিল ২৮, ২০২৬, ১২:২৬ পি.এম || প্রকাশের তারিখঃ ফেব্রুয়ারী ১৭, ২০২৬, ৫:৩০ পি.এম
রাজবাড়ীর ৫ উপজেলায় ৭০ শতাংশ শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে নেই শহীদ মিনার
![]()
রাজু আহমেদ, রাজবাড়ী: ভাষা আন্দোলনের স্মৃতিস্তম্ভ শহীদ মিনার। কিন্তু রাজবাড়ীর ৭০ শতাংশ শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে নেই শ্রদ্ধা জানানোর সেই শহীদ মিনার। ফলে বাস্তবমুখী শিক্ষা থেকে বঞ্চিত হচ্ছে শিক্ষার্থীরা।
শিক্ষার্থীরা বলছে, ২১ ফেব্রুয়ারি আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবসসহ অন্য জাতীয় দিবসে দূরে গিয়ে শহীদদের শ্রদ্ধা জানাতে হয়। ইচ্ছা থাকলেও প্রতিবন্ধীসহ অনেক শিক্ষার্থী যেতে পারে না। ফলে নিজ নিজ প্রতিষ্ঠানে শহীদ মিনার নির্মাণের দাবি শিক্ষার্থীদের।
সুধিজনদের দাবি, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে শহীদ মিনার থাকলে ছেলে-মেয়েরা ভাষা আন্দোলনের ইতিহাস সর্ম্পকে যেমন জানতো, তেমনি বাস্তবধর্মী শিক্ষা পেতো। শহীদদের প্রতি বেড়ে যেতো তাদের শ্রদ্ধা ও ভক্তি। ফলে প্রতিটি বিদ্যালয়ে শহীদ মিনার থাকা জরুরি।
শিক্ষকরা বলেন, শিক্ষার জন্য বিদ্যালয়ে শহীদ মিনার খুবই প্রয়োজন। কিন্তু এখন পর্যন্ত বিদ্যালয়ে শহীদ মিনার নির্মিত হয়নি। তবে ব্যক্তিগতভাবে নির্মাণের চেষ্টা চলছে।
শিক্ষা কর্মকর্তারা বলছেন, যে সব বিদ্যালয়ে শহীদ মিনার নাই, পরিদর্শনের সময় সে সব বিদ্যালয়ে শহীদ মিনার নির্মাণের জন্য বলা হয়। শহীদ মিনার থাকলে বিদ্যালয়টি পূর্ণাঙ্গ রূপ পায়।
খোঁজ নিয়ে জানা যায়, রাজবাড়ীর প্রাথমিক, মাধ্যমিক, কলেজ, মাদরাসা ও কারিগরি প্রতিষ্ঠান মিলে ৭৩৮টি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান আছে। এরমধ্যে মাধ্যমিক, কলেজ, মাদরাসা ও কারিগরির ২৫৭ প্রতিষ্ঠানে মধ্যে শহীদ মিনার আছে ৯৪ টিতে। আর প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ৪৮১টির মধ্যে শহীদ মিনার আছে মাত্র ১৪৬ টিতে। ফলে এসব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে অস্থায়ীভাবে শহীদ মিনার নির্মাণ অথবা অন্য কোনো প্রতিষ্ঠানের শহীদ মিনারে গিয়ে শিক্ষক-শিক্ষার্থীরা বিভিন্ন জাতীয় দিবস পালন করে।
খানখানাপুর নতুন বাজার সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা জানায়, ভাষা শহীদদের সম্পর্কে তারা বইয়ের মাধ্যমে জেনেছে। ওই শহীদদের জন্যই বাংলা ভাষা পাওয়া। সেই ভাষায় সুন্দরভাবে কথা বলছে সবাই। দেশকে উন্নত করতে হলে আগে ভাষাকে উন্নত করতে হবে। নিজেদের বিদ্যালয়ে শহীদ মিনার থাকলে শ্রদ্ধা জানানোর পাশাপাশি আরও অনেক কিছু শিখা যেতো। শ্রদ্ধা জানাতে দুরে যেতে হতো না।
শিক্ষকবৃন্দরা বলেন, শিক্ষার জন্য বিদ্যালয়ে শহীদ মিনার প্রয়োজন। আমার বিদ্যালয়ে শহীদ মিনার না থাকা অত্যন্ত দুঃখজনক। তবে ব্যক্তিগতভাবে শহীদ মিনার নির্মাণের চেষ্টা করছি। এখন জেলার কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে গিয়ে শহীদদের শ্রদ্ধা জানানো হয়।
রাজবাড়ী জেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার তবিবুর রহমান বলেন, যে সব বিদ্যালয়ে শহীদ মিনার নাই, পরিদর্শনে সময় নির্মাণের নির্দেশ দেওয়া হয়। শহীদ মিনার থাকলে বিদ্যালয়টি পূর্ণাঙ্গ রূপ পায়।
দৈনিক ‘নাগরিক ভাবনা’র অনলাইন পোর্টালটি ঢাকা হতে শেখ রিফান আহমেদ-এর সম্পাদনায় পরিচালিত।
হটলাইন: 09649-230220 ও 01915-708187, ইমেইল: info.nagorikvabna@gmail.com
@নাগরিক ভাবনা কর্তৃক সর্বস্বত্ত্ব সংরক্ষিত