

এম জাহিদ, বাগেরহাট সদর প্রতিনিধি
বাগেরহাটের রামপাল উপজেলার লবণাক্ত জমিতে সৌদি খেজুর চাষ করে নজির গড়েছেন এডভোকেট জাকির হোসেন। ইউটিউব দেখে শুরু করা এক শখের খেজুর চাষ এখন তাকে পরিণত করেছে একজন সফল কৃষি উদ্যোক্তায়।
২০১৯ সালে রামপাল উপজেলার সন্ন্যাসীর হাজীপাড়া এলাকায় নিজের মৎস্যঘেরের পাড়জুড়ে ৩০ বিঘা জমিতে ‘রামপাল সৌদি খেজুর বাগান’ নামে যাত্রা শুরু করেন তিনি। শুরুতে লোকজন কটাক্ষ করলেও আজ তার বাগানে ঝুলছে আজওয়া, মরিয়ম, সুকারি, আম্বার, বারিহি—এই পাঁচটি সৌদি প্রজাতির খেজুর। বর্তমানে বাগানে প্রায় ৪০০টি খেজুরগাছ, যার মধ্যে ৮০টি গাছে ফল ধরেছে।
খেজুর চাষে সফল এই উদ্যোক্তা জানান,
“শুরুর দিকে অনেকে বলেছিল লবণাক্ত মাটিতে খেজুর বাঁচবে না। কিন্তু আমি চেষ্টা করে গেছি। ময়মনসিংহের ভালুকা থেকে প্রথম ৬০টি চারা এনে লাগাই। এখন প্রতি বছর ফলন বাড়ছে।”
তিনি জানান, খেজুরগাছের পরিচর্যা খুব বেশি জটিল নয়—জৈব সার, মাসে একবার স্প্রে, আগাছা পরিষ্কার আর সঠিক সময়ে সুরক্ষা দিলেই ফলন ভালো হয়। তবে পোকামাকড়, বিশেষ করে ‘গন্ডার পোকা’ ও ‘কটা পোকা’ গাছের বড় শত্রু। খেজুরের পাকা গন্ধে পাখি এসে ফল নষ্ট করে, তাই বৃষ্টির সময় পেপার দিয়ে ঢেকে রাখতে হয়।
খামারের দেখাশোনা করেন রেজাউল তরফদার। তিনি জানান,
“পোকা-মাকড় ও পাখির আক্রমণ ছাড়া গাছগুলো ভালোই বেড়ে উঠছে। গাছের গোড়ায় আগাছা পরিষ্কার, নিয়মিত স্প্রে আর পাখির হাত থেকে বাঁচানোই মূল চ্যালেঞ্জ।”
স্থানীয় বাসিন্দা সুমন তরফদার বলেন,
“জাকির ভাই আমাদের অনুপ্রেরণা। মরুভূমির খেজুর আমাদের মাটিতে চাষ হচ্ছে দেখে আমরা সত্যিই গর্বিত।”
আরেক দর্শনার্থী বাদশা মিয়া, যিনি যাত্রাপুর থেকে নার্সারি দেখতে এসেছিলেন, বলেন,
“এমন ফলন দেখে আমি অভিভূত। এখন ভাবছি নিজের জমিতেও এমন কিছু করবো।”
জাকির হোসেন বলেন,
“ভবিষ্যতে বাণিজ্যিকভাবে চারা ও খেজুর বিক্রির পরিকল্পনা রয়েছে। তবে যারা নতুন শুরু করবেন, তাদের কলমজাত (অপ-শুট) চারা কেনার পরামর্শ দিচ্ছি, কারণ বীজজাত গাছে বেশিরভাগ সময় ফল হয় না।”
বর্তমানে তার খামারে তিনজন কর্মচারী স্থায়ীভাবে কাজ করছেন। ভবিষ্যতে কর্মসংস্থানের সুযোগ আরও বাড়বে বলে আশাবাদ ব্যক্ত করেন তিনি।
বাগেরহাট কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক মো. মোতাহার হোসেন বলেন,
“সৌদি খেজুর মরুভূমির ফসল হলেও জাকির হোসেন প্রমাণ করেছেন যে লবণাক্ত মাটিতেও সফলভাবে চাষ করা সম্ভব। তার এই প্রয়াস উপকূলীয় অঞ্চলে নতুন সম্ভাবনার দুয়ার খুলে দিয়েছে।”
তিনি আরও জানান,
“আমরা তার খামারে গিয়ে পরিদর্শন করেছি এবং কৃষি বিভাগের পক্ষ থেকে প্রয়োজনীয় কারিগরি সহায়তা দেওয়া হচ্ছে।”
দৈনিক ‘নাগরিক ভাবনা’র অনলাইন পোর্টালটি ঢাকা হতে শেখ রিফান আহমেদ-এর সম্পাদনায় পরিচালিত।
হটলাইন: 09649-230220 ও 01915-708187, ইমেইল: info.nagorikvabna@gmail.com
@নাগরিক ভাবনা কর্তৃক সর্বস্বত্ত্ব সংরক্ষিত