অপু দাস, স্টাফ রিপোর্টার, রাজশাহী: রাজশাহী সিটি করপোরেশন (রাসিক)–এ প্রশাসক নিয়োগকে কেন্দ্র করে রাজশাহীর রাজনৈতিক অঙ্গনে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে। সম্ভাব্য প্রার্থীদের নাম ঘিরে দলীয় পর্যায় থেকে শুরু করে সাধারণ নাগরিকদের মধ্যেও চলছে নানা হিসাব–নিকাশ। একাধিক অভিজ্ঞ নেতার নাম সামনে এলেও তৃণমূলের একটি বড় অংশ ও নগরবাসীর অনেকেই তরুণ নেতৃত্বের পক্ষে মত দিচ্ছেন।
নগরের ৩০টি ওয়ার্ডের বিভিন্ন শ্রেণি–পেশার মানুষের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, বর্তমান সময়ে নগর ব্যবস্থাপনা শুধু অবকাঠামো উন্নয়নেই সীমাবদ্ধ নয়; এর সঙ্গে যুক্ত হয়েছে প্রযুক্তিনির্ভর সেবা, অনলাইন কার্যক্রম, দ্রুত অভিযোগ নিষ্পত্তি ও স্বচ্ছতা নিশ্চিতের বিষয়গুলো। অনেকেই মনে করছেন, এসব চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় উদ্যমী ও প্রযুক্তিবান্ধব নেতৃত্ব প্রয়োজন। এই প্রেক্ষাপটে মহানগর বিএনপির সাধারণ সম্পাদক মাহফুজুর রহমান রিটনের নাম বেশি করে আলোচনায় আসছে।
দলীয় নেতাকর্মীদের ভাষ্য, ছাত্ররাজনীতি থেকে শুরু করে মহানগর ও কেন্দ্রীয় পর্যায়ে দীর্ঘ সাংগঠনিক অভিজ্ঞতা রয়েছে রিটনের। ছাত্রদল, মহানগর যুবদল এবং পরে কেন্দ্রীয় যুবদলের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ পদে দায়িত্ব পালনের অভিজ্ঞতা তাকে নেতৃত্বের দিক থেকে পরিণত করেছে বলে তাদের মত। বর্তমানে মহানগর বিএনপির সাধারণ সম্পাদক হিসেবে দায়িত্ব পালন করায় তৃণমূলের সঙ্গে তার ঘনিষ্ঠ যোগাযোগ রয়েছে, যা প্রশাসনিক দায়িত্ব পালনে সহায়ক হতে পারে।
অন্যদিকে, সাবেক মেয়র ও বিএনপির কেন্দ্রীয় নেতা মোহাম্মদ মোসাদ্দেক হোসেন বুলবুলের নামও আলোচনায় রয়েছে। ২০১৩ সালে মেয়র নির্বাচিত হয়ে দায়িত্ব পালন করলেও বিভিন্ন প্রশাসনিক ও আইনি জটিলতায় পূর্ণ মেয়াদ শেষ করতে পারেননি। তাঁর সমর্থকদের দাবি, প্রশাসক হিসেবে দায়িত্ব পেলে তিনি পূর্বের অভিজ্ঞতা কাজে লাগিয়ে অসমাপ্ত উন্নয়ন কার্যক্রম এগিয়ে নিতে পারবেন।
মহানগর বিএনপির সভাপতি মামুন অর রশিদও সম্ভাব্য প্রার্থীদের তালিকায় রয়েছেন। তিনি জানিয়েছেন, দল সিদ্ধান্ত নিলে দায়িত্ব পালনে প্রস্তুত আছেন। দীর্ঘ রাজনৈতিক অভিজ্ঞতা ও সংগঠন পরিচালনায় দক্ষতা তাকে প্রশাসক পদে যোগ্য প্রার্থী হিসেবে উপস্থাপন করে—এমন মত রয়েছে দলের একটি অংশের মধ্যে।
সহসভাপতি ওয়ালিউল হক রানার নামও আলোচনায় এসেছে। কেন্দ্রীয় নেতাদের সঙ্গে যোগাযোগ রেখে তিনি প্রশাসক বা মেয়র—উভয় ক্ষেত্রেই দায়িত্ব পালনের আগ্রহ প্রকাশ করেছেন বলে জানা গেছে। এছাড়া আবুল কালাম আজাদও প্রশাসক পদে দায়িত্ব পেলে নগর উন্নয়নে কাজ করার প্রত্যাশা ব্যক্ত করেছেন। তিনি মনে করেন, অতীতে দায়িত্ব পালন করতে না পারা সাবেক মেয়রকে সুযোগ দিলে সেটি রাজনৈতিকভাবে ইতিবাচক বার্তা বহন করতে পারে।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, দেশের কয়েকটি সিটি করপোরেশনে প্রশাসক নিয়োগে রাজনৈতিক সমীকরণ গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে। রাসিকের ক্ষেত্রেও সেই প্রভাব পড়তে পারে। তবে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত সরকারের ওপর নির্ভরশীল। প্রশাসক নিয়োগ হলে তা কেবল প্রশাসনিক পরিবর্তন নয়, বরং স্থানীয় রাজনীতির গতিপথেও প্রভাব ফেলতে পারে।
নগরবাসীর প্রত্যাশা—প্রশাসক যিনিই হন না কেন, তিনি যেন সড়ক–ড্রেনেজ সংস্কার, পরিচ্ছন্নতা, জলাবদ্ধতা নিরসন, স্বাস্থ্যসম্মত বর্জ্য ব্যবস্থাপনা ও নাগরিক সেবা সহজীকরণে কার্যকর উদ্যোগ নেন। অনেকেই মনে করেন, আধুনিক ও বাসযোগ্য নগর গড়তে প্রয়োজন দক্ষ, স্বচ্ছ ও জবাবদিহিমূলক প্রশাসন।
সব মিলিয়ে রাসিক প্রশাসক নিয়োগকে ঘিরে রাজশাহীতে রাজনৈতিক তৎপরতা বাড়ছে। তরুণ নেতৃত্বের প্রতি জনসমর্থন যেমন দৃশ্যমান, তেমনি অভিজ্ঞ নেতৃত্বের পক্ষেও রয়েছে শক্ত অবস্থান। এখন অপেক্ষা চূড়ান্ত সিদ্ধান্তের—যা রাজশাহীর প্রশাসনিক ও রাজনৈতিক অঙ্গনে নতুন দিকনির্দেশনা দিতে পারে।