প্রিন্ট এর তারিখঃ এপ্রিল ২৯, ২০২৬, ১:০৮ পি.এম || প্রকাশের তারিখঃ ফেব্রুয়ারী ৯, ২০২৬, ৫:৩৮ পি.এম
![]()
অপু দাস, স্টাফ রিপোর্টার, রাজশাহী: রাজশাহী মহানগরের রেলগেট থেকে কাশিয়াডাংগা পর্যন্ত রেললাইনের দুই পাশে অবৈধ দখল আশঙ্কাজনক হারে বেড়ে চলেছে। রেললাইনের আশপাশে গড়ে ওঠা দোকানপাট, অস্থায়ী স্থাপনা ও বিভিন্ন ধরনের অবৈধ নির্মাণের কারণে রেলপথ এলাকার স্বাভাবিক নিরাপত্তা ব্যবস্থা কার্যত ভেঙে পড়ছে। স্থানীয়দের ভাষ্য অনুযায়ী, এসব দখলদারির কারণে রেলক্রসিং ও সংলগ্ন এলাকাগুলোতে দুর্ঘটনার ঝুঁকি ভয়াবহভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে।
স্থানীয়রা বলছেন, রেললাইনের পাশে গড়ে ওঠা দোকান ও স্থাপনার কারণে যানবাহন চালকদের দৃষ্টিসীমা কমে যাচ্ছে। ফলে ট্রেন আসার সময় অনেক চালকই আগেভাগে সতর্ক হতে পারছেন না। এতে করে রেলক্রসিংয়ে কিংবা রেললাইনের আশপাশে প্রায়ই দুর্ঘটনা ঘটছে। তাদের মতে, যদি দ্রুত কার্যকর ব্যবস্থা না নেওয়া হয়, তাহলে যে কোনো সময় বড় ধরনের দুর্ঘটনা ঘটতে পারে।
পাঠার মোড়ে গ্যাস সিলিন্ডারবাহী গাড়ির সঙ্গে ট্রেনের সংঘর্ষ
বুধবার সকালে রাজশাহী মহানগরের পাঠার মোড় এলাকায় একটি গ্যাস সিলিন্ডারবাহী গাড়ির সঙ্গে ট্রেনের সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, সংঘর্ষের সময় পরিস্থিতি ছিল অত্যন্ত আতঙ্কজনক। কারণ গাড়িটিতে গ্যাস সিলিন্ডার থাকায় সংঘর্ষের পরপরই বিস্ফোরণের আশঙ্কা তৈরি হয়।
স্থানীয়দের একজন বলেন, সংঘর্ষের পর মুহূর্তের মধ্যে সিলিন্ডার বিস্ফোরিত হলে বড় ধরনের প্রাণহানি ঘটতে পারত। তবে ভাগ্যক্রমে অল্পের জন্য বড় দুর্ঘটনা এড়ানো সম্ভব হয়। এরপর ঘটনাস্থলে স্থানীয় লোকজন জড়ো হন এবং পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনার চেষ্টা করেন।
এ ঘটনার পর এলাকায় আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে এবং অনেকেই প্রশ্ন তুলেছেন—এ ধরনের ঝুঁকিপূর্ণ এলাকায় অবৈধ দখলদারি ও দোকানপাটের কারণে দৃষ্টিসীমা সংকুচিত থাকায় কীভাবে নিরাপদভাবে যান চলাচল সম্ভব?
আগেও ঘটেছে প্রাণঘাতী দুর্ঘটনা
স্থানীয়দের দাবি, পাঠার মোড়সহ রেলগেট থেকে কাশিয়াডাংগা পর্যন্ত এলাকায় এটি প্রথম দুর্ঘটনা নয়। এর আগেও একই এলাকায় একাধিক দুর্ঘটনায় আহত ও নিহত হওয়ার ঘটনা ঘটেছে। কোনো কোনো ঘটনায় প্রাণহানির ঘটনাও ঘটলেও স্থায়ী সমাধান হয়নি।
তাদের অভিযোগ, দুর্ঘটনার পর সাময়িকভাবে কিছু উদ্যোগ নেওয়া হলেও কিছুদিন পর আবার আগের অবস্থায় ফিরে যায় পরিস্থিতি। ফলে রেলপথ এলাকার নিরাপত্তা নিশ্চিত না হয়ে উল্টো ঝুঁকি আরও বাড়ছে।
দখলদারির পেছনে যোগসাজশের অভিযোগ
এলাকাবাসী ও স্থানীয়দের অভিযোগ, রেলওয়ের জমি অবৈধভাবে দখল ও ব্যবহার করতে দেওয়ার পেছনে রাজনৈতিক দলের কিছু নেতাকর্মী এবং রেলওয়ের অসাধু কর্মচারীদের যোগসাজশ রয়েছে। তাদের ভাষ্য অনুযায়ী, দীর্ঘদিন ধরে টাকার বিনিময়ে রেলওয়ের জায়গা ব্যবহার করতে দেওয়া হচ্ছে।
স্থানীয়রা আরও অভিযোগ করেন, কোথাও কোথাও অবৈধভাবে রেলওয়ের জায়গা “বিক্রি” করে দোকান বসানোর সুযোগ দেওয়া হচ্ছে। এতে করে রেলওয়ের জমি হারাচ্ছে এবং একই সঙ্গে সাধারণ মানুষের জীবন নিরাপত্তা চরম ঝুঁকির মধ্যে পড়ছে।
একাধিক স্থানীয় বাসিন্দা বলেন, রেললাইনের পাশ ঘেঁষে দোকান ও স্থাপনা থাকায় ট্রেন আসার আগ মুহূর্ত পর্যন্ত চালকরা ট্রেন দেখতে পান না। ফলে ট্রেনের হর্ন শোনা গেলেও প্রতিক্রিয়া জানানোর সময় অনেক কম থাকে। এতে দুর্ঘটনার ঝুঁকি আরও বেড়ে যায়।
দ্রুত উচ্ছেদ ও কঠোর ব্যবস্থার দাবি
স্থানীয়রা অবিলম্বে অবৈধ দখল উচ্ছেদ, রেললাইনের দুই পাশ নিরাপদ দূরত্বে ফাঁকা রাখা, রেলক্রসিংয়ে সতর্কতামূলক ব্যবস্থা জোরদার এবং দখলদারদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন।
তারা বলেন, শুধু নোটিশ দিয়ে বা মৌখিক আশ্বাস দিয়ে পরিস্থিতির পরিবর্তন হবে না। প্রয়োজন নিয়মিত অভিযান ও নজরদারি। একই সঙ্গে যারা রেলওয়ের জমি দখল ও দখলকে প্রশ্রয় দিচ্ছে তাদের বিরুদ্ধেও কঠোর ব্যবস্থা নিতে হবে।
রেল কর্তৃপক্ষের বক্তব্য
এ বিষয়ে রাজশাহী রেলের জিএম ফরিদ আহমেদের সঙ্গে মুঠোফোনে যোগাযোগ করা হলে তিনি জানান, অবৈধ দখল উচ্ছেদে ইতোমধ্যে কাজ শুরু হয়েছে। তিনি বলেন,
“আমরা ইতোমধ্যে কাজ শুরু করেছি। রাজশাহী সিটি এলাকার অবৈধ দোকানপাট খুব শিগগিরই উচ্ছেদ করা হবে।”
তিনি আরও জানান, শহরের ভেতরে অবৈধ দখলের তালিকা তৈরি করে দ্রুত নোটিশ জারি করা হবে। এরপর পর্যায়ক্রমে উচ্ছেদ অভিযান পরিচালনা করা হবে। এছাড়া রাজশাহীর বাইরের এলাকাগুলোতেও উচ্ছেদ কার্যক্রম চলমান রয়েছে বলে জানান তিনি।
নিরাপদ রেলপথ নিশ্চিতের দাবি জোরালো
স্থানীয়দের মতে, রেললাইনের পাশের অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদ করে নিয়মিত নজরদারি নিশ্চিত করা না হলে ভবিষ্যতে বড় ধরনের দুর্ঘটনা ঘটার আশঙ্কা থেকেই যাবে। তারা দ্রুত সময়ের মধ্যে রেলওয়ের জমি দখলমুক্ত করে রেলপথ ও রেলক্রসিং এলাকাকে নিরাপদ করার দাবি জানিয়েছেন।