
প্রিন্ট এর তারিখঃ এপ্রিল ১৯, ২০২৬, ৩:২০ পি.এম || প্রকাশের তারিখঃ মে ২৮, ২০২৫, ৯:১৩ পি.এম
লক্ষ্মীপুরে ধান চাষের নব সূচনা

লক্ষ্মীপুরের রায়পুরে মেঘনা নদীর বুকে জেগে ওঠা দুর্গম চরাঞ্চলের ১২০০ একর আবাদি জমি অবশেষে নয় মাস পর প্রকৃত মালিকদের দখলে ফিরে এসেছে। বুধবার (২৮ মে) দুপুরে এসব জমিতে আনুষ্ঠানিকভাবে ধান চাষ শুরু হয়েছে।
জানা গেছে, গত ৫ আগস্ট সরকার পরিবর্তনের পর থেকে রায়পুর উপজেলার দক্ষিণ চরবংশী ইউনিয়নের বায়রাঘাট এলাকার মেঘনার চরসহ আশপাশের প্রায় ৬ হাজার একর সরকারি খাস জমি স্থানীয় প্রভাবশালী রাজনৈতিক নেতাদের দখলে ছিল। ভাঙনের শিকার হয়ে গৃহহীন হওয়া হাজারও পরিবার আশ্রয়ের আশায় এই চরগুলোতে বাস করতে শুরু করলেও জমির দখল নিতে পারেননি প্রকৃত মালিকরা।
বুধবার সকাল ৯টায় কানিবগারচর জামে মসজিদে বিশেষ দোয়ার আয়োজনের মাধ্যমে জমি পুনরুদ্ধারের উদযাপন করা হয়। দোয়া পরিচালনা করেন হায়দরগঞ্জের প্রখ্যাত আলেম মুফতি সাইয়েদ তাহের জাবেরি আল মাদানি। এ সময় শতাধিক জমির মালিক ও স্থানীয় কৃষক উপস্থিত ছিলেন, যাদের মধ্যে শাহিদা বেগম, সেলিম গাজি, অদুদ খান, আনোয়ার হোসেন হাওলাদার, মো. আবদুল কুদ্দুস, সুমন হাওলাদার, মোস্তফা বেপারি, মোহাম্মদ আলী মোল্লা, জাকির হোসেন হাওলাদার, মো. লিটন ও কামাল অন্যতম।
কৃষক লিটন হোসেন ও আনোয়ার হোসেন জানান, গত ১৭ বছর ধরে চরবংশী এলাকার প্রায় ৬ হাজার একর খাস জমি দখল করে রেখেছিলেন সাবেক উপজেলা চেয়ারম্যান ও স্থানীয় আওয়ামী লীগ নেতা আলতাফ মাস্টারসহ কয়েকজন প্রভাবশালী।
২০২৩ সালের ডিসেম্বর মাসে মেঘনার চর, মাছঘাট ও বাজার দখলকে কেন্দ্র করে বিএনপি ও আওয়ামী লীগপন্থী গ্রুপগুলোর মধ্যে রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষ হয়। এতে ব্যাপক ভাঙচুর, লুটপাট, অগ্নিসংযোগ এবং প্রাণহানির ঘটনা ঘটে। সংঘর্ষের পর বিএনপি নেতা ফারুক কবিরাজ ও স্বেচ্ছাসেবক দলের নেতা শামীম গাজীর অনুসারীদের মধ্যে দফায় দফায় সংঘর্ষে আরও প্রাণহানি ঘটে। এ পরিস্থিতিতে রাজনৈতিক আধিপত্য বিস্তার ও দখলবাজির অভিযোগে বিএনপি জেলা ও উপজেলা পর্যায়ে একাধিক কমিটি বিলুপ্ত করে।
এদিকে নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক আটজন কৃষক জানান, দীর্ঘ ১৭ বছর চরের জমি আলতাফ মাস্টারের দখলে থাকলেও সরকার পতনের পর কিছু স্থানীয় প্রভাবশালী দলে দলে এসে জমি দখলের চেষ্টা করে। এরপর জমির প্রকৃত মালিকরা আইনি ও সামাজিক আন্দোলনের মাধ্যমে জমি পুনরুদ্ধার করেন।
উত্তর চরবংশী ইউনিয়নের সহকারী ভূমি কর্মকর্তা মো. মামুন জানান, বর্তমানে মেঘনার চরাঞ্চলের প্রায় ৬ হাজার ৭০০ একর সরকারি খাস জমি বিভিন্ন প্রভাবশালীর দখলে রয়েছে। দক্ষিণ চরবংশী ইউপি চেয়ারম্যান আবু সালেহ মিন্টু ফরাজি এবং উত্তর চরআবাবিল ইউপি চেয়ারম্যান আবু জাফর দুলাল হাওলাদার জানান, আগে এসব জমি আওয়ামী লীগ নেতাদের দখলে ছিল, এখন বিএনপির নেতারাও দখলে নেয়। তবে কিছু প্রকৃত মালিক জমি ফেরত পেয়ে চাষাবাদ শুরু করেছেন। রায়পুর উপজেলার সাবেক চেয়ারম্যান আলতাফ হোসেন মাস্টার বলেন, "চরের জমি নিয়ে আদালতে মামলা চলমান। আগে এসব জমি আমার দখলে ছিল। সরকার পরিবর্তনের পর বিএনপি নেতারা চরগুলো দখলে নেয়।”
বিএনপি উপজেলা আহ্বায়ক নাজমুল ইসলাম মিঠু ও সদস্য সচিব শফিকুর রহমান ভূঁইয়া জানান, “চরের জমি যাদের বৈধ দলিল রয়েছে, তারাই ভোগ দখলের অধিকার রাখেন। কেউ অন্যায়ভাবে সম্পৃক্ত থাকলে দলীয়ভাবে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”
লক্ষ্মীপুর জেলা প্রশাসক রাজিব কুমার সরকার জানান, "চারটি উপজেলার চরাঞ্চলে সরকারি খাস জমি প্রভাবশালীদের দখলে থাকার অভিযোগ রয়েছে। দ্রুত এসব চর পরিদর্শন করে অবৈধ দখলদারদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে। কেউ অনুমতি ছাড়া সরকারি জমি ভোগ দখল করতে পারবে না।"
দৈনিক ‘নাগরিক ভাবনা’র অনলাইন পোর্টালটি ঢাকা হতে শেখ রিফান আহমেদ-এর সম্পাদনায় পরিচালিত।
হটলাইন: 09649-230220 ও 01915-708187, ইমেইল: info.nagorikvabna@gmail.com
@নাগরিক ভাবনা কর্তৃক সর্বস্বত্ত্ব সংরক্ষিত