জাহিদ হাসান,বান্দরবান প্রতিনিধি।।
বান্দরবানের লামা উপজেলার মিরিঞ্জা ভ্যালিতে অবস্থিত ‘রয়েল হিল’ রিসোর্টে হামলা, ভাঙচুর ও দখলের চেষ্টার অভিযোগ উঠেছে। রিসোর্টের মালিকপক্ষের অভিযোগ, ২৪ সেপ্টেম্বর দুপুরে লামা ও চকরিয়া থেকে লোকজন নিয়ে এসে রিসোর্টে হামলা চালানো হয়। এ সময় লাঠিসোঁটা ও লোহার রড দিয়ে মারধরে মালিক ও সাত কর্মচারীসহ নয়জন আহত হন।রিসোর্টের মালিকপক্ষ ও স্থানীয় একাধিক ব্যক্তির ভাষ্য অনুযায়ী, হামলাকারীদের নেতৃত্বে ছিলেন লামা উপজেলা আওয়ামী লীগের কৃষক লীগের এক নেতা। তাঁর নেতৃত্বে বিএনপির কয়েকজন নেতাকর্মীও হামলায় অংশ নেন বলে স্থানীয়দের অভিযোগ। রিসোর্টের মালিক মো. রাসেল চৌধুরী বলেন, ২৪ সেপ্টেম্বর দুপুর ১টার দিকে সুলতান মাহমুদ, মো. জাফর, মোয়াজ্জেম হোসেন, মোহাম্মদ আরিফ, শাহাদাত হোসেন ও আইয়ুবের নেতৃত্বে ৩৫ থেকে ৪০ জন রিসোর্টে প্রবেশ করেন। তাঁর অভিযোগ, এ সময় তাঁরা রিসোর্টে ভাঙচুর ও মারধর শুরু করেন। হামলাকারীরা রিসোর্টের সিসি ক্যামেরাও ভাঙচুর করেন। এতে প্রায় সাত লাখ টাকার ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে বলে দাবি করেন তিনি।রাসেল চৌধুরীর আরও অভিযোগ, রিসোর্টের ক্যাশ থেকে নগদ এক লক্ষ টাকা, একটি আইফোনসহ ছয়টি মুঠোফোন এবং পর্যটকদের কিছু মালামাল নিয়ে যাওয়া হয়েছে। হামলায় তিনি নিজেও আহত হন। তাঁর সাত মাসের অন্তঃসত্ত্বা স্ত্রী চাঁদনি জান্নাতও আহত হয়েছেন বলে জানান তিনি।রিসোর্টের সঞ্চিতা চাকমার অভিযোগ, হামলাকারীরা তাঁকে মারধর করেন এবং তাঁর গলা থেকে প্রায় তিন ভরি ওজনের একটি সোনার চেইন ছিনিয়ে নেন।এ ঘটনায় আহত অন্যরা হলেন পুবন ত্রিপুরা, হেমরঞ্জন ত্রিপুরা, সালমা বেগম, রিন্টু চাকমা, নূর হোসেন ও মো. আলী চৌধুরী। আহত নয়জনের মধ্যে চারজনকে লামা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয় এবং পাঁচজনকে প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়া হয়েছে।রিসোর্টের মালিকপক্ষ বলছে, ‘রয়েল হিল’ নিয়ে দুই পক্ষের মধ্যে মালিকানা ও দখলসংক্রান্ত বিরোধ চলছে। এ নিয়ে আদালতে মামলাও হয়েছে। তাঁদের অভিযোগ, আদালতে মামলা চলমান থাকার মধ্যেই এক পক্ষ লোকজন নিয়ে রিসোর্টের নিয়ন্ত্রণ নেওয়ার চেষ্টা করেছে।ঘটনার পর লামা সিনিয়র জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে মামলা করা হয়েছে। আদালত মামলাটি আমলে নিয়ে সাত কার্যদিবসের মধ্যে লামা থানাকে আদালতকে অবহিত করার নির্দেশ দিয়েছেন। মামলায় পাঁচজনকে এজাহারভুক্ত আসামি এবং ২৬ জনকে অজ্ঞাতনামা আসামি করা হয়েছে।স্থানীয়দের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, হামলায় বিভিন্ন রাজনৈতিক পরিচয়ের ব্যক্তিদের উপস্থিতি ছিল বলে অভিযোগ রয়েছে। তাঁদের ভাষ্য, কৃষক লীগের ওই নেতার নেতৃত্বে হামলাকারীদের একটি অংশ রিসোর্টে প্রবেশ করে। পরে বিএনপির কয়েকজন নেতাকর্মীকেও তাঁদের সঙ্গে দেখা যায় বলে স্থানীয়রা দাবি করেন।তবে এই রাজনৈতিক সম্পৃক্ততার বিষয়টি মামলার তদন্তে আনুষ্ঠানিকভাবে কতটা প্রমাণিত হয়েছে, তা এখনো জানা যায়নি। ফলে হামলায় অংশ নেওয়া ব্যক্তিদের রাজনৈতিক পরিচয় ও প্রত্যেকের ভূমিকা তদন্তের মাধ্যমে যাচাই করা প্রয়োজন।লামা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ কাইছার হামিদ বলেন, খবর পাওয়ার সঙ্গে সঙ্গে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। আহতদের হাসপাতালে পাঠানোর ব্যবস্থা করা হয়েছে।অভিযুক্ত সুলতান মাহমুদের মুঠোফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও নাম্বারটি বন্ধ পাওয়া যায়। রয়েল হিল রিসোর্টের ঘটনাটি এখন আদালত ও পুলিশের তদন্তের আওতায়। হামলার নেতৃত্ব, দখলের চেষ্টা, ভাঙচুর ও লুটপাটের অভিযোগ এবং এতে রাজনৈতিক ব্যক্তিদের ভূমিকা—সবকিছু তদন্তে কতটা প্রতিষ্ঠিত হয়, সেটিই এখন দেখার বিষয়।
প্রধান কার্যালয়: ৫০/এফ, ইনার সার্কুলার (ভিআইপি) রোড, নয়াপল্টন, পল্টন মডেল থানা, ঢাকা-১০০০।
হটলাইন: 09643-230220, মুঠোফোন: 01915-708187, মেইল: info.nagorikvabna@gmail.com
@Copyright & reserved by NAGORIK BHABNA