

বাংলাদেশের প্রায় নিঃস্ব অবস্থায় থাকা অসংখ্য মানুষ স্বপ্ন নিয়ে লিবিয়া ও ইতালি যাওয়ার পথে ইতিবাচক আশায় ঝুঁকিপূর্ণ পথ বেছে নেয়। কিন্তু অধিকাংশ ক্ষেত্রেই এই সিদ্ধান্ত তাদের জন্য হয়ে ওঠে জীবনের বড় সঙ্কট—অপরাধী চক্রের জিম্মি, নির্যাতন ও মুক্তিপণের ফাঁদে পড়ানোর। অনেকেই অবৈধ পথে ইউরোপে পাড়ি দেয়ার আশায় গিয়ে খাদ্যে প্রবেশ করে ভয়াবহ পরিস্থিতিতে ।
বৃহস্পতিবার (১০ জুলাই), সকাল ১১টায়পিবিআই ঢাকা মেট্রো (উত্তর) কার্যালয়ে ব্রিফিং দেন অতিরিক্ত উপ-পুলিশ মহাপরিদর্শক মোঃ এনায়েত হোসেন। তিনি জানান, জিম্মি দুই শ্রমিক—আলমগীর হোসেন (৪৫) ও সিরাজ উদ্দিন (৩৫)—বহুদিন ধরে অবৈধভাবে লিবিয়া থেকে ইউরোপে পাঠানোর প্রলোভনে আটকে বিশেষ চক্রের হাতে পাপড়িত হন। দুইজনকে এক্ষেত্রে ৪২ দিন ধরে নির্যাতন ও মুক্তিপণের জন্য ট্রিপল র্যাকেটে ব্যবহার করা হয়েছিল ।তারা ২০২৫ সালের ১ জানুয়ারি ভোরে ত্রিপোলির জমাজৈতন এলাকার একটি ওয়ার্কশপে কাজ করছিলেন, তখন অপহৃত হন। অপহরণকারীরা ইমু সম্পৃক্ত সরাসরি পরিবারের কাছে মুক্তিপণের জন্য ২০–২২ লাখ টাকা দাবি করেন। দেহে শারীরিক নির্যাতনের পাশাপাশি গ্রাহক মানসিকভাবে ভেঙে পড়ারসবই চেষ্টা করা হয়েছিল ।সিরাজ উদ্দিনের ভাবি ১৩ জানুয়ারি ২০২৫ তারিখে ইসলামি ব্যাংক-এ ১.৫০ লক্ষ টাকা প্রদান করেন, তবে মুক্তি না পাওয়ায় আরও ৪ লক্ষ টাকা দেওয়া হয় ।
পিবিআই ও সহযোগী সংস্থার তদন্তে ট্রানজাকশনের লেনদেন ও মোবাইল ফোন বিবরণ পর্যালোচনার মাধ্যমে চক্রের নিয়ন্ত্রক—মোঃ রাসেল হক (২৫) এবং মিন্টু ফরাজী (৩৯)—কে গ্রেফতার করা হয় ।
ভুক্তভোগী দুই শ্রমিক অবশেষে ৯ জুলাই দেশের পাড়ায় ফিরে আসেন। ব্র্যাক, ইউএস স্টেট ডিপার্টমেন্ট ও আইওএম-এর সমন্বয়ে নিরাপদভাবে ফেরত পাঠানো হয় তাদের—যার একাংশ ছিল পিবিআই’র তৎপরতায় উদ্ধার প্রক্রিয়ার ফল ভেন ।
দৈনিক ‘নাগরিক ভাবনা’র অনলাইন পোর্টালটি ঢাকা হতে শেখ রিফান আহমেদ-এর সম্পাদনায় পরিচালিত।
হটলাইন: 09649-230220 ও 01915-708187, ইমেইল: info.nagorikvabna@gmail.com
@নাগরিক ভাবনা কর্তৃক সর্বস্বত্ত্ব সংরক্ষিত