
প্রিন্ট এর তারিখঃ এপ্রিল ২১, ২০২৬, ৪:৪৭ পি.এম || প্রকাশের তারিখঃ জানুয়ারী ১৬, ২০২৬, ৬:৫৫ পি.এম
শত বছরের প্রাচীন তেতুলতলায় সন্ন্যাস ঠাকুরের পূজা

সুশান্ত মালাকার, দুপচাঁচিয়া, (বগুড়া): প্রায় শত বছরের প্রাচীন বিশাল আকৃতির এক তেঁতুল গাছের চারিদিকে গোলাকৃতি ভাবে সাজিয়ে রাখা হয়েছে সন্ন্যাস প্রতিমা। একটু এগিয়ে গিয়ে চোখে পড়লো ওই তেঁতুল গাছকে একটি বটগাছ জড়িয়ে ধরে শাখা প্রশাখা গজিয়ে সেটিও পরিপূর্ণ গাছে পরিনত হয়েছে। দুর থেকে যেকারো মনে হবে এক গাছের দুটি শাখা। সন্ন্যাস প্রতিমার একটু সামনেই সাড়ি সাড়িভাবে সাজানো কলার ছড়াগুলো পাশেই রাখা হয়েছে নানা ধরনের ফল সহ পুজার অন্যান্য সামগ্রী। সনাতন ধর্মালম্বী নারীরা প্রতিমার সামনে নানা ধরনের উপকরণ প্রস্তুত করতে একেবারেই ব্যস্ত। পুরোহিত এর মন্ত্র উচ্চারণের মধ্যে দিয়ে পূজা চলাকালীন সময়ে মেয়েদের উলু ধ্বনি, শঙ্খের ধনী ও ঢাকের তালে মুখরিত ছিল অনুষ্ঠান স্থল। তবে এই পুজা দেখা সহ মানত পুরনে পূজা দিতে এসেছেন বিভিন্ন এলাকার সনাতন ধর্মালম্বী নারী পুরুষ। এই আয়োজন হলো বগুড়ার দুপচাঁচিয়া উপজেলার তালোড়া ইউনিয়নের কইল গ্ৰামের শেষপ্রান্তে তালোড়া টু আলতাফনগর রাস্তার ধারে কানা পুকুর সন্ন্যাসতলা নামক স্থানে। পুনট থেকে পরিবার সহ এই সন্ন্যাস পুজোতে এসেছেন কমল কর্মকার। তিনি জানান, একটি সমস্যা থেকে রক্ষায় সন্ন্যাস বাবার কাছে মানত করেছিলাম। সেটির ভালো ফলাফল মেলাই পূজা দিতে এসেছি। পুরোহিত শ্রী মন্টু সরকার জানান, সন্ন্যাস বাবার এখানে প্রচুর লোক মনোবাসনা পুরনে মানত করে থাকেন। তবে অনেকের মনোবাসনা পুরন হওয়ায় কেউবা প্রতিমা কেউব অন্যান্য সামগ্রী পূজায় দিয়ে থাকেন। পূজার আয়োজক কমিটি ও স্থানীয়রা জানিয়েছেন, এই স্থানে প্রায় শত বছর ধরে এই পূজা হয়ে আসছে। এ জায়গায় শত বছর ধরে এই স্থানে এলাকাবাসী পৌষ সংক্রান্তিতে সন্ন্যাস পূজা করে থাকেন। এ পূজার আয়োজক কমিটির সাবেক সভাপতি কালিপদ সরকার, ও সত্য কুমার মালাকার বলেন, সরকারের খাস খতিয়ানের জায়গায় শত বছরের অধিক সময় ধরে এই স্থানে এলাকাবাসী পৌষ সংক্রান্তিতে সন্ন্যাস পূজা করে আসছেন। তিনারা এও বলেন কানাপুকুর সন্ন্যাসতলা নামক স্থানের এই জায়গার আকৃতি আগে অনেক বড় ছিল। আশপাশের জমির মালিকরা দিন দিন পূজার স্থানের চতুর ধার কাটতে কাটতে এখন জায়গা একেবারেই সংকুচিত হয়ে গেছে।এত ছোট পরিসরে জায়গায় পুজার সামগ্রী প্রতিমা রাখার পর পুরোহিতের পুজায় সমস্যা দেখা দেয়। তবে সরকারিভাবে পরিমাপ করে জায়গা উদ্ধারের দাবি জানিয়েছেন তারা। এদিকে পূজা শেষে অঞ্জলী দিয়েই ভক্তরা ধুপকাটি হাতে নিয়ে গাছের চতুর্দিকে প্রদক্ষিণ করেন। প্রদক্ষিণ শেষে আগত সকল ভক্তবৃন্দের মাঝে মহাপ্রসাদ বিতরণ করা হয়।
জায়গা বেদখলেল বিষয়টি দুপচাঁচিয়া উপজেলা নির্বাহী অফিসার ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট শাহরুখ খানকে মুঠো ফোনে অবহিত করলে তিনি বলেন, আয়োজক কমিটি লিখিত অভিযোগ পেলে আমরা আইনানুগ ব্যবস্থা নেব।
দৈনিক ‘নাগরিক ভাবনা’র অনলাইন পোর্টালটি ঢাকা হতে শেখ রিফান আহমেদ-এর সম্পাদনায় পরিচালিত।
হটলাইন: 09649-230220 ও 01915-708187, ইমেইল: info.nagorikvabna@gmail.com
@নাগরিক ভাবনা কর্তৃক সর্বস্বত্ত্ব সংরক্ষিত