
প্রিন্ট এর তারিখঃ এপ্রিল ৩০, ২০২৬, ৯:৪৮ পি.এম || প্রকাশের তারিখঃ এপ্রিল ৪, ২০২৬, ২:০২ পি.এম
শরণখোলায় নেই মাদকাসক্ত শনাক্তে ‘ডোপ টেস্ট’

শহিদুল ইসলাম সোহাগ,বাগেরহাট: উপকূলীয় উপজেলা শরণখোলায় মাদকের বিস্তার রোধে প্রশাসনের ‘জিরো টলারেন্স’ নীতির বাস্তবায়নে অন্তরায় হয়ে দাঁড়িয়েছে প্রযুক্তিগত সীমাবদ্ধতা। সন্দেহভাজন মাদকাসক্তদের নির্ভুলভাবে শনাক্ত করার অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ মাধ্যম ‘ডোপ টেস্ট’ (Dope Test)-এর কোনো সুবিধা নেই শরণখোলা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে। ফলে আইনি প্রক্রিয়ায় বৈজ্ঞানিক প্রমাণের অভাবে যেমন মাদক কারবারীরা সহজেই পার পেয়ে যাচ্ছে, তেমনি চরমভাবে ব্যাহত হচ্ছে আসক্তদের চিকিৎসাসেবা।
সম্প্রতি স্থানীয় সাংবাদিকদের সাথে এক মতবিনিময় সভায় শরণখোলা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. শামিনুল হক এই সীমাবদ্ধতার কথা তুলে ধরেন। তিনি জানান, মাদক নিয়ন্ত্রণে কেবল বিক্রেতা নয়, সেবনকারীদেরও সুনির্দিষ্টভাবে চিহ্নিত করা জরুরি। কিন্তু স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ডোপ টেস্টের সুবিধা না থাকায় সন্দেহভাজনদের নমুনা পরীক্ষার জন্য প্রায় ৬০ কিলোমিটার দূরে জেলা সদর বাগেরহাটে পাঠাতে হয়, যা পুলিশের অভিযানিক কার্যক্রমে চরম সময়সাপেক্ষ ও ব্যয়বহুল একটি প্রক্রিয়া। বিষয়টি স্বীকার করে উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. প্রিয় গোপাল বিশ্বাস বলেন, "উপজেলা পর্যায়ে ডোপ টেস্টের প্রয়োজনীয়তা এখন অনস্বীকার্য। আমাদের হাসপাতালে এই পরীক্ষার জন্য প্রয়োজনীয় কেমিক্যাল রিএজেন্ট ও বিশেষায়িত ল্যাব নাই। প্রয়োজনীয় বরাদ্দ পেলেই দ্রুত এই সেবা চালু করা সম্ভব।"
এদিকে, কাঠামোগত এই সীমাবদ্ধতা ও প্রশাসনের কতিপয় অসাধু কর্মকর্তার যোগসাজশের সুযোগে এলাকায় বেপরোয়া হয়ে উঠেছে মাদক কারবারীরা। অনুসন্ধানে জানা যায়, রায়েন্দা বাজারের পূর্বমাথা, ফেরীঘাট ও ওয়াপদা কলোনিসহ বিভিন্ন পয়েন্টে প্রকাশ্যে চলছে মাদকের কেনাবেচা। মাদকের টাকা জোগাড় করতে এলাকায় পাল্লা দিয়ে বাড়ছে চুরি-ছিনতাইয়ের মতো অপরাধ। মাদকের এই অবাধ আগ্রাসনের বিরুদ্ধে সোচ্চার হতে শুরু করেছে স্থানীয় জনতা। গত ২ মার্চ উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক বেলাল হোসেন মিলনের নেতৃত্বে রায়েন্দা ফেরীঘাট থেকে ৫৭ পিস ইয়াবাসহ শাহীন নামের একজনকে ধরে পুলিশে সোপর্দ করা হয়। এর আগে ৮ জানুয়ারি মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর ওয়াপদা কলোনি এলাকার শীর্ষ কারবারী ইলিয়াস তালুকদারকে ২৫০ পিস ইয়াবাসহ গ্রেপ্তার করে। অনেকক্ষেত্রে প্রতিবাদ করতে গিয়ে উল্টো হামলার শিকার হতে হচ্ছে সাধারণ মানুষকে। ইয়াবা সেবনে বাধা দেওয়ায় চালিতাবুনিয়া গ্রামে তিনজনের আহত হওয়া এবং রুবেল ফরাজি নামের এক গ্রাম পুলিশের গুরুতর জখম হওয়ার ঘটনাই তার প্রমাণ। মাদকের এই ভয়াবহতা রোধে গত ৬ অক্টোবর উপজেলা বিএনপি ও অঙ্গসংগঠন বিশাল মানববন্ধন করে প্রশাসনকে কঠোর হুঁশিয়ারি দেয়। এলাকাবাসীর মতে, মাদক কারবারীরা আদালতে খুব সহজে জামিন পেয়ে পুনরায় একই অপরাধে জড়াচ্ছে। স্থানীয় সাংবাদিক মালেক রেজার আক্ষেপ, "পুলিশ মাঝেমধ্যে চুনোপুঁটিদের ধরলেও মূল গডফাদাররা সবসময় ধরাছোঁয়ার বাইরেই থেকে যায়।"
সার্বিক পরিস্থিতিতে ওসি মো. শামিনুল হক ইয়াবার শিকড় উপড়ে ফেলতে পুলিশের নিয়মিত অভিযান অব্যাহত রাখার কথা জানিয়ে সাধারণ মানুষের সহযোগিতা কামনা করেছেন। তবে সচেতন মহলের দাবি—শরণখোলাকে প্রকৃত অর্থে মাদকমুক্ত করতে হলে অতিদ্রুত উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ডোপ টেস্ট সুবিধা নিশ্চিত করার পাশাপাশি মাদকের মূল গডফাদারদের আইনের আওতায় আনতে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কঠোর হস্তক্ষেপ প্রয়োজন।
দৈনিক ‘নাগরিক ভাবনা’র অনলাইন পোর্টালটি ঢাকা হতে শেখ রিফান আহমেদ-এর সম্পাদনায় পরিচালিত।
হটলাইন: 09649-230220 ও 01915-708187, ইমেইল: info.nagorikvabna@gmail.com
@নাগরিক ভাবনা কর্তৃক সর্বস্বত্ত্ব সংরক্ষিত