
প্রিন্ট এর তারিখঃ এপ্রিল ৩০, ২০২৬, ৭:৩৪ পি.এম || প্রকাশের তারিখঃ জুলাই ১১, ২০২৫, ১২:৪৪ এ.এম
শাজাহানপুরে মেলার পক্ষে এবং বিপক্ষে জেলা প্রশাসক বরাবর আবেদন

বগুড়ার শাজাহানপুর উপজেলার চোপিনগর ইউনিয়নের বড়পাথার ঐতিহ্যবাহী বালিয়াদিঘী নামক স্থানে শতবর্ষী বসমবুড়ি মেলাকে কেন্দ্র করে বগুড়া জেলা প্রশাসক (ডিসি) বরাবর মেলার পক্ষে এবং বিপক্ষে আবেদন করেছে স্থানীয়রা।
এলাকাবাসীর পক্ষে বড়পাথার বালিয়াদিঘী যৌথ কেন্দ্রীয় ঈদগাহ মাঠ ও বালিয়াদিঘী মাদরাসাতুল হাদীছ ও ইয়াতিমখানার সভাপতি মোজাফফর রহমান (সাবেক চেয়ারম্যান চোপিনগর ইউপি) জেলা প্রশাসক বরাবর মেলা বন্ধের জন্য আবেদন জানান।
তিনি আবেদন করেন, ঐতিহ্যবাহী বালিয়াদিঘী নামক স্থানে আজ থেকে প্রায় ১১০/১১৫ বছর আগে ০৫টি গ্রামের সমন্বয়ে যৌথ কেন্দ্রীয় ঈদগাহ মাঠটি প্রতিষ্ঠিত হয়ে অদ্যবধি প্রতি ঈদে কমপক্ষে ৩০/৩৫ হাজার মুসল্লীর বৃহত্তর জামাআত অনুষ্ঠিত হয়ে আসছে। এতদ্বাসত্ত্বেও পাশ্ববর্তী গ্রাম থেকে আগত হিন্দু ধর্মের লোকজন একটি কুসংস্কারকে ভিত্তি করে বহু বছর যাবত মূর্তি সাজিয়ে বসমবুড়ির মেলা উদযাপন করে আসছিলো। কিন্তু কালের পরিক্রমায় এলাকার ধর্মপ্রাণ ও আল্লাহভীরু মুসলমানদের অনুরোধের প্রেক্ষিতে সর্বসম্মতিক্রমে ও জনসাধারনের সার্বিক সহযোগীতায় অত্র গ্রামের কৃতি সন্তান বীর মুক্তিযোদ্ধা মনসুর রহমান (বি.এ. অনার্স, এম.এ.এল.এল.বি) এর নেতৃতে চিরতরে মেলা বন্ধ করার লক্ষে ২০০৩ ইং সালে বালিয়াদিঘীর দক্ষিণ পশ্চিম পাড়ে একটি ব্যতিক্রমধর্মী ইসলামী শিক্ষা প্রতিষ্ঠান মাদরাসাতুল হাদীছ ও ইয়াতিমখানা প্রতিষ্ঠা করা হয়। মাদরাসার উত্তর পাশে বিশাল আকারে যৌথ কেন্দ্রীয় জামে মসজিদ স্থাপন করা হয়। সেই ২০০৩ ইং সালে থেকে বালিয়াদিঘীতে মেলা বন্ধ হয়ে যায়। কিন্তু অত্যন্ত দুঃখজনক হলেও সত্য যে, কতিপয় ব্যক্তির উদ্যোগে বালিয়াদিঘী সংলগ্ন জমিতে ২/৩ বার মেলা লাগানো হয়েছিল। 'অতপর এলাকার ধর্মপ্রাণ মুসলমানদের অনুরোধে ইউপি চেয়ারম্যান এর হস্তক্ষেণে পুনরায় মেলা বন্ধ হয়। উদ্বোখ্য যে, এই ঐতিহ্যবাহী বালিয়াদিঘীতে ৩টি ধর্মীয় প্রতিষ্ঠান কেন্দ্রীয় ঈদগাহ মাঠ, কেন্দ্রীয় জামে মসজিদ ও মাদরাসা প্রতিষ্ঠিত হওযার পরেও এবছর আবার নতুন করে মেলা লাগানোর জন্য কতিপয় ব্যক্তি মড়িয়া হয়ে পড়েছে। এমতাবস্তায় এই কুসংস্কারমূলক বসম বুড়ি মেলা লাগানো হলে ৩টি ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানের ধর্মীয় স্বাধীনতা খর্ব হবে এবং ৯৫% ধর্মপ্রাণ মুসলমান চরমভাবে মণক্ষুন্ন ও ব্যথিত হবে, সেই সাথে প্রচন্ড বিপর্যয়-বিশৃঙ্খলা ও আইন শৃংখলার অবনতির আশংকা করা হচ্ছে। সুতরাং এই মুসলিম অধ্যুষিত এলাকায় বিধর্মীদের সংস্কৃতি মেলা চিরদিনের জন্য স্থায়ীভাবে বন্ধ করা ৯৫% মুসলমানদের সময়ের দাবী।
অন্যদিকে বড়পাথার গ্রামের কামাল হোসেন, আবুল হোসেন, সোহাগ, শাহীন আলমসহ স্থানীয় কিছু লোকজন সাবেক এমপি হেলালুজ্জামান তালুকদার লালুর সুপারিশে জেলা প্রশাসক বরাবর মেলার সরকারি ডাকের ব্যবস্থা গ্রহনের জন্য আবেদন করেছেন। তারা জানান, আমাদের বাপ-দাদার আমল থেকে উপরোক্ত মেলাটি অনুষ্ঠিত হয়ে আসছে। ২০০ বছরের ঐতিহ্যবাহী বসমবুড়ি মেলাটি প্রত্যেক বছর বাংলা শ্রাবন মাসের প্রথম রবিবার অনুষ্ঠিত হয়ে থাকে। সর্বশেষ বিগত ২০২২ সালের ১৭ই জুলাই, বাংলা ১৪২৮ সালের প্রাথম মাসের ০২ তারিখ মেলাটি অনুষ্ঠিত হয়েছিল। গত দুই বছর এক শ্রেনির অসাংস্কৃতিকমনা দুষ্কৃত মহল মেলার আয়োজন করতে দেয় নি। বর্তমানে আমাদের গ্রামের যুবসমাজসহ সর্বস্তরের লোকের আশা মেলাটি অনুষ্ঠিত হোক। এই মেলাটি এলাকাবাসীর ও তাদের আত্মীয় স্বজনের এক মিলন মেলা। এই মেলার প্রধান আকর্ষণ মহিষের মাংস ও বনদিয়াসহ বিভিন্ন মিষ্টান্ন ও খেলনার দোকান। মেলায় কোন প্রকার অনৈতিক ব্যবসা হয় না। সর্বদিক বিবেবচনা করে উপরোক্ত মেলাটি অনুমোদনসহ সরকারী ডাকের ব্যবস্থা করার জন্য আবেদন করছি।
এ বিষয়ে শাজাহানপুর উপজেলা নির্বাহী অফিসার জনাব তাইফুর রহমান মুঠোফোনে বলেন, যেহেতু মেলার পক্ষে এবং বিপক্ষে জেলা প্রশাসক বরাবরও আবেদন করা হয়েছে, সেহেতু আমি কোন সিদ্ধান্ত দিতে পারছি না। বগুড়া জেলা প্রশাসক (ডিসি) জনাবা হোসনা আফরোজা বলেন, মেলার পক্ষে এবং বিপক্ষে দুইটি দলের অবস্থানের পেক্ষিতে, সার্বিক নিরাপত্তার কথা ভেবে মেলা আয়োজনের কোনো সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়নি।
দৈনিক ‘নাগরিক ভাবনা’র অনলাইন পোর্টালটি ঢাকা হতে শেখ রিফান আহমেদ-এর সম্পাদনায় পরিচালিত।
হটলাইন: 09649-230220 ও 01915-708187, ইমেইল: info.nagorikvabna@gmail.com
@নাগরিক ভাবনা কর্তৃক সর্বস্বত্ত্ব সংরক্ষিত