
প্রিন্ট এর তারিখঃ এপ্রিল ২৬, ২০২৬, ১০:৪২ পি.এম || প্রকাশের তারিখঃ জানুয়ারী ১৫, ২০২৬, ৪:৩৭ পি.এম
সনাতনীদের ভোট দখল করতেই জামায়াত প্রার্থী কৃষ্ণ নন্দী!

বিপ্লব সাহা, খুলনা ব্যুরো: খুলনা জেলার ছয়টি নির্বাচনী এলাকার মধ্য হিন্দু অধ্যুষিত আসন হিসেবে অতি পরিচিত খুলনা -১ আসন আর এই আসন কে কৌশলগতভাবে আয়ত্তে আনার লক্ষ্যে জামাত ইসলামের ইতিহাসে সর্বপ্রথম কোন হিন্দু প্রার্থীকে প্রার্থী ঘোষণা করেছে ফলে ভোটারদের মাঝে বেশ খানিকটা এগিয়ে রয়েছে জামাত ইসলামের ইমেজ। এক মাসের ও কম সময় বাকি থাকতে নির্বাচনীয় এলাকায় অন্যতম প্রচার মাধ্যম প্যানা ও ব্যানার না থাকলেও সারোগমে চলছে নির্বাচনী প্রচার-প্রচারণা কাকডাকা ভোর থেকে গভীর রাত পর্যন্ত ভোটারদের দ্বারে দ্বারে এলাকাভিত্তিক নির্বাচনী পথসভা করে জানান দিচ্ছে আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে। উল্লেখযোগ্যভাবে জেলার সংসদীয় আসন খুলনা-১ (দাকোপ ও বটিয়াঘাটা) এলাকায় নির্বাচনী উত্তাপ ক্রমেই বাড়ছে। আনুষ্ঠানিক প্রচারণায় বিধি-নিষেধ থাকলেও প্রার্থীদের দলীয় ও ব্যক্তিগত কর্মসূচিতে মাঠ গরম হয়ে উঠছে। জেলার অন্যান্য আসনের মতো এখানেও মূল প্রতিদ্বন্দ্বিতা গড়ে উঠেছে বিএনপি ও জামায়াত ইসলামীর মনোনীত প্রার্থীর মধ্যে। বিএনপি থেকে মনোনয়ন পেয়েছেন দলটির সাবেক জেলা সভাপতি আমীর এজাজ খান।
অপরদিকে জামায়াত ইসলামী প্রথমবারের মতো সনাতন ধর্মাবলম্বী প্রার্থী হিসেবে মনোনয়ন দিয়েছে কৃষ্ণ নন্দীকে, যিনি দলটির ডুমুরিয়া উপজেলা সনাতনী শাখার সভাপতি।
*সনাতনী ভোটারের আধিক্য*
রাজনৈতিক দলগুলোর সূত্রে জানা যায়, এই আসনে মোট ভোটার সংখ্যা ৩ লাখ ৩ হাজার ৫৪২ জন। ভোটকেন্দ্র রয়েছে ১১৯টি এবং বুথ ৬৩৭টি। এর মধ্যে প্রায় ৪৬ থেকে ৪৮ শতাংশ ভোটার সনাতন ধর্মাবলম্বী, যা এই আসনে জয়–পরাজয়ের ক্ষেত্রে বড় ভূমিকা রাখে।
অতীত নির্বাচনের চিত্র,
নব্বই পরবর্তী আটটি জাতীয় সংসদ নির্বাচনের মধ্যে মাত্র একবার—১৯৯৬ সালের ফেব্রুয়ারির নির্বাচনে—বিএনপি প্রার্থী এই আসনে জয়ী হন। বাকি নির্বাচনে অধিকাংশ সময় বিজয়ী হয়েছেন সনাতন ধর্মাবলম্বী প্রার্থীরা। এ সময় একবার শেখ হারুনুর রশীদ ও একবার শেখ হাসিনা নির্বাচিত হলেও, অন্যান্য নির্বাচনগুলোতে সনাতন ধর্মের প্রার্থীরাই জয় লাভ করেছেন।
প্রার্থীর সংখ্যা ও পরিচয়,
মনোনয়ন যাচাই শেষে এই আসনে মোট ১০ জন বৈধ প্রার্থী রয়েছেন। এর মধ্যে ৬ জন সনাতন ধর্মাবলম্বী। প্রার্থীদের মধ্যে রয়েছেন—
বিএনপি : আমীর এজাজ খান
জামায়াত ইসলামী : কৃষ্ণ নন্দী
বাংলাদেশের কমিউনিস্ট পার্টি : কিশোর কুমার রায় ইসলামী আন্দোলন : আবু সাঈদ
সম-অধিকার পার্টি (বিইপি) : সুব্রত মণ্ডল
খেলাফত মজলিস : ফিরোজুল ইসলাম
বাংলাদেশ মাইনরিটি জনতা পার্টি : প্রবীর গোপাল রায়
স্বতন্ত্র : সুনীল শুভ রায়
জাতীয় পার্টি : জাহাঙ্গীর হোসেন
জেএসডি : প্রসেনজিৎ দত্ত
প্রার্থীদের বক্তব্য বিএনপি মনোনীত প্রার্থী আমীর এজাজ খান বলেন, প্রতিটি নির্বাচনে এই আসনে বিএনপির ভোট বেড়েছে। বিগত নির্বাচনগুলোর ফলাফলে মানুষ প্রতারিত হয়েছে। এখন তারা পরিবর্তন চায়। সনাতন ধর্মাবলম্বীরাও সেই পরিবর্তনের পক্ষে। মানুষ এখন ধানের শীষের দিকেই একজোট হচ্ছে।
অন্যদিকে জামায়াত মনোনীত প্রার্থী কৃষ্ণ নন্দী বলেন, আনুষ্ঠানিক প্রচারণা না থাকলেও সাধারণ মানুষ স্বতঃস্ফূর্তভাবে আমার পক্ষে কাজ করছে। শুধু হিন্দু নয়, সব ধর্মের মানুষের সমর্থন পাচ্ছি। পরিবর্তন চাইলে জামায়াতকেই ভোট দিতে হবে। ভোটারদের প্রত্যাশা
দাকোপ এলাকার নাগরিক নেতা অ্যাডভোকেট নিতাই গোলদার বলেন, ভোটাররা এখনও চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেয়নি। তবে যিনি নির্বাচিত হবেন, আমরা চাই তিনি উপকূলীয় এলাকার জলবায়ু সংকট, নদীভাঙন ও জীবন-জীবিকার সমস্যাগুলো সমাধানে কার্যকর ভূমিকা রাখবেন। সব মিলিয়ে খুলনা-১ আসনে এবারও সনাতনী ভোটই জয়–পরাজয়ের নিয়ামক শক্তি হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে বলে মনে করছেন রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা।
দৈনিক ‘নাগরিক ভাবনা’র অনলাইন পোর্টালটি ঢাকা হতে শেখ রিফান আহমেদ-এর সম্পাদনায় পরিচালিত।
হটলাইন: 09649-230220 ও 01915-708187, ইমেইল: info.nagorikvabna@gmail.com
@নাগরিক ভাবনা কর্তৃক সর্বস্বত্ত্ব সংরক্ষিত