
প্রিন্ট এর তারিখঃ এপ্রিল ২৬, ২০২৬, ৯:০৬ পি.এম || প্রকাশের তারিখঃ এপ্রিল ২৬, ২০২৬, ৫:৩৬ পি.এম
সন্তানের সামনে মাকে ধর্ষণ, ধামাচাপা দিতে ইউপি সদস্যের হুমকি
![]()
জাহিদ হাসান, ময়মনসিংহ প্রতিনিধি: কন্যা সন্তানের সামনে গণধর্ষণের শিকার হয়েছেন এক নারী(২৮)। শ্বশুর বাড়ি ভালুকা যাওয়ার সময় পথ ভুল করে নান্দাইল চলে আসার পর এই ধর্ষণের ঘটনা ঘটে। ঘটনার পাঁচদিন পর শনিবার (২৫ এপ্রিল) দুপুরে স্থানীয় সাংবাদিকদের মাধ্যমে খবর পেয়ে নারীকে উদ্ধার করেছে নান্দাইল মডেল থানা পুলিশ। গত সোমবার ময়মনসিংহ বাবার বাড়ি থেকে ভালুকা শ্বশুর বাড়িতে যাওয়ার জন্য রওনা দেয় ঐ নারী। রাস্তা ভুল করে নান্দাইল(চৌরাস্তা) চলে আসেন। তখন তাকে পৌঁছে দেওয়ার কথা বলে তাড়াইল সড়কের শিমুলতলা এলাকায় একটি বিলের কাছে নিয়ে ধর্ষণ করা হয়।।
রাতের আঁধারে নান্দাইল-তাড়াইল সড়কের পাশে শিশু কন্যাকে নিয়ে কাঁদতে দেখে ইজিবাইক চালক সুজন মিয়া ঘটনা শুনেন। পরে উপজেলার রাজগাতি ইউনিয়নের কান্দিউড়া গ্রামের মতি মিয়ার বাড়িতে তাকে আশ্রয়ের ব্যবস্থা করে দেন।
ভুক্তভোগী নারী জানান, গত সোমবার ময়মনসিংহের বাবার বাড়ি থেকে ভালুকা শ্বশুর বাড়িতে যেতে রওনা হন। ভুলক্রমে নান্দাইলে চলে আসেন। এক ইজিবাইক চালক পৌঁছে দেওয়ার কথা বলে সারাদিন ইজিবাইকে নিয়ে ঘুরাঘুরি করে রাতের বেলায় নান্দাইল-তাড়াইল সড়কের শিমুলতলায় নিয়ে যায়। সেখানে এক বিলের পাশে চার জনে মিলে গণধর্ষণ করে। সাথে থাকা শিশু কন্যা চিৎকার দিলে তাকেও মারধর করে ধর্ষণকারীরা। এক পর্যায়ে বিলের পাশের একটি বাড়িতে নিয়েও তাকে ধর্ষন করে। পরে সুজন মিয়া নামের এক ইজিবাইক চালকের সহযোগিতায় আশ্রয় পান।
ইজিবাইক চালক সুজন মিয়া জানান, ‘নান্দাইল-তাড়াইল সড়কে ইজিবাইক নিয়ে যাবার পথে শিশু কন্যাকে কোলে নিয়ে নারীকে কাঁদতে দেখি। তারপর সামনে এগিয়ে জানতে চাইলে ধর্ষণের বিষয়টি জানান। তারপর নারীকে উদ্ধার করে মতি মিয়ার বাড়িতে আশ্রয়ে রাখি’।এদিকে কান্দিউড়া গ্রামের আব্দুল জব্বারের পুত্র কাজল মিয়া আত্নীয় পরিচয়ে ঐ নারীকে নিয়ে যেতে চাইলে তাকে চিনেন না বলে জানালে সে চলে যায়।
মতি মিয়ার বাড়িতে এক নারী আশ্রয়ে আছে খবর পেয়ে গাংগাইল ইউনিয়নের সাবেক ইউপি সদস্য মো. বাসারত মিয়া এ ঘটনাটিকে ধামাচাপা দিতে চেষ্টা করেন। তিনি নারীকে আশ্রয়দাতার বাড়িতে গিয়ে হুমকিও দিয়েছেন। দ্রুত কিছু টাকা জোগাড় করে তার কাছে দিতে, অন্যথায় ঝামেলায় পড়তে হবে বলে আশ্রয়দাতাকে জানান ওই ইউপি সদস্য।কেন এ ঘটনাটি ধামাচাপা দিতে চেয়েছিল এবিষয়ে জানতে সাবেক ইউপি সদস্যের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
আশ্রয়দাতা মতি মিয়া বলেন- ‘মেয়েটিকে এক শিশু বাচ্চাসহ রাতের বেলায় প্রতিবেশী সুজন মিয়া রেখে গেছে। স্থানীয় সাবেক মেম্বার (ইউপি সদস্য) নারীর বিষয়টি গোপন রাখতে হুমকি দেন। এবং আমি যাতে ঝামেলায় না পড়ি সেজন্য তাকে ২০ হাজার টাকা দিতে বলে। এঘটনার সাথে মেম্বারের লোকজন জড়িত থাকতে পারে বলে ধারণা করছি’।
নান্দাইল মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. আজহারুল ইসলাম বলেন, ‘খবর পেয়ে নির্যাতনের শিকার নারীকে উদ্ধার করা হয়েছে। কারা ধর্ষণে সম্পৃক্ত তাদের শনাক্ত করতে এবং ধরতে অভিযান অব্যাহত রয়েছে। এ বিষয়ে বাকি আইনগত ব্যবস্থা প্রক্রীয়াধীন’।
দৈনিক ‘নাগরিক ভাবনা’র অনলাইন পোর্টালটি ঢাকা হতে শেখ রিফান আহমেদ-এর সম্পাদনায় পরিচালিত।
হটলাইন: 09649-230220 ও 01915-708187, ইমেইল: info.nagorikvabna@gmail.com
@নাগরিক ভাবনা কর্তৃক সর্বস্বত্ত্ব সংরক্ষিত