প্রিন্ট এর তারিখঃ অক্টোবর ১২, ২০২৬, ১০:৫৬ পি.এম || প্রকাশের তারিখঃ জুন ২৯, ২০২৬, ১২:৪১ পি.এম
সলঙ্গায় মহাসড়কে ফিল্মি স্টাইলে ডাকাত আটক, আহত পুলিশ সদস্য

মনিরুল ইসলাম,সিরাজগঞ্জ: সিরাজগঞ্জের সলঙ্গায় মহাসড়কে ফিল্মি স্টাইলে ব্যারিকেড দিয়ে এক আন্তঃজেলা ডাকাত চক্রের সদস্যকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ।
অভিযান চলাকালে ডাকাত দলের গাড়ির ধাক্কায় রুহুল নামে এক পুলিশ কনস্টেবল গুরুতর আহত হয়েছেন। ঘটনাস্থল থেকে ডাকাতির কাজে ব্যবহৃত একটি পিকআপ ভ্যান এবং দেশীয় অস্ত্রসহ বিপুল পরিমাণ সরঞ্জাম উদ্ধার করা হয়েছে।
শনিবার (২৭ জুন) বিকেল ৪টায় সলঙ্গা থানায় আয়োজিত এক প্রেস ব্রিফিংয়ে এসব তথ্য নিশ্চিত করেছেন রায়গঞ্জ-সলঙ্গা সার্কেলের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মো. সাইফুল ইসলাম।
গ্রেফতারকৃত ডাকাত সদস্য সুরুজ রংপুর জেলার বাসিন্দা এবং আন্তঃজেলা ডাকাত চক্রের সক্রিয় সদস্য বলে জানিয়েছে পুলিশ।
প্রেস ব্রিফিংয়ে পুলিশ বলেন, সিরাজগঞ্জ জেলা পুলিশ সুপার জনাব সাইফুর ইসলাম, বিপিএম (বার)-এর বিশেষ নির্দেশনা ও তত্ত্বাবধানে গত কয়েকদিন যাবৎ এই ডাকাত চক্রটিকে কঠোর গোয়েন্দা নজরদারিতে রাখা হয়েছিল। সিরাজগঞ্জ ও আশপাশের জেলাগুলোতে সাম্প্রতিক সময়ে ঘটে যাওয়া বেশ কয়েকটি ডাকাতি ও চুরির ঘটনা বিশ্লেষণ করে পুলিশ এই চক্রটিকে শনাক্ত করে।
এর আগে, গত ২৪ জুন গভীর রাতে এই চক্রটি সলঙ্গা থানা এলাকার মহাসড়কে প্রবেশ করলে সলঙ্গা থানার অফিসার ইনচার্জের (ওসি) নেতৃত্বে একটি টিম তাদের ধাওয়া করে।
তবে চতুর ডাকাত দল একটি সংযোগ সড়ক (লিংক রোড) দিয়ে পালিয়ে যাওয়ায় সেদিন তাদের ধরা সম্ভব হয়নি।
এরই ধারাবাহিকতায়, শুক্রবার রাতে চক্রটির গতিবিধি পুনরায় নজরে আসলে পুলিশ সুপার সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের সর্বোচ্চ সতর্ক ও তৎপর থাকার নির্দেশ দেন।
সন্ধ্যা থেকেই ওসির নেতৃত্বে পুলিশের একাধিক টিম হাটিকুমরুল গোলচত্বর ও আশপাশের গুরুত্বপূর্ণ পয়েন্টে অবস্থান নেয়। ডাকাতদের আটকাতে পুলিশের গাড়ির পাশাপাশি কৌশলগত কারণে একাধিক বেসামরিক (সিভিল) ট্রাকও প্রস্তুত রাখা হয়।
গভীর রাতে ডাকাত দলের গাড়িটি হাটিকুমরুল ঢাকাগামী আন্ডারপাস অতিক্রম করার সময় পুলিশ তাদের থামার সংকেত দেয়। কিন্তু ডাকাতরা সংকেত অমান্য করে বেপরোয়া গতিতে পালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করলে হাটিকুমরুল ঢাকা বাসস্ট্যান্ড সংলগ্ন প্রধান সড়কে সিভিল ট্রাক দিয়ে সামনে ও পেছনে ব্যারিকেড সৃষ্টি করে পুলিশ।
এ সময় অবরুদ্ধ ডাকাত চক্রটি পালানোর জন্য পেছনে থাকা ওসির গাড়িটিকে সজোরে ধাক্কা দিয়ে পিষে ফেলার চেষ্টা করে। এতে পুলিশের পিকআপ ভ্যানের সামনের অংশ দুমড়েমুচড়ে যায় এবং গাড়িতে থাকা পুলিশ কনস্টেবল রুহুল ছিটকে পড়ে মারাত্মকভাবে আহত হন।
একপর্যায়ে গাড়িটি পুরোপুরি আটকে গেলে ডাকাত সদস্যরা গাড়ি ফেলে দৌঁড়ে পালানোর চেষ্টা করে। তখন পুলিশ ধাওয়া করে সুরুজ নামের ওই ডাকাতকে হাতেনাতে গ্রেফতার করতে সক্ষম হলেও বাকিরা পালিয়ে যায়। ঘটনাস্থল থেকে ডাকাতির কাজে ব্যবহৃত একটি পিকআপ, গ্রিল কাটার, চাপাতি, রশি, রিপার, লোহার রড, বালি ও ইটের টুকরা এবং দুটি মোবাইল ফোন উদ্ধার করা হয়।
এদিকে, আহত কনস্টেবল রুহুলকে দ্রুত উদ্ধার করে সিরাজগঞ্জ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। তিনি বর্তমানে হাসপাতালের সার্জারি বিভাগে চিকিৎসাধীন রয়েছেন এবং তার অবস্থা স্থিতিশীল বলে জানিয়েছে পুলিশ।
অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মো. সাইফুল ইসলাম জানান, প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে গ্রেফতারকৃত সুরুজ ডাকাতির সাথে নিজের সম্পৃক্ততার কথা স্বীকার করেছে এবং ইতিপূর্বে তার বিরুদ্ধে একাদিক ডাকাতি মামলাও রয়েছে এবং চক্রের অন্য সদস্যদের বিষয়ে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ তথ্য দিয়েছে। প্রাপ্ত তথ্য যাচাই-বাছাই করে পলাতক ডাকাতদের গ্রেফতারে পুলিশের সর্বোচ্চ অভিযান অব্যাহত রয়েছে।
এই ঘটনায় ৮ জন এজাহারনামীয় এবং অজ্ঞাতনামা আরও বেশ কয়েকজনকে আসামি করে সলঙ্গা থানায় একটি নিয়মিত মামলা রুজু করা হয়েছে।
প্রধান কার্যালয়: ৫০/এফ, ইনার সার্কুলার (ভিআইপি) রোড, নয়াপল্টন, পল্টন মডেল থানা, ঢাকা-১০০০।
হটলাইন: 09643-230220, মুঠোফোন: 01915-708187, মেইল: info.nagorikvabna@gmail.com
@Copyright & reserved by NAGORIK BHABNA