প্রধান অতিথির বক্তব্যে ভূমিমন্ত্রী বলেন, প্রশাসনের কর্মকর্তারা রাষ্ট্রের গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্বে নিয়োজিত। তাই দায়িত্ব পালনে কোনো ধরনের গাফিলতি বা পক্ষপাতিত্ব গ্রহণযোগ্য নয়। তিনি উল্লেখ করেন, আইন সবার জন্য সমানভাবে প্রযোজ্য—কোনো ব্যক্তি, পরিচয় বা প্রভাবের ভিত্তিতে আইনের প্রয়োগে ভিন্নতা থাকা উচিত নয়।
তিনি বলেন, প্রশাসন ও জনগণের সম্পর্ক হবে সহযোগিতাপূর্ণ ও সেবামুখী। নাগরিকরা যাতে হয়রানি ছাড়াই সেবা পেতে পারেন, সে বিষয়ে কর্মকর্তাদের সচেতন থাকার আহ্বান জানান তিনি। দাপ্তরিক কাজে দক্ষতা বৃদ্ধি, সময়ানুবর্তিতা এবং স্বচ্ছ প্রক্রিয়া অনুসরণের ওপরও গুরুত্ব দেন মন্ত্রী।
রমজান মাসকে সামনে রেখে বাজার পরিস্থিতি স্থিতিশীল রাখা, নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের সরবরাহ নিশ্চিত করা এবং ভেজাল ও মজুতদারি প্রতিরোধে কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দেন তিনি। পাশাপাশি আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে প্রশাসন, আইন প্রয়োগকারী সংস্থা ও সংশ্লিষ্ট দপ্তরগুলোর মধ্যে সমন্বয় জোরদারের কথা বলেন।
মাদকবিরোধী কার্যক্রম প্রসঙ্গে তিনি কঠোর অবস্থানের কথা পুনর্ব্যক্ত করে বলেন, সমাজকে মাদকের ক্ষতিকর প্রভাব থেকে রক্ষা করতে হলে প্রশাসনকে আপসহীন থাকতে হবে। প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা ও নিয়মিত তদারকির মাধ্যমে এ কার্যক্রম আরও জোরদার করার আহ্বান জানান তিনি।
মন্ত্রী আরও বলেন, নির্বাচনের পরবর্তী সময়েও সরকারি কার্যক্রম সাংবিধানিক কাঠামোর মধ্যেই পরিচালিত হবে এবং আইনের শাসন অক্ষুণ্ণ থাকবে। উন্নয়ন কর্মকাণ্ডে গতি আনতে খাল খনন, জলাবদ্ধতা নিরসন, পরিবেশ সংরক্ষণ ও বৃক্ষরোপণ কর্মসূচির ওপর গুরুত্বারোপ করেন তিনি। এসব উদ্যোগ বাস্তবায়নে মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তাদের সক্রিয় ভূমিকা রাখতে হবে বলেও উল্লেখ করেন।
সভায় সভাপতিত্ব করেন বিভাগীয় কমিশনার এন. এম. বজলুর রশীদ। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন রাজশাহী-৩ আসনের সংসদ সদস্য অ্যাডভোকেট শফিকুল হক মিলন। এছাড়া বিভাগীয় ও জেলা প্রশাসনের বিভিন্ন দপ্তরের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা মতবিনিময়ে অংশ নেন।
সভায় কর্মকর্তারা প্রশাসনিক কার্যক্রম আরও জনবান্ধব ও কার্যকর করার বিষয়ে বিভিন্ন মতামত তুলে ধরেন। শেষে সমন্বিত উদ্যোগের মাধ্যমে সুশাসন প্রতিষ্ঠা ও উন্নয়ন কার্যক্রম ত্বরান্বিত করার প্রত্যয় ব্যক্ত করা হয়।