
প্রিন্ট এর তারিখঃ এপ্রিল ২২, ২০২৬, ৮:১৫ এ.এম || প্রকাশের তারিখঃ অগাস্ট ২, ২০২৫, ১১:১৫ পি.এম
সাবেক এমপির বাড়িতে চলছে সরকারি দপ্তরের কার্যক্রম

কুড়িগ্রামের উলিপুরে সরকারি নীতিমালা লঙ্ঘন করে এখনো একটি সরকারি দপ্তর কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছে সাবেক সংসদ সদস্য এম এ মতিনের ব্যক্তিগত বাসভবনে। দীর্ঘদিন ধরে উক্ত বাড়িতে জাতীয় মহিলা সংস্থার উলিপুর শাখা ভাড়া অবস্থায় থাকলেও এ নিয়ে প্রশাসনের কার্যকর কোনো পদক্ষেপ নেই—এমন অভিযোগ উঠেছে সচেতন মহলের পক্ষ থেকে।
সরেজমিন অনুসন্ধানে জানা গেছে, ২০১১ সালের শেষ নাগাদ মহিলা ও শিশু বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের অধীনে জাতীয় মহিলা সংস্থার উলিপুর কার্যালয়ের কার্যক্রম শুরু হয়। শুরু থেকেই সংস্থাটির অফিস স্থাপন করা হয় তৎকালীন আওয়ামী লীগ নেত্রী অধ্যক্ষ নাসিমা বানুর প্রত্যক্ষ হস্তক্ষেপে সাবেক এমপি এম এ মতিনের জোদ্দারপাড়াস্থ বাড়িতে। প্রতি মাসে ৮ হাজার টাকা ভাড়ার বিনিময়ে সরকারি তহবিল থেকে অর্থ পরিশোধ করা হচ্ছে ওই ব্যক্তিগত বাসভবনে।
২০২৪ সালের ৫ আগস্টের রাজনৈতিক অস্থিরতার সময় শেখ হাসিনা পালিয়ে যাওয়ার খবরে উত্তাল হয়ে ওঠে স্থানীয় ছাত্র জনতা। তাদের রোষানলে পড়ে এম এ মতিনের বাড়ি। ছাত্র জনতার আগুনে তিনতলা বিশিষ্ট ভবনটি ক্ষতিগ্রস্ত হয়, সেই সঙ্গে জাতীয় মহিলা সংস্থার ফার্নিচার ও দাপ্তরিক কাগজপত্রও নষ্ট হয়। এরপর সংস্থার মাঠ সমন্বয়কারী শংকর কুমারের সহায়তায় একই ভবনের পেছনের নির্মাণাধীন অংশে সংস্কার করে দপ্তরের কার্যক্রম পুনরায় শুরু করা হয়।
এমন ঘটনায় চরম অসন্তোষ প্রকাশ করেছেন স্থানীয় সচেতন নাগরিকরা। তাদের ভাষ্য, “এটি শুধু সরকারি নীতিমালা লঙ্ঘন নয়, বরং একটি রাজনৈতিক আশ্রয়-প্রশ্রয় ও ফ্যাসিবাদী শক্তিকে পুনর্বাসনের অপচেষ্টা।”
স্থানীয় প্রশাসনের এক কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, “এই ধরনের ভাড়া প্রক্রিয়া সরকারি নিয়মের পরিপন্থী। তবে রাজনৈতিক প্রভাবের কারণে কেউ মুখ খুলতে সাহস পান না।”
এদিকে জাতীয় মহিলা সংস্থার উলিপুর মাঠ সমন্বয়কারী শংকর কুমারের ভূমিকা নিয়েও প্রশ্ন তুলেছেন অনেকে। তার বিরুদ্ধে অভিযোগ, তিনি রাজনৈতিক সুবিধাভোগীদের স্বার্থরক্ষায় নিয়োজিত থেকে সংস্থাটিকে ফ্যাসিস্ট আশ্রয়কেন্দ্রে পরিণত করেছেন।
জনমনে এখন প্রশ্ন—সরকারি অর্থে পরিচালিত একটি দপ্তর কিভাবে এখনো একজন বিতর্কিত সাবেক সংসদ সদস্যের বাড়িতে পরিচালিত হচ্ছে? এতে করে রাষ্ট্রীয় সম্পদের অপব্যবহার ও সাবেক বিতর্কিত এমপিকে পরোক্ষভাবে পুনর্বাসনের অভিযোগ আরও জোরালো হয়েছে।
বিষয়টি নিয়ে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও জাতীয় মহিলা সংস্থার উপজেলা চেয়ারম্যান নয়ন কুমার সাহা জানান, “বিষয়টি আমাদের নজরে এসেছে। দ্রুতই ওই ভবন থেকে সংস্থার কার্যালয় সরিয়ে নেয়া হবে।”
দৈনিক ‘নাগরিক ভাবনা’র অনলাইন পোর্টালটি ঢাকা হতে শেখ রিফান আহমেদ-এর সম্পাদনায় পরিচালিত।
হটলাইন: 09649-230220 ও 01915-708187, ইমেইল: info.nagorikvabna@gmail.com
@নাগরিক ভাবনা কর্তৃক সর্বস্বত্ত্ব সংরক্ষিত