প্রিন্ট এর তারিখঃ অক্টোবর ১৪, ২০২৬, ৮:৫৩ পি.এম || প্রকাশের তারিখঃ অগাস্ট ২৫, ২০২৬, ৩:৪৯ পি.এম
সাবেক চেয়ারম্যানের বাড়িতে ৭২-বস্তা সার: অবৈধ মজুদের অভিযোগে জরিমানা

মজনু মিয়া. গাইবান্ধা: সার নিয়ে বাজারে যখন কৃষকদের মধ্যে উদ্বেগ ও অনিশ্চয়তা, ঠিক সেই সময়ে গাইবান্ধার সাদুল্লাপুরে সাবেক এক ইউপি চেয়ারম্যানের বাড়ি থেকে বিপুল পরিমাণ রাসায়নিক সার উদ্ধারের ঘটনায় নানা প্রশ্ন উঠেছে। গোপন সংবাদের ভিত্তিতে অভিযান চালিয়ে ৭২ বস্তা সার উদ্ধার করেছে উপজেলা প্রশাসন। এ ঘটনায় সাবেক চেয়ারম্যান মো. শাহিন সরকারকে ৩০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়েছে।
মঙ্গলবার (২৫ আগস্ট) সকালে সাদুল্লাপুর উপজেলার উত্তর মন্দুয়ার এলাকায় শাহিন সরকারের বাড়িতে অভিযান পরিচালনা করা হয়। অভিযানে নেতৃত্ব দেন উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) জসিম উদ্দিন।
প্রশাসন সূত্রে জানা যায়, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে অভিযান চালিয়ে বাড়িতে মজুদ অবস্থায় বিভিন্ন ধরনের রাসায়নিক সার পাওয়া যায়। এর মধ্যে রয়েছে—১৩ বস্তা ইউরিয়া, ২৮ বস্তা জিপসাম, ১৬ বস্তা ডিএপি, ১৩ বস্তা টিএসপি এবং ২ বস্তা পটাশ। উদ্ধার করা ৭২ বস্তা সারের আনুমানিক মূল্য ৫৬ হাজার ৭০০ টাকা।
সার কৃষকের, ব্যক্তিগত গুদামে কেন?
কৃষকদের জন্য সরবরাহ ও বরাদ্দ করা সার কীভাবে একজন সাবেক জনপ্রতিনিধির বাড়িতে এত বিপুল পরিমাণে মজুদ হলো—এ প্রশ্নই এখন সামনে এসেছে। সার মজুদের পেছনে কারা জড়িত, কোথা থেকে এসব সার সংগ্রহ করা হয়েছে এবং এগুলো কোথায় সরবরাহ বা বিক্রির উদ্দেশ্যে রাখা হয়েছিল—এসব বিষয়ও খতিয়ে দেখা জরুরি বলে মনে করছেন স্থানীয়রা।
কারণ, সার বাজারে কৃত্রিম সংকট তৈরি হলে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হন প্রান্তিক কৃষক। সংকটের সুযোগে দাম বাড়ে, কৃষকের উৎপাদন খরচ বাড়ে এবং শেষ পর্যন্ত এর প্রভাব পড়ে সাধারণ ভোক্তার ওপরও। এ বিষয়ে কঠোর নজরদারির দাবি স্থানীয়দের শুধু জরিমানা করেই দায় শেষ না করে অবৈধভাবে মজুদ করা সারের উৎস ও সম্ভাব্য যোগসূত্র খুঁজে বের করার দাবি জানিয়েছেন স্থানীয়রা। একই সঙ্গে সার মজুদ, কালোবাজারি কিংবা সরকারি বরাদ্দের সার অন্যত্র সরিয়ে নেওয়ার সঙ্গে কেউ জড়িত থাকলে তার বিরুদ্ধে কঠোর আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি উঠেছে।
উপজেলা প্রশাসন জানিয়েছে, কৃষকদের জন্য বরাদ্দকৃত সার যাতে অবৈধভাবে মজুদ, বিক্রি কিংবা অন্যত্র সরিয়ে নেওয়া না হয়, সে বিষয়ে নিয়মিত নজরদারি ও অভিযান অব্যাহত থাকবে।
প্রধান কার্যালয়: ৫০/এফ, ইনার সার্কুলার (ভিআইপি) রোড, নয়াপল্টন, পল্টন মডেল থানা, ঢাকা-১০০০।
হটলাইন: 09643-230220, মুঠোফোন: 01915-708187, মেইল: info.nagorikvabna@gmail.com
@Copyright & reserved by NAGORIK BHABNA