প্রিন্ট এর তারিখঃ অক্টোবর ২৮, ২০২৬, ৭:৩৯ পি.এম || প্রকাশের তারিখঃ অক্টোবর ২৮, ২০২৬, ৪:১৭ পি.এম
![]()
ডা. মুহাম্মাদ মাহতাব হোসাইন মাজেদ
স্ট্রোক একটি গুরুতর স্নায়বিক জরুরি অবস্থা, যা কয়েক মিনিটের মধ্যে মানুষের জীবন ও স্বাভাবিক কর্মক্ষমতা বদলে দিতে পারে। হঠাৎ মুখ বেঁকে যাওয়া, শরীরের এক পাশ দুর্বল হয়ে পড়া, কথা জড়িয়ে যাওয়া কিংবা দৃষ্টিশক্তিতে সমস্যা দেখা দেওয়া স্ট্রোকের গুরুত্বপূর্ণ সতর্কসংকেত। সময়মতো চিকিৎসা না পেলে রোগীর মৃত্যু, পক্ষাঘাত, কথা বলার অক্ষমতা ও দীর্ঘমেয়াদি প্রতিবন্ধিতার ঝুঁকি বাড়ে। তবে ঝুঁকির কারণ নিয়ন্ত্রণ, লক্ষণ দ্রুত শনাক্তকরণ এবং জরুরি চিকিৎসার মাধ্যমে অনেক ক্ষেত্রেই প্রাণহানি ও অক্ষমতা কমানো সম্ভব।
প্রতি বছর ২৯ অক্টোবর বিশ্ব স্ট্রোক দিবস পালিত হয়। দিবসটির মূল লক্ষ্য স্ট্রোকের কারণ, লক্ষণ, প্রতিরোধ, জরুরি চিকিৎসা ও পুনর্বাসন সম্পর্কে সচেতনতা বৃদ্ধি করা। এ উপলক্ষে ব্যক্তি, পরিবার, সমাজ ও স্বাস্থ্যব্যবস্থার সমন্বিত উদ্যোগের গুরুত্ব তুলে ধরা প্রয়োজন।
স্ট্রোক কী?
মস্তিষ্কের কোনো অংশে রক্তপ্রবাহ বন্ধ হয়ে গেলে অথবা মস্তিষ্কের কোনো রক্তনালি ফেটে রক্তক্ষরণ ঘটলে স্ট্রোক হয়। মস্তিষ্কের কোষ অক্সিজেন ও পুষ্টি থেকে বঞ্চিত হলে দ্রুত ক্ষতিগ্রস্ত হতে শুরু করে। তাই স্ট্রোকের চিকিৎসায় প্রতিটি মিনিট গুরুত্বপূর্ণ। হঠাৎ শারীরিক দুর্বলতা বা কথা বলার সমস্যাকে সাধারণ অসুস্থতা ভেবে অবহেলা করা বিপজ্জনক।
স্ট্রোকের প্রকারভেদ
স্ট্রোক প্রধানত দুই ধরনের।
১. ইস্কেমিক স্ট্রোক: মস্তিষ্কে রক্ত সরবরাহকারী ধমনিতে রক্তের জমাট বা অন্য কোনো বাধা সৃষ্টি হলে এ ধরনের স্ট্রোক হয়। এটি স্ট্রোকের সবচেয়ে সাধারণ ধরন।
২. হেমোরেজিক স্ট্রোক: মস্তিষ্কের কোনো রক্তনালি ফেটে রক্তক্ষরণ হলে এ ধরনের স্ট্রোক হয়। অনিয়ন্ত্রিত উচ্চ রক্তচাপ, রক্তনালির অস্বাভাবিকতা ও কিছু ক্ষেত্রে অ্যানিউরিজম এর সঙ্গে সম্পর্কিত।
৩. ক্ষণস্থায়ী ইস্কেমিক অ্যাটাক: মস্তিষ্কে রক্তপ্রবাহ সাময়িকভাবে বাধাগ্রস্ত হয়ে স্ট্রোকের মতো লক্ষণ দেখা দিতে পারে, যা পরে সেরে যায়। একে অনেক সময় ক্ষুদ্র স্ট্রোক বলা হয়। লক্ষণ সেরে গেলেও এটি ভবিষ্যতে বড় স্ট্রোকের সতর্কসংকেত হতে পারে। তাই দ্রুত চিকিৎসা নেওয়া জরুরি।
স্ট্রোকের কারণ ও ঝুঁকির বিষয়
স্ট্রোকের ঝুঁকি বাড়ায় এমন কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ কারণ হলো—
* উচ্চ রক্তচাপ: স্ট্রোকের অন্যতম প্রধান নিয়ন্ত্রণযোগ্য ঝুঁকির কারণ। দীর্ঘদিন রক্তচাপ বেশি থাকলে রক্তনালির ক্ষতি হতে পারে।
* ডায়াবেটিস: রক্তে শর্করা দীর্ঘদিন বেশি থাকলে রক্তনালির ক্ষতি ও রক্তপ্রবাহের সমস্যা দেখা দিতে পারে।
* রক্তে অতিরিক্ত কোলেস্টেরল: ধমনিতে চর্বিজাতীয় পদার্থ জমে রক্ত চলাচলে বাধা সৃষ্টি করতে পারে।
* হৃদ্রোগ: বিশেষত অ্যাট্রিয়াল ফিব্রিলেশন বা অনিয়মিত হৃদ্স্পন্দনের কারণে রক্ত জমাট বেঁধে মস্তিষ্কে পৌঁছাতে পারে।
* ধূমপান ও তামাক সেবন: রক্তনালির ক্ষতি এবং রক্ত জমাট বাঁধার ঝুঁকি বাড়ায়।
* স্থূলতা ও শারীরিক নিষ্ক্রিয়তা: উচ্চ রক্তচাপ, ডায়াবেটিসসহ অন্যান্য ঝুঁকি বাড়াতে পারে।
* অস্বাস্থ্যকর খাদ্যাভ্যাস: অতিরিক্ত লবণ, অস্বাস্থ্যকর চর্বি ও অতিপ্রক্রিয়াজাত খাবার নিয়মিত খাওয়া ঝুঁকির সঙ্গে সম্পর্কিত।
* বয়স ও পারিবারিক ইতিহাস: বয়স বাড়ার সঙ্গে ঝুঁকি বাড়ে। তবে তরুণ ও শিশুরাও স্ট্রোকে আক্রান্ত হতে পারে।
স্ট্রোকের লক্ষণ
স্ট্রোকের লক্ষণ সাধারণত হঠাৎ দেখা দেয়। প্রধান লক্ষণগুলো হলো—
১. মুখের এক পাশ বেঁকে যাওয়া বা হাসতে গেলে মুখ অসমান দেখা দেওয়া।
২. শরীরের এক পাশের হাত বা পা দুর্বল হয়ে যাওয়া কিংবা অবশ লাগা।
৩. কথা জড়িয়ে যাওয়া, কথা বলতে অসুবিধা হওয়া অথবা অন্যের কথা বুঝতে সমস্যা হওয়া।
৪. এক বা দুই চোখে হঠাৎ ঝাপসা দেখা কিংবা দৃষ্টিশক্তি হারানো।
৫. হঠাৎ ভারসাম্য হারানো, মাথা ঘোরা বা হাঁটতে অসুবিধা হওয়া।
৬. কোনো স্পষ্ট কারণ ছাড়াই আকস্মিক তীব্র মাথাব্যথা, বিশেষত রক্তক্ষরণজনিত স্ট্রোকে।
স্ট্রোক শনাক্ত করার সহজ উপায় হলো মুখ, হাত ও কথা পরীক্ষা করা। ব্যক্তিকে হাসতে বলুন, দুই হাত তুলতে বলুন এবং একটি সহজ বাক্য বলতে বলুন। মুখ বেঁকে গেলে, এক হাত নেমে এলে বা কথা জড়িয়ে গেলে দ্রুত জরুরি চিকিৎসার ব্যবস্থা করুন।
নারী-পুরুষ ও শিশুর স্ট্রোকের ঝুঁকি
* নারীদের ক্ষেত্রে: গর্ভাবস্থা ও প্রসব-পরবর্তী সময়, উচ্চ রক্তচাপ, কিছু হরমোন-সম্পর্কিত পরিস্থিতি এবং বয়সজনিত পরিবর্তন ঝুঁকি মূল্যায়নে গুরুত্বপূর্ণ। নারীদের স্ট্রোকের সঙ্গে কখনো বিভ্রান্তি, দুর্বলতা বা বমিভাবের মতো অতিরিক্ত উপসর্গও দেখা দিতে পারে। এসব লক্ষণকে অবহেলা করা উচিত নয়।
* পুরুষদের ক্ষেত্রে: ধূমপান, উচ্চ রক্তচাপ, ডায়াবেটিস, অতিরিক্ত ওজন, অস্বাস্থ্যকর খাদ্যাভ্যাস এবং শারীরিক নিষ্ক্রিয়তা ঝুঁকি বাড়াতে পারে। তবে স্ট্রোক শুধু পুরুষের রোগ নয়; নারী-পুরুষ উভয়েরই প্রতিরোধ ও দ্রুত চিকিৎসা প্রয়োজন।
* শিশুদের ক্ষেত্রে: নবজাতক থেকে কিশোর বয়স পর্যন্ত স্ট্রোক হতে পারে। জন্মগত হৃদ্রোগ, রক্তের কিছু রোগ, রক্তনালির অস্বাভাবিকতা, সংক্রমণ এবং কিছু গুরুতর অসুস্থতা এর ঝুঁকির সঙ্গে সম্পর্কিত হতে পারে। শিশুর হঠাৎ খিঁচুনি, শরীরের এক পাশ দুর্বল হয়ে যাওয়া, কথা বা চলাফেরায় আকস্মিক পরিবর্তন কিংবা তীব্র মাথাব্যথা হলে দ্রুত হাসপাতালে নিতে হবে। শিশুদের স্ট্রোকের লক্ষণ প্রাপ্তবয়স্কদের তুলনায় ভিন্ন হতে পারে।
স্ট্রোকের জটিলতা
স্ট্রোকের পরিণতি নির্ভর করে মস্তিষ্কের কোন অংশ আক্রান্ত হয়েছে, কতটা ক্ষতি হয়েছে এবং কত দ্রুত চিকিৎসা শুরু হয়েছে তার ওপর। সম্ভাব্য জটিলতার মধ্যে রয়েছে—
* শরীরের এক পাশ বা একাধিক অঙ্গের পক্ষাঘাত।
* কথা বলা, ভাষা বোঝা, পড়া ও লেখার অসুবিধা।
* স্মৃতিশক্তি, মনোযোগ ও সিদ্ধান্ত নেওয়ার ক্ষমতা কমে যাওয়া।
* খাবার গিলতে অসুবিধা এবং খাবার শ্বাসনালিতে প্রবেশের কারণে ফুসফুসে সংক্রমণ।
* হাঁটাচলা ও ভারসাম্যের সমস্যা এবং পড়ে গিয়ে আঘাত পাওয়া।
* দৈনন্দিন কাজে অন্যের সহায়তার প্রয়োজন হওয়া।
* বিষণ্নতা, উদ্বেগ ও সামাজিক বিচ্ছিন্নতা।
গুরুতর ক্ষেত্রে মৃত্যু।
* স্ট্রোকের পর প্রয়োজন অনুযায়ী ফিজিওথেরাপি, বাক্চিকিৎসা, পুষ্টি সহায়তা ও মানসিক সমর্থন রোগীর সক্ষমতা ফিরিয়ে আনতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।
স্ট্রোক নির্ণয়ের পদ্ধতি
স্ট্রোক সন্দেহ হলে চিকিৎসক প্রথমে লক্ষণ কখন শুরু হয়েছে, রোগীর পূর্ববর্তী অসুস্থতা ও ওষুধের ইতিহাস এবং স্নায়বিক অবস্থা মূল্যায়ন করেন। এরপর প্রয়োজন অনুযায়ী পরীক্ষা করা হয়।
* মস্তিষ্কের সিটি স্ক্যান: মস্তিষ্কে রক্তক্ষরণ হয়েছে কি না তা দ্রুত শনাক্ত করতে সহায়তা করে।
* এমআরআই: মস্তিষ্কের সূক্ষ্ম ক্ষত এবং বিশেষত কিছু ইস্কেমিক স্ট্রোক শনাক্ত করতে ব্যবহৃত হয়।
* রক্তনালির পরীক্ষা: সিটি অ্যাঞ্জিওগ্রাফি বা এমআর অ্যাঞ্জিওগ্রাফির মাধ্যমে মস্তিষ্কের রক্তনালিতে বাধা বা অস্বাভাবিকতা শনাক্ত করা যেতে পারে।
* রক্ত পরীক্ষা: রক্তে শর্করা, রক্তের জমাট বাঁধার অবস্থা এবং প্রয়োজন অনুযায়ী অন্যান্য উপাদান পরীক্ষা করা হয়।
* হৃদ্যন্ত্রের পরীক্ষা: ইসিজি ও প্রয়োজনে অন্যান্য পরীক্ষার মাধ্যমে অনিয়মিত হৃদ্স্পন্দন বা সম্ভাব্য উৎস খোঁজা হয়।
স্ট্রোকের লক্ষণ দেখা দিলে বাড়িতে বসে পরীক্ষার ফলের অপেক্ষা করা যাবে না। দ্রুত জরুরি বিভাগে পৌঁছানোই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ।
বিশ্বব্যাপী স্ট্রোকের পরিসংখ্যান
বিশ্বব্যাপী স্ট্রোক মৃত্যু ও দীর্ঘমেয়াদি অক্ষমতার অন্যতম প্রধান কারণ। সাম্প্রতিক বৈশ্বিক রোগের বোঝা-সংক্রান্ত গবেষণার হিসাব অনুযায়ী, বিশ্বে বছরে আনুমানিক ১ কোটি ৩২ লাখ নতুন স্ট্রোকের ঘটনা ঘটে। স্ট্রোক নিয়ে বেঁচে থাকা মানুষের সংখ্যা প্রায় ১০ কোটি ৪৮ লাখ এবং স্ট্রোকজনিত মৃত্যুর সংখ্যা প্রায় ৬৮ লাখ বলে অনুমান করা হয়েছে। বিশ্ব স্ট্রোক সংস্থার বহুল ব্যবহৃত হিসাব অনুযায়ী, প্রতি চারজন প্রাপ্তবয়স্কের মধ্যে একজনের জীবদ্দশায় স্ট্রোক হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।
এ পরিসংখ্যানগুলো বিশ্বব্যাপী স্ট্রোকের ব্যাপকতা ও জনস্বাস্থ্যগত গুরুত্ব তুলে ধরে। তবে এগুলো আনুমানিক গবেষণাভিত্তিক হিসাব; প্রতি বছরের সরাসরি গণনা নয়।
বাংলাদেশেও স্ট্রোক একটি গুরুত্বপূর্ণ
স্বাস্থ্যসমস্যা। জাতীয় পর্যায়ের হালনাগাদ ও পূর্ণাঙ্গ তথ্য ছাড়া দেশের আক্রান্ত ও মৃত্যুর নির্দিষ্ট সংখ্যা উল্লেখ করা উচিত নয়। উচ্চ রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণ, তামাক বর্জন এবং দ্রুত চিকিৎসা নিশ্চিত করা স্ট্রোকজনিত ক্ষতি কমানোর গুরুত্বপূর্ণ উপায়।
স্ট্রোক হলে ঘরে প্রাথমিক করণীয়
স্ট্রোকের লক্ষণ দেখা দিলে ঘরোয়া চিকিৎসা করার পরিবর্তে জরুরি ব্যবস্থা নিতে হবে।
১. দ্রুত জরুরি সেবা নিন: স্থানীয় জরুরি নম্বরে যোগাযোগ করুন অথবা দ্রুত স্ট্রোকের চিকিৎসা দিতে পারে এমন হাসপাতালে যাওয়ার ব্যবস্থা করুন।
২. লক্ষণ শুরুর সময় লিখে রাখুন: রোগীকে সর্বশেষ কখন স্বাভাবিক অবস্থায় দেখা গেছে, সেই সময়টি চিকিৎসককে জানান। এতে চিকিৎসার সিদ্ধান্ত নিতে সুবিধা হয়।
৩. খাবার বা পানি দেবেন না: রোগীর গিলতে সমস্যা থাকতে পারে। এতে খাবার বা পানি শ্বাসনালিতে ঢুকে যেতে পারে।
৪. নিজে থেকে ওষুধ দেবেন না: বিশেষ করে অ্যাসপিরিন, রক্ত পাতলা করার ওষুধ বা অতিরিক্ত রক্তচাপ কমানোর ওষুধ চিকিৎসকের নির্দেশ ছাড়া দেওয়া বিপজ্জনক হতে পারে। কারণ স্ট্রোক রক্তক্ষরণজনিতও হতে পারে।
৫. রোগীকে নিরাপদে রাখুন: রোগীকে একা রাখবেন না। শ্বাসপ্রশ্বাস পর্যবেক্ষণ করুন এবং জরুরি সেবাদাতার নির্দেশ অনুসরণ করুন। অচেতন রোগীর মুখে কিছু দেবেন না। স্বাভাবিক শ্বাস না থাকলে জরুরি সহায়তা নিয়ে প্রশিক্ষণ থাকলে নির্দেশনা অনুযায়ী পুনরুজ্জীবন প্রক্রিয়া শুরু করুন।
৬. লক্ষণ সেরে গেলেও হাসপাতালে যান: সাময়িকভাবে দুর্বলতা বা কথা জড়িয়ে যাওয়ার সমস্যা চলে গেলেও তা ক্ষণস্থায়ী ইস্কেমিক অ্যাটাক হতে পারে।
হোমিওপ্যাথিক সমাধান
হোমিওপ্যাথিতে রোগ নয়, রোগীকে চিকিৎসা করা হয়। স্ট্রোক-পরবর্তী দুর্বলতা, বাকরুদ্ধ হওয়া, স্মৃতিশক্তি কমে যাওয়া, মাথা ঘোরা ও মানসিক অবসাদে অভিজ্ঞ চিকিৎসক লক্ষণের ভিত্তিতে ঔষধ নির্বাচন করেন। এর মধ্যে উল্লেখযোগ্য ঔষধ হলো—অ্যার্নিকা, অপিয়াম, বেলাডোনা, নাক্স ভমিকা, জেলসেমিয়াম, ল্যাকেসিস, ফসফরাস, ক্যালকেরিয়া কার্ব এবং বারাইট কার্ব। তবে এই ঔষধগুলো নিজে নিজে ব্যবহার না করে অভিজ্ঞ হোমিওপ্যাথিক চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী গ্রহণ করা অত্যন্ত জরুরি। তাই স্ট্রোক হলে প্রথমে হাসপাতালে জরুরি চিকিৎসা নেওয়াই মূল। এরপর পুনর্বাসন ও জীবনমান উন্নয়নের ক্ষেত্রে হোমিওপ্যাথি কার্যকর সহায়ক হতে পারে। তাই পরিবার ও সমাজের প্রতিটি মানুষকে স্ট্রোক সম্পর্কে সচেতন হতে হবে।সচেতনতা, স্বাস্থ্যকর জীবনযাপন এবং প্রয়োজনমতো হোমিওপ্যাথিক পুনর্বাসন—এই তিনটি মিলেই স্ট্রোকের ঝুঁকি কমানো এবং রোগীর মানসিক ও শারীরিক শক্তি ফেরানো সম্ভব।
স্ট্রোক প্রতিরোধে করণীয়
স্ট্রোকের ঝুঁকি কমাতে নিয়মিত রক্তচাপ, রক্তে শর্করা ও কোলেস্টেরল পরীক্ষা এবং চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী নিয়ন্ত্রণ জরুরি। ধূমপান ও তামাক বর্জন, পরিমিত লবণযুক্ত সুষম খাবার, শাকসবজি ও ফল খাওয়া, নিয়মিত শারীরিক পরিশ্রম, স্বাস্থ্যকর ওজন বজায় রাখা এবং পর্যাপ্ত ঘুম সহায়ক। হৃদ্রোগ বা অনিয়মিত হৃদ্স্পন্দন থাকলে নিয়মিত চিকিৎসা নিতে হবে। চিকিৎসকের পরামর্শ ছাড়া নির্ধারিত ওষুধ বন্ধ করা উচিত নয়।
স্ট্রোকের পর রোগীকে অবহেলা না করে পুনর্বাসন, পুষ্টি, মানসিক সমর্থন ও নিয়মিত পরিচর্যা নিশ্চিত করতে হবে। পরিবারের সদস্যদের স্ট্রোকের সতর্কসংকেত সম্পর্কে জানা থাকলে জরুরি সময়ে দ্রুত সিদ্ধান্ত নেওয়া সহজ হয়।
পরিশেষে বলা যায়, বিশ্ব স্ট্রোক দিবস ২০২৬ আমাদের মনে করিয়ে দেয়, স্ট্রোক প্রতিরোধে সচেতনতা এবং আক্রান্ত ব্যক্তির দ্রুত চিকিৎসা নিশ্চিত করা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। মুখ বেঁকে যাওয়া, হাত দুর্বল হওয়া বা কথা জড়িয়ে যাওয়ার মতো লক্ষণ দেখা দিলে এক মুহূর্তও অবহেলা করা যাবে না। ঘরোয়া চিকিৎসা বা লক্ষণ নিজে থেকে সেরে যাওয়ার অপেক্ষা না করে দ্রুত হাসপাতালে পৌঁছাতে হবে। ব্যক্তি, পরিবার, সমাজ ও স্বাস্থ্যব্যবস্থার সম্মিলিত উদ্যোগেই স্ট্রোকজনিত মৃত্যু ও দীর্ঘমেয়াদি অক্ষমতা কমানো সম্ভব।
লেখক: কলাম লেখক ও জনস্বাস্থ্য বিশ্লেষক
প্রতিষ্ঠাতা ও চেয়ারম্যান : জাতীয় রোগী কল্যাণ সোসাইটি