
প্রিন্ট এর তারিখঃ এপ্রিল ২৯, ২০২৬, ৫:২৭ পি.এম || প্রকাশের তারিখঃ জানুয়ারী ৩১, ২০২৬, ১২:২৭ পি.এম
স্বামী গুরুতর আহত অবস্থায় হাসপাতালে—তদন্তে সিআইডি

অপু দাস, স্টাফ রিপোর্টার, রাজশাহী: রাজশাহীতে এক সাংবাদিকের স্ত্রীর রহস্যজনক মৃত্যু হয়েছে। একই ঘটনায় ওই সাংবাদিক নিজেও গুরুতর আহত অবস্থায় বাসায় পড়ে ছিলেন। পুলিশ ও ফায়ার সার্ভিসের সহায়তায় স্বামী-স্ত্রীকে উদ্ধার করে রাজশাহী মেডিকেল কলেজ (রামেক) হাসপাতালে নেওয়া হলে চিকিৎসকরা নারীকে মৃত ঘোষণা করেন। এ ঘটনাকে ঘিরে এলাকায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে।
নিহত নারীর নাম রওশন আরা (৫৫)। তাঁর স্বামী গোলাম কিবরিয়া কামাল (৬০), যিনি সাংবাদিকতা অঙ্গনে কামাল মালিক নামে পরিচিত। তিনি স্থানীয় দৈনিক রাজশাহী সংবাদ-এর উপসম্পাদক হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। পাশাপাশি তিনি ডাক বিভাগের একজন অবসরপ্রাপ্ত কর্মকর্তা। দম্পতি রাজশাহী নগরীর হড়গ্রাম বাজার এলাকার একটি তিনতলা ভবনের তৃতীয় তলায় ভাড়া বাসায় বসবাস করতেন।
পুলিশ জানায়, শুক্রবার সন্ধ্যা আনুমানিক ৭টার দিকে ৯৯৯ নম্বরে ফোন পেয়ে তারা ঘটনাস্থলে পৌঁছায়। সে সময় বাসার দরজা ভেতর থেকে বন্ধ পাওয়া যায়। পরে দরজা ভেঙে ভেতরে প্রবেশ করে পুলিশ। ঘরের মেঝেতে রওশন আরাকে পড়ে থাকতে দেখা যায় এবং বিছানায় আহত অবস্থায় ছিলেন গোলাম কিবরিয়া কামাল। এরপর দ্রুত ফায়ার সার্ভিসের সহায়তায় তাঁদের উদ্ধার করে রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়।
রামেক হাসপাতালের জরুরি বিভাগের চিকিৎসক বিল্লাল উদ্দিন জানান, হাসপাতালে আনার আগেই রওশন আরার মৃত্যু হয়। তাঁর গলায় কাপড় প্যাঁচানো ছিল। তবে কী কারণে তাঁর মৃত্যু হয়েছে, তা ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন না পাওয়া পর্যন্ত নিশ্চিত করে বলা সম্ভব নয়। অন্যদিকে সাংবাদিক গোলাম কিবরিয়া কামালের হাত ও পায়ে আঘাতের চিহ্ন রয়েছে। তিনি এক ধরনের রাসায়নিক দ্রব্য পান করেছিলেন বলে প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে। তাঁর শারীরিক অবস্থা আশঙ্কাজনক হওয়ায় চিকিৎসকদের নিবিড় পর্যবেক্ষণে রাখা হয়েছে।
দৈনিক রাজশাহী সংবাদ-এর সম্পাদক আহসান হাবীব বলেন, ঘটনার খবর পেয়ে সংবাদপত্রের সহকর্মীরাও হাসপাতালে যান। কীভাবে এমন ঘটনা ঘটেছে, তা এখনো পরিষ্কার নয়। সাংবাদিক কামাল মালিকের অবস্থা সংকটাপন্ন। তাঁর হাত ও পায়ে গুরুতর জখম রয়েছে। প্রয়োজন হলে তাঁকে আইসিইউতে নেওয়ার প্রস্তুতি চলছে।
রাজশাহী মহানগর পুলিশের মুখপাত্র ও অতিরিক্ত উপপুলিশ কমিশনার গাজিউর রহমান জানান, ঘটনার পরপরই সিআইডির ক্রাইম সিন ইউনিট ঘটনাস্থলে পাঠানো হয়েছে। তারা আলামত সংগ্রহ ও প্রাথমিক তদন্ত করেছে। বাসার দরজা ভেতর থেকে বন্ধ থাকায় ঘটনাটি তাঁদের নিজেদের মধ্যেই ঘটেছে বলে প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে। তবে এটি ঠিক কীভাবে ঘটেছে, সে বিষয়ে তদন্ত চলছে।
পুলিশ জানায়, ময়নাতদন্ত প্রতিবেদন ও তদন্তের অগ্রগতি অনুযায়ী ঘটনার প্রকৃত কারণ সম্পর্কে বিস্তারিত জানা যাবে।
দৈনিক ‘নাগরিক ভাবনা’র অনলাইন পোর্টালটি ঢাকা হতে শেখ রিফান আহমেদ-এর সম্পাদনায় পরিচালিত।
হটলাইন: 09649-230220 ও 01915-708187, ইমেইল: info.nagorikvabna@gmail.com
@নাগরিক ভাবনা কর্তৃক সর্বস্বত্ত্ব সংরক্ষিত