সাব্বির হোসেন : দেশে হাম সংক্রমণ নিয়ন্ত্রণ এবং শিশুদের সুরক্ষা নিশ্চিত করতে নতুন করে দেশব্যাপী বিশেষ হাম–রুবেলা টিকাদান কর্মসূচি শুরু হয়েছে। ২৬ সেপ্টেম্বর থেকে শুরু হওয়া এই কর্মসূচির আওতায় টিকাদান থেকে বাদ পড়া ও ঝুঁকিতে থাকা শিশুদের টিকার আওতায় আনার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। প্রায় ৩৪ লাখ শিশুকে এই কর্মসূচির আওতায় আনার লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে।
স্বাস্থ্য কর্তৃপক্ষের তথ্য অনুযায়ী, চলতি বছর দেশে হামের সংক্রমণ বড় ধরনের জনস্বাস্থ্য চ্যালেঞ্জ তৈরি করেছে। বিশেষ করে ছোট শিশুদের মধ্যে সংক্রমণের ঝুঁকি বেশি হওয়ায় তাদের দ্রুত টিকার আওতায় আনার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। এর আগে এপ্রিলেও সরকার দেশব্যাপী হাম–রুবেলা টিকাদান কর্মসূচি চালু করেছিল এবং পরবর্তী সময়ে বিপুলসংখ্যক শিশুকে টিকা দেওয়া হয়।
নতুন কর্মসূচিতে ৬ মাস থেকে ৫৯ মাস বয়সী শিশুদের বিশেষভাবে গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। স্বাস্থ্যকর্মীরা টিকা থেকে বাদ পড়া শিশুদের শনাক্ত করে তাদের টিকাদানের আওতায় আনার পাশাপাশি অভিভাবকদের সচেতন করার কাজও করছেন। সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, নিয়মিত টিকাদানে কোনো শিশু বাদ পড়লে ভবিষ্যতে সংক্রমণের ঝুঁকি বাড়তে পারে।
বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার মতে, হাম অত্যন্ত সংক্রামক একটি রোগ এবং শিশুদের মধ্যে এর সংক্রমণ দ্রুত ছড়িয়ে পড়তে পারে। পর্যাপ্ত টিকাদান হামের বিস্তার ঠেকানোর অন্যতম কার্যকর উপায়।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, শুধু সরকারি উদ্যোগ নয়, প্রতিটি পরিবারের সচেতন অংশগ্রহণও জরুরি। নির্ধারিত বয়সে শিশুকে টিকা দেওয়া, টিকার বিষয়ে সঠিক তথ্য জানা এবং গুজব বা ভুল তথ্য এড়িয়ে চলা সংক্রমণ নিয়ন্ত্রণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।
শিশুদের নিরাপদ ভবিষ্যৎ নিশ্চিত করতে চলমান এই টিকাদান কর্মসূচিতে কোনো শিশু যেন বাদ না পড়ে—এটাই এখন সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ লক্ষ্য। জনস্বাস্থ্য রক্ষায় সরকারি কার্যক্রমের পাশাপাশি অভিভাবক, শিক্ষক, স্থানীয় জনপ্রতিনিধি ও সমাজের বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষের সম্মিলিত সহযোগিতার প্রয়োজন রয়েছে।
প্রধান কার্যালয়: ৫০/এফ, ইনার সার্কুলার (ভিআইপি) রোড, নয়াপল্টন, পল্টন মডেল থানা, ঢাকা-১০০০।
হটলাইন: 09643-230220, মুঠোফোন: 01915-708187, মেইল: info.nagorikvabna@gmail.com
@Copyright & reserved by NAGORIK BHABNA