

হালুয়াঘাট ঘোষবেড় গ্রামের অনার্স পড়ুয়া তরুণী (২২) ফাঁসিতে ঝুলে আত্মহত্যা করেন। পরে হালুয়াঘাট থানার নিয়মিত লাশ বহনকারী আবু সাঈদ এই মেয়ের লাশ ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ মর্গে নিয়ে যাওয়ার পর মৃত লাশের উপর যৌনচারিতা করার অপরাধে পুলিশ তাকে আটক করে আদালতে প্রেরণ করেন। ২৩ অক্টোবর দুপুরে আবু সাঈদের ফাঁসির দাবিতে হালুয়াঘাটে মিছিল ও মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়। এতে নেতৃত্ব দেন এলাকাবাসী, উপজেলা নির্বাহী অফিসারের কার্যালয়ের সামনে ছাত্র-ছাত্রী ও জনতা বিচারের দাবিতে স্লোগানে মুখরিত হয়ে উঠে। এ সময় উপজেলা নির্বাহী অফিসার মোঃ আলীনূর খান অন্যায়ের প্রতিবাদ করার জন্য সকলকে ধন্যবাদ জানান,এবং সঠিক বিচার যাতে হয় সকলের সাথে সম্মতি যাপন করেন।ময়মনসিংহ জেলার হালুয়াঘাটে ২০ বছরের অনার্স পড়ুয়া এক মেয়ে আত্মহত্যা করেছে গত ১৯ তারিখে। সে সুইসাইড নোট লিখেছিল দুই পাতার, তাতে লেখা ছিল-
'আমার মৃত্যুর জন্য দায়ী আমার দুর্ভাগ্য। আমার মৃত্যুর কোনো কারণ নেই। এই দুনিয়া থেকে আমার মন উঠে গেছে তাই আমি চলে গেছি'।
চলে যাওয়া কোনও সমাধান নয়- এই জিনিসটা বোধ হয় মানুষের বুঝা হয় না শেষতক। কত মানুষ তুচ্ছে প্রেম, রাগ, অভিমানে আত্মহত্যা করে। মেয়েটির মৃত্যুতে হালুয়াঘাট থানায় অপমৃত্যুর মামলা হয়। লাশটা পুলিশ থানা হেফাজতে নেয়।
আবু সাঈদ নামে এক লোক প্রায় তিন বছর ধরে হালুয়াঘাট থানা থেকে ময়মনসিংহ মেডিকেলের মর্গে লাশ আনা–নেওয়ার কাজ করত।
প্রথমে আসার পর মর্গের চাবি নিয়ে মর্গে মরদেহ রেখে আবার চাবি দিয়ে চলে যায়। পরে আধাঘণ্টা পর আবারও আবু সাইদ সুরতহাল রিপোর্ট নেওয়ার কথা বলে মর্গে ঢুকে মৃতদেহ ধর্ষণ করে পরে সেখানে ঘুমিয়ে পড়ে।
পরে মর্গের কর্তব্যরত ডোম এসে মর্গ অন্ধকার দেখতে পেয়ে লাইট জালায়। এসময় আবু সাইদ ও তার সঙ্গীকে মর্গে ঘুমাতে দেখেন।
মরদেহ দেখে কর্তব্যরত ডোমের সন্দেহ হলে ডাক্তারকে খবর দেয়। ডাক্তার এসে ময়নাতদন্ত করে ধর্ষণের আলামত পায়। এখানে দুটো ঘটনা ঘটেছে, প্রথমত একটা লাশ, সে লাশ পুলিশ হেফাজতে থাকা অবস্থাতে ধর্ষিত হয়েছে। এটা একটা সিগনিফিকেন্ট ঘটনা। এ ব্যবস্থাপনায় যারা জড়িত তাদের একজনই এ কাণ্ড ঘটিয়েছে।
এটা রাষ্ট্রের সিস্টেমিক অবস্থা। যে লাশের প্রতিরোধের সক্ষমতা নাই, আওয়াজের সামর্থ্য নাই সেই প্রাণহীন নিথর দেহটা রাষ্ট্রের হেফাজতে থাকা অবস্থায় ধর্ষিত হয়েছ।এইদিকে সেই অভিযুক্তকে পুলিশ গ্রেফতার করেছে। সে স্বীকারোক্তি দিয়েছে। মামলা ও মৃতদেহ অবমাননার মামলা দেওয়া হয়েছে।দূর্ভাগ্য আর দুনিয়ার প্রতি বিতৃষ্ণার কথা বলে যে মেয়েটি আত্মহত্যা করলো, দুনিয়া ছাড়ার পর তার লাশটা ধর্ষিত হলো। সেই ধর্ষকের একমাত্র শাস্তি ফাঁসি, বিচার প্রার্থীদের এটাই দাবি।
দৈনিক ‘নাগরিক ভাবনা’র অনলাইন পোর্টালটি ঢাকা হতে শেখ রিফান আহমেদ-এর সম্পাদনায় পরিচালিত।
হটলাইন: 09649-230220 ও 01915-708187, ইমেইল: info.nagorikvabna@gmail.com
@নাগরিক ভাবনা কর্তৃক সর্বস্বত্ত্ব সংরক্ষিত