
সরকার সালাউদ্দীন সুমন, (নীলফামারী) : সড়কের এক পাশে বিদ্যালয় আর অন্য পাশে ময়লা-আবর্জনার স্তূপ। তা থেকে দুর্গন্ধ ছড়িয়ে পড়ছে এলাকাজুড়ে। চারদিকে ভন ভন করছে মশামাছি। শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের বিদ্যালয়ে ঢুকতে হয় নাক চেলে। তীব্র দুর্গন্ধের কারণে শ্রেণিকক্ষে থাকা দায়। নাকাল সাধারণ পথচারীরাও। এ চিত্র সৈয়দপুর পাইলট বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের সামনে শহীদ ড. জিকরুল হক সড়কের। পৌরসভার পরিচ্ছন্ন কর্মীরা শহরের বিভিন্ন এলাকা থেকে আবর্জনা সংগ্রহ করে এখানে জমা করেন। পরে আবর্জনাগুলো বড় গাড়িতে করে নিয়ে ফেলা হয় ডাম্পিং পয়েন্টে। দিনের পর দিন সড়কের অর্ধেকজুড়ে ছড়িয়ে ছিটিয়ে থাকে। ময়লা- আবর্জনার কারণে দুর্গন্ধ ছড়িয়ে পড়ে পুরো এলাকায়। শিক্ষার্থী পথচারীরা এলাকা পার হয় নাক চেলে। আবর্জনার স্তূপ সরাতে মানববন্ধন করা হলেও কাজের কাজ কিছুই হয়নি।কলেজের অধ্যক্ষ মোস্তাফিজুর রহমান জানান, একাধিকবার আবর্জনার স্তূপ সরায়ত সাবেক মেয়র ও বর্তমান পৌর প্রশাসকের দায়িত্বে থাকা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাকে জানানো হয়েছে। নতুন করে জায়গা নির্ধারণ না হওয়া পর্যন্ত তারা অপেক্ষা করতে বলেছেন।
কথা হয় শিক্ষার্থী তামারা হাসান নোভার সঙ্গে। সে জানায়, পৌরসভার কর্মচারীরা নিয়মিত আবর্জনা সরান না। সেগুলো জমে জমে বিশাল এলাকায় ছড়িয়ে পড়ছে। সড়কের ওপরেও ময়লা-আবর্জনা পড়ে থাকে। যাতায়াত করতে কষ্ট হয়। দুর্গন্ধে বমি আসে। দীর্ঘদিন ধরে এই অবস্থা চললেও দেখার যেন কেউ নেই। তবে পৌর কর্তৃপক্ষ এ সংকটের জন্য জনবল সংকটের পাশাপাশি পৌরবাসীর অসচেতনতাকে দায়ী করেছে। তবে সংশ্লিষ্ট অফিস থেকে জনবল সংকটের কারণে এ অবস্থা বলে জানানো হয়েছে। তারা বলছে পৌরসভার বর্জ্য ব্যবস্থাপনা বিভাগের অধীনে স্থায়ী কর্মচারী মাত্র চারজন। অস্থায়ী রয়েছেন আরও ২৪৬ জন। তারা সড়ক ঝাড় দেওয়া, বর্জ্য অপসারণ ও ড্রেন পরিষ্কারের কাজে নিযুক্ত। অস্থায়ী কর্মচারীর বেশির ভাগ সাবেক মেয়র রাফিকা আক্তার জাহান নিয়োগ দেন। সবাই বর্জ্য ব্যবস্থাপনার কাজ করেন না। কয়েকজনকে দিয়ে দাপ্তরিক কাজ করানো হচ্ছে। ফলে ব্যাহত হচ্ছে বর্জ্য ব্যবস্থাপনার দৈনন্দিন কাজগুলো।
পৌরসভার প্রধান বর্জ্য ব্যবস্থাপনা কর্মকর্তা মোমিনুল ইসলাম বলেন, প্রতিদিনই শহরের বিভিন্ন পয়েন্ট থেকে একবার থেকে দু'বারও বর্জ্য অপসারণ করা হয়। কিন্তু পৌরবাসী যখন খুশি পৌরসভার বর্জ্য সড়কে জনবল সংকট ও স্থানীয়দের অসচেতনতাকে দায়ী করছে পৌর কর্তৃপক্ তদারকির পাশাপাশি নির্দিষ্ট দূরত্বে কনটেইনার স্থাপনের দাবি স্থানীয়দের আবর্জনা ফেলেন। জনবল সংকটের কারণেও এর সমাধান করা যাচ্ছে না বলে মনে করেন তিনি। পথচারী আরিফুল ইসলাম বলেন, পৌর শহরের প্রধান সড়ক এটি। প্রতিদিন ২০ থেকে ২৫ হাজার মানুষ চলাচল করেন। আবর্জনার স্তূপ থেকে ছড়ানো উৎকট দুর্গন্ধের পাশাপাশি মশামাছি, পোকামাকড়ে এ পথ দিয়ে চলাচল খুবই কষ্টকর।নাগরিক অধিকার পরিষদের আহবায়ক দেলোয়ার হোসেন জাভিস্কো সমকালকে বলেন, পৌর এলাকার ৩৫টি স্থানে সড়কের ওপর ময়লা- আবর্জনা ফেলা হচ্ছে।
কয়েকটি বাড়ির সামনে পৌরসভা থেকে কনটেইনার দেওয়া হলেও সেটি ব্যবহার হচ্ছে না। গৃহস্থরা বাড়ির বর্জ্যের সঙ্গে শিশুদের ডায়াপারও ফেলছেন সড়কের পাশে। এ অবস্থা থেকে পরিত্রাণ পেতে হলে পৌর কর্তৃপক্ষকেই পদক্ষেপ নিতে হবে। নির্দিষ্ট দূরত্বে কনটেইনার স্থাপনের পাশাপাশি স্থানীয়দের সচেতন করার বিষয়েও জোর দিতে হবে তাদের। অথচ পৌর কর্তৃপক্ষ কোনো ব্যবস্থা নিচ্ছে না। বারবার অভিযোগ দেওয়ার পরও উদাসিন তারা। সাবেক কাউন্সিলর মোহাম্মদ আব্দুল খালেক সাবুর জানান, স্কুলের প্রবেশ পথে আবর্জনার স্তূপ নিয়ে তিনিও বিব্রত। পৌর পরিষদের সভায় একাধিকবার এ বিষয়ে কথা হয়েছে। সাবেক মেয়রকেও ব্যবস্থা নিতে অনুরোধ জানিয়ে ছিলেন। কিন্তু কাজ হয়নি।পৌর প্রশাসকের দায়িত্বে থাকা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা নূর-ই আলম সিদ্দিকী সমকাল প্রতিবেদককে বলেন, শহরের ময়লা-আবর্জনা ফেলার জন্য বিকল্প জায়গা খোঁজা হচ্ছে। আপাতত নতুন জায়গা ডাস্টবিন না হওয়া পর্যন্ত শিক্ষার্থী ও পথচারীদের একটু কষ্ট সহ্য করতে হবে।
দৈনিক ‘নাগরিক ভাবনা’র অনলাইন পোর্টালটি ঢাকা হতে শেখ রিফান আহমেদ-এর সম্পাদনায় পরিচালিত।
হটলাইন: 09649-230220 ও 01915-708187, ইমেইল: info.nagorikvabna@gmail.com
@নাগরিক ভাবনা কর্তৃক সর্বস্বত্ত্ব সংরক্ষিত