
দীর্ঘ দিন যাবত জেলার ঐতিহ্যবাহী ২৫০ শয্যার পিরোজপুর জেলা হাসপাতাল নির্মাণ কাজ শেষ হলেও লিফট না থাকায় ভবনটি এখনো চালু করতে পারেনি গণপূর্ত বিভাগ। এছাড়া এ উন্নীত হওয়ার জেলা হাসপাতালের কোন লোকবল বাড়েনি। গুরুত্বপূর্ণ কিছু পদসহ অন্যান্য পদের কোটা দীর্ঘ দিন ধরে রয়েছে শূন্য। কাঙ্খিত চিকিৎসেবা থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন জেলার প্রায় ১৬ লক্ষ মানুষ। দুর-দুরান্ত থেকে চিকিৎসা সেবা নিতে আসা মাত্রই অনেক রোগী সম্পুর্ন চিকিৎসা না নিয়েই হাসপাতাল থেকে চলে যায়। বাড়তি রোগীরা পাচ্ছে না যথাযথ চিকিৎসা সেবা। এর ফলে পিরোজপুরসহ আশপাশের দুটি জেলার প্রায় অসংখ্য গরীব রোগীরা যথাযথ সেবা থেকে বঞ্চিত হচ্ছে। এতে প্রতিনিয়ত দুর্ভোগে পড়ছেন রোগী ও তাদের স্বজনরা।
হাসপাতাল সূত্রে জানা গেছে, বর্তমানে জেলা হাসপাতালে অধিকাংশ সময়ই দুই শতাধিক রোগী ভর্তি থাকেন। অতিরিক্ত রোগীর কারণে অনেককে বেড না পেয়ে থাকতে হচ্ছে মেঝে ও বারান্দায়। তথ্যানুসন্ধ্যানে জানাগেছে, পিরোজপুর মহাকুমা থেকে জেলায় উন্নীত হয় ১৯৮৬ সালে। তখন ৩১ শয্যার সদর হাসপাতালটির যাত্রা শুরু হলেও ১৯৯৭ সালে ৫০ শয্যার নতুন ভবন নির্মিত হয়। ২০০৫ সালে এসে সেটি ১০০ শয্যার হাসপাতাল ঘোষনা দেয়া হয়।
জেলার চারপাশে নদী ও যোগাযোগব্যবস্থা ভাল না হওয়ায় আগে বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকেরা এখানে এসে থাকতে চাইতেন না। ফলে রোগীদের প্রাথমিক চিকিৎসার জন্যও খুলনা বা বরিশাল বিভাগে যেতে হতো। বর্তমানে প্রতিদিন ৫০০ রোগী হাসপাতালে চিকিৎসা নিতে আসেন। এই চাহিদা বিবেচনায় ২০১৭ সালে এ হাসপাতালটির ২৫০ শয্যার জেলা হাসপাতালে উন্নীত করা হয়। নতুন ৭ তলা নির্মাণ কাজ শুরু হয় দরপত্রের মাধ্যমে, পরে আরও সম্প্রসারন করা হয় আরোও দুইতলা। ২০২০ সালের জুনে কাজ শেষ হবার কথা থাকলেও করোনার কারণে তিন দফা সময় বাড়িয়ে ২০২৪ সালের ডিসেম্বরে নির্মাণ শেষ হয়। তবে লিফট না থাকায় ভবনটি এখনো হস্তান্তর করা যায়নি। এতে ধারণক্ষমতার প্রায় দ্বিগুণ রোগী ভর্তি থাকায় বাড়ছে ভোগান্তি।
হাসপাতালের প্রধান ফটক থেকে বেরিয়ে যাচ্ছেন পৌরসভার ৫ নম্বর ওয়ার্ডের বাসিন্দা মনিরুজ্জামান মাছুম শেখ। কথা হলে সে জানান, মানুষের অসুখ হলে নির্ভরশীল প্রিয়বান্ধব হন চিকিসৎক। রোগী নিয়ে আত্মীয়য়স্বজন ছুটে যায় হাসপাতালে। চিকিৎসকের কাছ থেকে একটু সহায়তা-সহানুভূতি পেলে রোগী যেন অর্ধেক সুস্থ হয়ে ওঠে। কিন্তু হাসপাতালে গিয়ে যখন দেখা যায় চিকিৎসক নেই, তখন ? অসহায় হয়ে পড়ে রোগী ও তার স্বজনেরা। এছাড়া এ উন্নীত হওয়া ২৫০ শয্যার পিরোজপুর জেলা হাসপাতাল এক বছরের বেশি সময় পার হলেও লিফট না থাকায় এখনো চালু করতে পারেনি। কাঙ্খিত চিকিৎসা না পেয়ে রোগীদের বরিশাল, খুলনা কিংবা ঢাকায় পাঠানো হয়। এতে ভোগান্তির পাশাপাশি অর্থেরও অপচয় হয়। দ্রæত হাসপাতালটি চালুর দাবি জানাচ্ছি।
পৌরসভার ২ নম্বর ওয়ার্ডের বাসিন্দা বাবুল খান বলেন, কয়েক মাস আগে আমার বাবাকে নিয়ে আসলে সামান্য চিকিৎসা দিয়ে খুলনা রেফার করা হয়। আমরা ভালো সেবা পাওয়ার আশায় জেলা হাসপাতালে আসি। কিন্তু এখানে কাঙ্খিত সেবা না পেয়ে আমাদের প্রতিনিয়ত দূর দূরান্তে যেতে হয়। ফলে একদিকে যেমন ভোগান্তি অন্যদিকে অর্থের অপচয় হয়। আমরা দ্রæত জেলা হাসপাতালটি চালুর দাবি জানাচ্ছি এবং আধুনিক চিকিৎসা পেতে পারি সে ব্যবস্থা জন্য কর্তৃপক্ষের দৃষ্টি আকর্ষণ করছি।
গণপূর্ত বিভাগের উপ-বিভাগীয় প্রকৌশলী ফাহিম আহমেদ বলেন, লিফট ও বিদ্যুৎ সংযোগ না থাকায় ভবন হস্তান্তরে কিছু জটিলতা হয়েছে। তবে অচিরেই সমাধান হবে। লিফটের দাম বৃদ্ধি পাওয়ায় পুনরায় দরপত্র আহ্বান করা হয়েছে। আশা করি অতি দ্রæত এ সমস্যার সমাধান হবে।
সিভিল সার্জন ডা. মো. মতিউর রহমান বলেন, ‘ধারণক্ষমতার কয়েকগুণ রোগী প্রতিদিন হাসপাতালে চিকিৎসা নিতে আসেন। সাধ্যের মধ্যে সেবা দেওয়ার চেষ্টা করছি। ভবনটি দ্রæত হস্তান্তর হলে সেবার মান আরোও বাড়বে এবং রোগীদের ভোগান্তিও কমবে। এ সম্পর্কে তিনি জানান, তারা জন্য স্বাস্থ্য অধিদপ্তরে তাদের চাহিদা অনুযয়ী আবেদন পাঠিয়েছেন। প্রায় ৭০ কোটি টাকা ব্যায়ে গণপূর্ত বিভাগের তত্ত¡াবধানে মেসার্স খান বিল্ডার্স ও বঙ্গ বিল্ডার্স লিমিটেড নামের দুটি ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান এই হাসপাতাল ভবন নির্মাণ করেছে। এটি চালু হলে পিরোজপুরসহ আশপাশের দুটি জেলার প্রায় ২০ লাখ মানুষ আধুনিক চিকিৎসাসেবার আওতায় আসবে।
দৈনিক ‘নাগরিক ভাবনা’র অনলাইন পোর্টালটি ঢাকা হতে শেখ রিফান আহমেদ-এর সম্পাদনায় পরিচালিত।
হটলাইন: 09649-230220 ও 01915-708187, ইমেইল: info.nagorikvabna@gmail.com
@নাগরিক ভাবনা কর্তৃক সর্বস্বত্ত্ব সংরক্ষিত