“আমরা পাঁচ বন্ধু, আমাদের ছিল একই স্বপ্ন, সংগ্রাম আর সৃষ্টিকর্তার অশেষ অনুগ্রহ। ক্লাস, টিউশন, রাত জেগে প্রস্তুতি—সব মিলিয়ে যেন একেকটি যুদ্ধ। আজ সেই যুদ্ধের ফল হাতে পেলাম”—এভাবেই অনুভূতি প্রকাশ করছিলেন ইব্রাহিম হোসাইন, ৪৪তম বিসিএসে শিক্ষা ক্যাডারে সুপারিশপ্রাপ্ত জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র।
সাম্প্রতিক ৪৪তম বিসিএস পরীক্ষায় জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের অ্যাকাউন্টিং অ্যান্ড ইনফরমেশন সিস্টেমস (এআইএস) বিভাগের ২০১৫-১৬ সেশনের পাঁচজন শিক্ষার্থী ক্যাডার হিসেবে সুপারিশপ্রাপ্ত হয়েছেন। তারা সবাই একই ব্যাচের, একই বিভাগের শিক্ষার্থী ছিলেন এবং একসঙ্গে অনার্স ও মাস্টার্স সম্পন্ন করেন। এবার সেই বন্ধুত্বের বন্ধনকে সাফল্যের নতুন মাত্রা দিল বিসিএস জয়।
সুপারিশপ্রাপ্ত পাঁচ বন্ধু হলেন:
- এম রাকিবুল ইসলাম (পোস্টাল ক্যাডার)
- ইব্রাহিম হোসাইন (শিক্ষা ক্যাডার)
- কাজল সরকার (শিক্ষা ক্যাডার)
- রাকিব হাসান (শিক্ষা ক্যাডার)
- কৌশিক গৌপি (শিক্ষা ক্যাডার)
এদের মধ্যে চারজন শিক্ষা ক্যাডার এবং একজন পোস্টাল ক্যাডারে জায়গা পেয়েছেন। নিজের অনুভূতি জানিয়ে রাকিবুল ইসলাম বলেন, “স্বপ্ন যেন এখনো শেষ হয়নি। সৃষ্টিকর্তার প্রতি কৃতজ্ঞতা—তিনি আমার শ্রমকে মূল্য দিয়েছেন। আমাদের ডিপার্টমেন্ট থেকে একসঙ্গে পাঁচজন ক্যাডার হওয়া বিশাল প্রাপ্তি। আমরা গর্বিত আমাদের বিভাগ এবং বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রতি। উত্তরসূরীদের প্রতি শুভকামনা, তারা যেন এই ধারা অব্যাহত রাখে।”
ইব্রাহিম হোসাইন জানান, “৪১তম বিসিএসেও শিক্ষা ক্যাডারে সুপারিশ পেয়েছিলাম, তবে বাংলাদেশ ব্যাংকে সহকারী পরিচালক পদে কর্মরত থাকায় যোগ দিইনি। এবার আবারো শিক্ষা ক্যাডারে সুপারিশ পেলাম। কিছুটা মিশ্র অনুভূতি থাকলেও বন্ধুরা সফল হওয়ায় আমার আনন্দ দ্বিগুণ হয়েছে। এই মুহূর্ত আমাদের সবার জন্য গর্বের।”
কাজল সরকার বলেন, “শিক্ষকতা একটি মহান পেশা—এতে যুক্ত হতে পারার অনুভূতি ভাষায় প্রকাশ করা কঠিন। আমরা পাঁচ বন্ধু একসাথে সফল হয়েছি, যা আমাদের জন্য স্মরণীয় হয়ে থাকবে। বিশেষভাবে কৃতজ্ঞতা জানাই সাইফুল ইসলাম রাজু ভাইকে, যিনি শুরু থেকে প্রতিটি ধাপে আমাকে সহযোগিতা করেছেন।”
বিভাগীয় চেয়ারম্যান অধ্যাপক ড. শামসুন নাহার বলেন, “এটি নিঃসন্দেহে আমাদের বিভাগের জন্য গর্বের। একই ব্যাচ থেকে পাঁচজন ক্যাডার পাওয়া বিরল ঘটনা। তাদের সাফল্য পরবর্তী প্রজন্মকে অনুপ্রাণিত করবে। যারা এবার সুপারিশপ্রাপ্ত হননি, তারা যেন আশাহত না হয়ে চেষ্টা চালিয়ে যান।”
এই পাঁচ বন্ধুর সাফল্য কেবল ব্যক্তিগত নয়, বরং জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় এবং এআইএস বিভাগের জন্য এক বিশাল অর্জন ও প্রেরণার উৎস।