

জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলাম বিশ্ববিদ্যালয়ের একমাত্র কেন্দ্রীয় খেলার মাঠের সংস্কার কাজ প্রায় ৪ বছর ধরে চল্লেও তা শেষ হয়নি। এতে দীর্ঘদিন ধরে মাঠের খেলা থেকে বাইরে শিক্ষার্থীরা। ফলে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের এমন ধীরগতির কাজে ক্ষুব্ধ বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্রীড়াপ্রেমীরা।
জানা যায়, উপাচার্য অধ্যাপক ড. সৌমিত্র শেখরের দায়িত্ব পালনকালে খেলার মাঠের সংস্কার কাজ শুরু হয়। এতে খেলার মাঠ এবং বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন নিচু অংশে মাটি ভরাট বাবদ প্রকল্পের ব্যয় ধরা হয় প্রায় পৌনে ২ কোটি টাকা। এ দফায় ২০২২ সালে বছরের শুরুতে মাঠ সংষ্কারের কাজ শুরু হয়ে ১ম ধাপের কাজ শেষ হয় ২০২৪ সালে। এরপর বিশ্ববিদ্যালয়ের শারীরিক শিক্ষা বিভাগ থেকে দু-একটি টুর্নামেন্টের খেলা মাঠে গড়ালেও তাতে নিম্নমানের মাটি এবং বালি ব্যবহার ও অপরিকল্পিতভাবে সংষ্কারের ফলে প্রায় সময়েই আহত হতেন খেলোয়াড়রা। এছাড়াও সামান্য বৃষ্টিতে মাঠের কোন কোন অংশে জমতো হাঁটুসমান পানি। এ নিয়ে বেশ কিছুদিন ধরে আলোচনা এবং সমালোচনার পর উপাচার্য অধ্যাপক ড. জাহাঙ্গীর আলম দায়িত্ব গ্রহণের পর ২০২৫ সালের মে মাসে মাঠ সংষ্কারের জন্য বিকেএসপির একটি প্রতিনিধি দল মাঠ পরিদর্শন করেন। এরপর কিছুদিনের মধ্যেই মাঠের চারপাশের পানি নিষ্কাশনের জন্য ড্রেনেজ ব্যবস্হা এবং মাঠ সংষ্কার কাজ আবারও শুরু হয়। এতে ক্যাম্পাসের কয়েক জায়গায় ওয়াকওয়ে নির্মাণ, ড্রেনেজ ব্যবস্হা ও মাঠ সংষ্কার বাবদ প্রকল্পের ব্যয় ধরা হয় ৪ কোটি ২৪ লক্ষ টাকা। যা এ বছরের ডিসেম্বর নাগাদ সংষ্কার কাজ শেষ হওয়ার কথা রয়েছে।
কিন্তু মাঠের এমন ধীরগতি কাজ নিয়ে শিক্ষার্থীদের মাঝে তৈরি হয়েছে সংশয়। শিক্ষার্থীদের দাবি বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের সাথে আলাপ আলোচনা করে দ্রুত মাঠের কাজ সম্পূর্ণ শেষ করার কথা বলা হলেও এ নিয়ে প্রশাসনের কোন ভূমিকা লক্ষ্য করা যায় না। উল্টো চলছে ধীরগতীতে মাঠের সংষ্কার কাজ। দীর্ঘদিন ধরে চলা মাঠের সংষ্কার কাজ নিয়ে ক্ষুব্ধ প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করে বিশ্ববিদ্যালয়ের অর্থনীতি বিভাগের রহমত উল্লাহ নামের এক শিক্ষার্থী বলেন, “মাঠ নিয়ে চরম হতাশা ও ক্ষোভ প্রকাশ করছি। যারা এ কাজের সাথে জড়িত সংস্কারের নামে কার্যত তারা শিক্ষার্থীদের সাথে এক প্রকার তামাশা করছেন বলে আমি মনে করি। একমাত্র খেলার মাঠ এতদিন যাবৎ খেলার অনুপযোগী এ ব্যাপারে যথেষ্ট আন্তরিকতার অভাব দৃশ্যমান। আমরা যারা ২০১৯-২০ সেশনের শিক্ষার্থী, প্রতিটা বিভাগেই মোটামুটি অনার্স শেষ এখন মাস্টার্স চলমান অথচ পুরো বিশ্ববিদ্যালয় জীবনে মাত্র একটা করে ফুটবল, ক্রিকেট এবং ভলিবল টুর্নামেন্ট পেয়েছি। তাও আবার খেলার অনুপযোগী মাঠ। যেখানে প্রতি বছর টুর্নামেন্ট আয়োজন করার কথা। আমি প্রত্যাশা করছি আগামী দুই মাসের মাধ্যেই মাঠের গুণগত মান নিশ্চিত করে সংস্কার কাজ সম্পন্ন করে নিয়মিত টুর্নামেন্ট আয়োজন করা হবে।”
বিশ্ববিদ্যালয়ের খেলার মাঠের বেহাল অবস্থা নিয়ে হিসাব বিজ্ঞান ও তথ্য পদ্ধতি বিভাগের শিক্ষার্থী হোসাইন সাব্বির হতাশা প্রকাশ করে বলেন, “দীর্ঘদিন ধরে শুধু বালু ফেলে রাখা হয়েছে, কিন্তু কার্যকর কোনো সংস্কার কাজ দৃশ্যমান নয়। এতে মাঠটি এখন খেলাধুলার অনুপযোগী হয়ে পড়েছে। এমন অব্যবস্থাপনা বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের দায়িত্বহীনতা প্রকাশ করে। শিক্ষার্থীদের স্বাস্থ্য ও মননের বিকাশে একটি মানসম্পন্ন খেলার মাঠ অত্যন্ত জরুরি। বালু ফেলে রাখার নামমাত্র সংস্কার নয়, বরং একটি পূর্ণাঙ্গ ও টেকসই সমাধানই হতে পারে শিক্ষার্থীদের প্রতি প্রকৃত দায়িত্বশীলতার প্রমাণ। প্রশাসনের আন্তরিক উদ্যোগেই এই মাঠ আবার প্রাণ ফিরে পাবে—এই আশাই করছি। তাই দ্রুত ও কার্যকর সংস্কার নিশ্চিত করার দাবি জানাই।”
এ নিয়ে পরিকল্পনা, উন্নয়ন ও ওয়ার্কস দপ্তরের পরিচালক প্রকৌশলী মোঃ হাফিজুর রহমান এর কাছে দীর্ঘদিন ধরে মাঠে চলা সংষ্কার এবং কাজ শেষ হবার পরও কেন শিক্ষার্থীরা মাঠে খেলতে পারেনি তা নিয়ে জানতে চাওয়া হয় প্রকৌশলী মোঃ হাফিজুর রহমান এর কাছে। এসময় খুব শিগগিরই মাঠের কাজ পরিদর্শন করবেন বলে জানান তিনি। এসময় ১ম দফায় মাঠের কাজ শেষ হয়ে গেলেও এখনো কেন মাঠ পরিদর্শন করা হয়নি বা মাঠ সংষ্কারে পরিকল্পনার ও বাস্তবায়নের ক্ষেত্রে আপনাদের কোন ব্যর্থতা আছে কিনা তা নিয়ে জানতে চাওয়া হলে তিনি প্রকল্প দপ্তরের উপর দায় চাপিয়ে বিষয়টি এড়িয়ে যান।
তবে মাঠ সংষ্কার নিয়ে দ্রুততম সময়ে কাজ শেষ করার আশ্বাস দিয়েছে বিশ্ববিদ্যালয়ের সদ্য দায়িত্বপ্রাপ্ত প্রকল্প পরিচালক প্রকৌশলী সৈয়দ মোফাছিরুল ইসলাম। তিনি বলেন, সম্প্রতি বৃষ্টি হওয়ার কারণে ঠিকাদাররা বালি সংকটে পড়ায় কাজ কিছুটা ধীরগতিতে চলছে, ঠিকাদারদের উচিত ছিল শুকনো মৌসুমে বেশি করে বালি কিনে রাখার। এ নিয়ে তাদের সাথে আলোচনা হয়ছে এবং সতর্ক বার্তাও দেওয়া হয়েছে। যদি তারা ঠিকভাবে কাজ না করে তাহলে আমরা তাদের বিল আটকিয়ে রেখে দিবো। এ নিয়ে নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যেই কাজ শেষ হবে বলে জানান তিনি।
দৈনিক ‘নাগরিক ভাবনা’র অনলাইন পোর্টালটি ঢাকা হতে শেখ রিফান আহমেদ-এর সম্পাদনায় পরিচালিত।
হটলাইন: 09649-230220 ও 01915-708187, ইমেইল: info.nagorikvabna@gmail.com
@নাগরিক ভাবনা কর্তৃক সর্বস্বত্ত্ব সংরক্ষিত