
প্রিন্ট এর তারিখঃ জুন ৬, ২০২৬, ৩:৪২ পি.এম || প্রকাশের তারিখঃ সেপ্টেম্বর ২১, ২০২৫, ৬:২৫ পি.এম
দুপচাঁচিয়ায় যাত্রী ছাউনির বেহাল দশা!

বগুড়া জেলার দুপচাঁচিয়া উপজেলার বগুড়া টু নওগাঁ মহাসড়কের চৌমুহনী বাজারে যাত্রী ছাউনি অযত্ন-অবহেলায় বেহাল দশা হয়ে পড়েছে। যাত্রী বা পথচারীদের জন্য তৈরি করা ছাউনিটি ব্যবহারের অযোগ্য হয়ে আছে। দীর্ঘদিন সংস্কার না করা ও অযত্ন-অবহেলায় যাত্রী ছাউনির কিছু স্থানে ভেঙে ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে পড়েছে। এতে বাসের জন্য অপেক্ষমান যাত্রী ও পথচারীদের ভোগান্তি পোহাতে হচ্ছে।
উপজেলার চৌমুহনী বাজার বাস স্ট্যান্ড থেকে উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় লোকজন বাসের জন্য অপেক্ষমাণ যাত্রীদের বিশ্রাম নেয়ার জন্য তৈরি করা হয় রাস্তায় পাশে যাত্রী ছাউনি। অথচ রক্ষণাবেক্ষণের অভাবে ব্যবহারের অনুপযোগী হয়ে আছে এই যাত্রী ছাউনি। এ যাত্রী ছাউনির বসার বেঞ্চ ভাঙা, উপরের ছাউনি ভেঙে খসে পড়ছে ছাউনির মেঝোতে পানি । ময়লা জমে জমে কালচে রং ধারণ করেছে। অবৈধ দখলে, এ যাত্রী ছাউনি। নাগরিকদের সুবিধার পরিবর্তে এ যাত্রী ছাউনির কারণে মানুষের ভোগান্তি বাড়েছে। জানা যায়, নব্বই এর দশকে নির্মিত এ যাত্রী ছাউনিটিতে তেমন একটা উন্নয়নের ছোঁয়া লাগেনি।
যাত্রী ছাউনিটি চৌমুহনী বাজারের উত্তর পার্শ্বে রাস্তার ধারে অবস্থিত । ছাউনিটির একাংশে রয়েছে চা এর দোকান। এছাড়াও ছাউনিতে রয়েছে ভাসমান চা-সিগারেটের দোকান। বসার জন্য সিমেন্টের তৈরি বেঞ্চ রয়েছে। তবে বেঞ্চে একাংশ ভেঙে আছে। উপরের সিমেন্টের এর টিন সেট ছাউনি ভেঙে পড়ছে এবং অনেক জায়গায় ফুটো হয়ে গেছে। এ কারণে একটু বৃষ্টি হলেই যাত্রীদের দাঁড়ানোর মত জায়গা থাকে না । সেই সঙ্গে যাত্রী ছাউনির সামনে অটোরিকসার স্ট্যান্ড হাওয়াই বাস দাঁড়ানোরও জায়গা নেই, এতে গাড়িতে ওঠা নামা যাত্রীদের পড়তে হয় চরম বিলম্বনায়।সেই সঙ্গে যেকোনো সময় ঘটতে পারে বড় ধরনের দুর্ঘটনা, বিশেষ করে ছোট কমলমতি ছেলে মেয়ে বয়োবৃদ্ধদের কে নিয়ে পড়তে হয় বেশি বিরম্বনায়। সেই সঙ্গে আবর্জনায় ভরপুর হওয়ায় সবসময় মশার উপদ্রব থাকে।
যাত্রী ছাউনিতে বসে বিশ্রাম নিচ্ছিলেন পার্শ্ববর্তী আদমদীঘি উপজেলার চাঁপাপুর বাজার থেকে আসা সত্তর বছর বয়সের এক বৃদ্ধ মোঃ কফিল উদ্দিন নামে এক ব্যক্তি। তিনি ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, আমাদের অর্থ দিয়ে, আমাদের জন্য তৈরি করা যাত্রী ছাউনি কেন ব্যবহারের অযোগ্য থাকবে আর কেনই বা দোকান বসবে যাত্রী বসার জায়গায়। দূর দূরান্তে যাওয়া যাত্রী বসার জন্য ছোট একটি বেঞ্চ রয়েছে, সেটিও ভাঙা। আবর্জনার গন্ধে থাকা যায় না। একটু বিশ্রাম নিতে গিয়ে অসুস্থ হয়ে যেতে হয়।
আরেক পথচারী মোঃ জাহিদুল হাসান বলেন, যাত্রী ছাউনিতে শুধু বাসের যাত্রীরা অপেক্ষা করে না। অনেক দূর থেকে আসা পথচারীরাও বিশ্রাম নেয়। বিশেষ করে, রোদ বৃষ্টি থেকে আশ্রয় নিতে যাত্রী ছাউনির প্রয়োজন অনেক বেশি। তবে, এ ছাউনির বিভিন্ন অংশ ভেঙে গেছে যাত্রী ছাউনিতে দোকান রয়েছে।
তিনি অারো বলেন, দীর্ঘদিন উন্নয়ন না করায় এ যাত্রী ছাউনিতে পথচারীবান্ধব পরিবেশ নেই। বসারও ব্যবস্থা খুবই কম।
আরেক পথচারী কলেজছাত্র মোঃ রুবেল হোসেন বলেন, যাত্রী ছাউনির যে অবস্থা এতে ছেলেদেরই বসার পরিবেশ নেই। মেয়েরা কিভাবে বসবে। সরকারের উচিত এসব ছোট বিষয়গুলোকে গুরুত্বের সঙ্গে দেখা। বিশেষ করে নারীদের চলার পরিবেশ সৃষ্টি করা।তিনি এই প্রতিবেদক কে বলেন বিগত সময় অন্যান্য এলাকায় ডিজিটাল যাত্রী ছাউনি হলেও দীর্ঘ দিনে এই বাজারে কোন ধরনের উন্নয়নের ছোঁয়াও লাগেনি। এদিকে চৌমুহনী বাজারে দশ টির মতো ঢাকা, চট্টগ্রাম, কক্সবাজার, গামী বাস কাউন্টার রয়েছে, এবং এগুলো কাউন্টার থেকে প্রতিদিন শত শত য়াত্রী দেশের বিভিন্ন জায়গায় যাতায়াত করে থাকেন। কাউন্টারের মালিকদের সঙ্গে কথা বললে, তিনারা বলেন, প্রতিদিন আমাদের এই বাজার কাউন্টার থেকে দেশের বিভিন্ন জায়গায় শত শত যাত্রী যাতায়াত করে থাকে। এ বাজারের ২ পার্শ্বে দুটি যাত্রী ছাউনি ও গন চৌ-গার বিশেষ প্রয়োজন।
বিশেষ করে দূর দূরান্ত থেকে আশা মহিলা যাত্রীদের জন্য পড়তে হয় বিরম্বনায়। তিনারা বলেন, এ ব্যাপারে যাত্রীদের দুর্ভোগের কথা চিন্তা করে ঊর্ধ্বতন কৃতপক্ষ সহ উপজেলা প্রশাসনের নজর দেওয়া উচিত। ঢাকায় যাওয়ার জন্য অপেক্ষামান এক যাত্রী সঙ্গে কথা বললে তিনি বলেন, প্রাকৃতিক ডাকে সারা দিলে বাজারে কোথাও যাওয়ার মত তেমন কোন জায়গা নেই, এমনকি যাত্রীদের বসারও জায়গা নেই। এ ব্যাপারে যাত্রীদের সুরক্ষার ও দুর্ভোগের কথা মাথায় নিয়ে স্থানীয় প্রশাসনের নজর দেওয়া জরুরী।
দৈনিক ‘নাগরিক ভাবনা’র অনলাইন পোর্টালটি ঢাকা হতে শেখ রিফান আহমেদ-এর সম্পাদনায় পরিচালিত।
হটলাইন: 09649-230220 ও 01915-708187, ইমেইল: info.nagorikvabna@gmail.com
@নাগরিক ভাবনা কর্তৃক সর্বস্বত্ত্ব সংরক্ষিত