
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ঢাকা মহানগর ও জেলার ২০টি আসনে বিএনপির প্রার্থীদের মধ্যে বার্ষিক আয় সবচেয়ে বেশি মির্জা আব্বাসের। তাঁর বার্ষিক আয় ৯ কোটি ২৬ লাখ ৪৫ হাজার টাকা। বিএনপির স্থায়ী কমিটির এই সদস্য এবার ঢাকা-৮ সংসদীয় আসন থেকে নির্বাচন করছেন।
বার্ষিক আয়ে মির্জা আব্বাস এগিয়ে থাকলেও ঢাকায় বিএনপির প্রার্থীদের মধ্যে নগদ টাকা বেশি আছে ঢাকা-১৯ আসনের (সাভার উপজেলা) বিএনপির প্রার্থী দেওয়ান মোহাম্মদ সালাউদ্দিনের। তাঁর কাছে নগদ ৩ কোটি ২০ লাখ ২৮ হাজার টাকা আছে।
মনোনয়নপত্রের সঙ্গে জমা দেওয়া হলফনামায় বিএনপির প্রত্যেক প্রার্থী আয় ও সম্পদের তথ্য উল্লেখ করেছেন। ঢাকার ২০টি আসনের মধ্যে ১৯টিতে প্রার্থী দিয়েছে বিএনপি। এই প্রার্থীদের হলফনামা বিশ্লেষণ করে দেখা গেছে, তাঁদের মধ্যে পেশা হিসেবে ‘ব্যবসার’ কথা উল্লেখ করেছেন ১৫ জন।
হলফনামায় পেশা হিসেবে রাজনীতির কথা বলেছেন ঢাকা-১৭ আসনের প্রার্থী ও বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান। ঢাকার বিএনপির প্রার্থীদের মধ্যে পেশা হিসেবে কৃষির কথা বলেছেন একজন। তিনি ঢাকা-৩ আসনের প্রার্থী ও দলের স্থায়ী কমিটির সদস্য গয়েশ্বর চন্দ্র রায়।
নিজের পেশা হিসেবে ‘গৃহিণী’ উল্লেখ করেছেন ঢাকায় বিএনপির একমাত্র নারী প্রার্থী সানজিদা ইসলাম। তিনি ঢাকা-১৪ আসন থেকে নির্বাচন করছেন। গুমের শিকার ব্যক্তিদের স্বজনদের সংগঠন মায়ের ডাক-এর সমন্বয়ক তিনি।
এর বাইরে ঢাকা-১৩ আসনের প্রার্থী ববি হাজ্জাজ পেশা হিসেবে শিক্ষকতার পাশাপাশি ব্যবসার কথাও উল্লেখ করেছেন। তিনি জাতীয়তাবাদী গণতান্ত্রিক আন্দোলনের (এনডিএম) চেয়ারম্যান। তবে বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর গত ডিসেম্বরের শেষ দিকে এক সংবাদ সম্মেলনে জানিয়েছেন, ববি হাজ্জাজ ধানের শীষ প্রতীকে নির্বাচন করবেন।
নির্বাচনী আইন অনুযায়ী, মনোনয়নপত্রের সঙ্গে ১০ ধরনের তথ্য হলফনামায় উল্লেখ করতে হয়। এর মধ্যে রয়েছে প্রার্থীর পেশা, আয়ের উৎস, শিক্ষাগত যোগ্যতা, মামলা-সংক্রান্ত তথ্য, প্রার্থীর নিজের ও তাঁর ওপর নির্ভরশীলদের সম্পদ বিবরণী। হলফনামায় অসত্য তথ্য দেওয়া হলে প্রার্থিতা বাতিলের ক্ষমতা রয়েছে নির্বাচন কমিশনের। এমনকি নির্বাচনে জয়ের পরও কারও ক্ষেত্রে হলফনামায় মিথ্যা তথ্য দেওয়ার প্রমাণ পেলে সংসদের মেয়াদ থাকা অবস্থায় তাঁর সদস্যপদ বাতিল করতে পারে কমিশন। ২০০৮ সালে অনুষ্ঠিত নবম জাতীয় সংসদ নির্বাচন থেকে প্রার্থীদের হলফনামা দেওয়া বাধ্যতামূলক করা হয়।
ঢাকা-১ আসনে খন্দকার আবু আশফাক, ঢাকা-২ আমানউল্লাহ আমান, ঢাকা-৩ গয়েশ্বর চন্দ্র রায়, ঢাকা-৪ তানভীর আহমেদ, ঢাকা-৫ নবী উল্লা, ঢাকা-৬ ইশরাক হোসাইন, ঢাকা-৭ হামিদুর রহমান, ঢাকা-৮ মির্জা আব্বাস, ঢাকা-৯ হাবিবুর রশীদ, ঢাকা-১০ শেখ রবিউল আলম, ঢাকা-১১ এম এ কাইয়ুম, ঢাকা-১২ (নির্বাচনী সমঝোতার কারণে বিপ্লবী ওয়ার্কার্স পার্টির সাইফুল হককে আসনটি ছেড়ে দিয়েছে বিএনপি), ঢাকা-১৩ ববি হাজ্জাজ, ঢাকা-১৪ সানজিদা ইসলাম, ঢাকা-১৫ শফিকুল ইসলাম খান, ঢাকা-১৬ আমিনুল হক, ঢাকা-১৭ তারেক রহমান, ঢাকা-১৮ এস এম জাহাঙ্গীর হোসেন, ঢাকা-১৯ দেওয়ান মো. সালাউদ্দিন ও ঢাকা-২০ তমিজ উদ্দিন।
হলফনামার তথ্য অনুযায়ী, ঢাকায় বিএনপির ১৯ প্রার্থীর মধ্যে শিক্ষাগত যোগ্যতায় এগিয়ে এম এ কাইয়ুম। তিনি পিএইচডি ডিগ্রিধারী। আর স্বশিক্ষিত প্রার্থী আছেন একজন, মো. নবী উল্লা।
শিক্ষাগত যোগ্যতা হিসেবে অষ্টম শ্রেণি পাস উল্লেখ করেছেন একজন, শফিকুল ইসলাম খান।
অন্যদিকে মাস্টার্স (স্নাতকোত্তর) পাস করা প্রার্থী আছেন ৬ জন। মাধ্যমিক বা এসএসসি পাস করা প্রার্থী আছেন একজন। উচ্চমাধ্যমিক বা এইচএসসি পাস করা প্রার্থী তিনজন। বাকিরা সবাই স্নাতক পাস।
বিএনপির প্রার্থীদের দেওয়া হলফনামার তথ্য পর্যালোচনা করে দেখা গেছে, মির্জা আব্বাসের পর দ্বিতীয় সর্বোচ্চ বার্ষিক আয় ইশরাক হোসেনের। তাঁর বার্ষিক আয় ১ কোটি ২৯ লাখ ৩২ হাজার টাকা।
বছরে ৫০ লাখের বেশি টাকা আয় করেন এমন প্রার্থীর সংখ্যা ২। এর মধ্যে আমানউল্লাহ আমানের বার্ষিক আয় ৫১ লাখ ৭১ হাজার টাকা। আরেক প্রার্থী তমিজ উদ্দিনের বার্ষিক আয় ৫৩ লাখ ৬ হাজার টাকা।
বার্ষিক আয় সবচেয়ে কম সানজিদা ইসলামের। হলফনামায় তিনি বার্ষিক আয় দেখিয়েছেন ৫ লাখ ৮৫ হাজার টাকা। বাকি প্রার্থীদের আয় বছরে ছয় লাখ টাকার বেশি।
দৈনিক ‘নাগরিক ভাবনা’র অনলাইন পোর্টালটি ঢাকা হতে শেখ রিফান আহমেদ-এর সম্পাদনায় পরিচালিত।
হটলাইন: 09649-230220 ও 01915-708187, ইমেইল: info.nagorikvabna@gmail.com
@নাগরিক ভাবনা কর্তৃক সর্বস্বত্ত্ব সংরক্ষিত