
প্রিন্ট এর তারিখঃ জুন ১৯, ২০২৬, ৯:৪০ পি.এম || প্রকাশের তারিখঃ জানুয়ারী ৭, ২০২৬, ১০:৪৭ এ.এম
বেকারত্ব গোছানোর বাস্তব প্রমাণ ইসমাইল হুজুর

শ.ম.গফুর,কক্সবাজার: কক্সবাজারের উখিয়ার পার্শ্ববর্তী নাইক্ষ্যংছড়ির ঘুমধুম ইউনিয়নের রেজু আমতলী সীমান্তের পাহাড়ি এলাকায় এবার বরই'র বাম্পার ফলন হয়েছে।পাহাড়ের ঢালে সবুজ বাগানে ঝুলছে থোকায় থোকায় বরই। আর এই সাফল্যের পেছনে আছেন একজন সফল চাষী ইসমাইল হুজুর। একজন বেকার যুবক, যিনি হতাশা আর অনিশ্চয়তাকে পেছনে ফেলে আজ হয়ে উঠেছেন এলাকার আলোচিত উদ্যোক্তা।
ইসমাইল জানান, মাদ্রাসায় লেখাপড়া শেষ করে তিনি কর্মহীন হয়ে পড়েন। চাকরির পেছনে ছোটাছুটি করেও কোনো পথ না পেয়ে ভাবতে থাকেন, কীভাবে বেকারত্ব থেকে মুক্তি পাওয়া যায়। শেষ পর্যন্ত সিদ্ধান্ত নেন কৃষিকাজের। প্রায় পাঁচ বছর আগে ৪শত শতক জমিতে বরই বাগান শুরু করেন। শুরুটা সহজ ছিল না। বছরের পর বছর পরিশ্রম করেও তেমন লাভের মুখ দেখেন নি। অনেক সময় হতাশায় মুছড়ে পরেন। তবু হাল ছাড়েননি।
গত বছরের ডিসেম্বরের শেষ দিকে বাবাকে সঙ্গে নিয়ে ওমরা পালনে যান ইসমাইল। সে সময় বাগানের গাছে উল্লেখযোগ্য ফলন ছিল না। ওমরা শেষে আল্লাহর কাছে দোয়া করেন, যেন তাঁর পরিশ্রমের ফল তিনি দেখতে পান। দেশে ফিরে বাগানে এসে তিনি যা দেখেন, তা নিজেই বিশ্বাস করতে পারছিলেন না। গাছের ডালে ডালে বরইয়ের ভারে ডাল নুয়ে পড়েছে, কোথাও কোথাও মাটি ছুঁই ছুঁই অবস্থা।
ইসমাইল বলেন, আল্লাহর মেহেরবানী আর বাবা-মায়ের দোয়ায় এমন ফলন হয়েছে, যা কল্পনাও করতে পারিনি। এখন প্রতিদিন সকাল ও বিকালে তিনজন লোক শুধু বরই বিক্রির কাজেই ব্যস্ত থাকেন। বাজারে নিয়ে যাওয়ার সময়ই পাওয়া যাচ্ছে না। দূরদূরান্ত থেকে ক্রেতারা নিজেরাই বাগানে ছুটে আসছেন। ভিড় সামলাতে বাগানে বসার জন্য সামিয়ানাও টাঙাতে হয়েছে।
বাগান থেকে প্রতি কেজি বরই ১৩০ থেকে ১৫০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। ফলন ও বিক্রির চাপে পুরো মৌসুমেই কর্মচাঞ্চল্য। ইসমাইল জানান, এখন আর পেছনে ফিরে তাকাতে হয় না। সংসারের চাহিদা মিটিয়ে ভবিষ্যৎ পরিকল্পনাও করছেন তিনি।বাগানে আসা ক্রেতা মিজান ও সরওয়ার, ওবাইদুল জানান, এই বাগানের বরই অন্য জায়গার চেয়ে অনেক বেশি মিষ্টি ও টাটকা। বাগান মালিক নিজ হাতে গাছ থেকে বরই পেড়ে খাওয়ার সুযোগ দেন। শুধু তাই নয়, পাকনা বরই ও কাঁচা মরিচ দিয়ে ক্রেতাদের আপ্যায়ন করেন ইসমাইল। পাহাড়ঘেরা বাগানে এই আতিথেয়তা যেন একেবারে গ্রামবাংলার চেনা পরিবেশ আর প্রাকৃতিক সৌন্দর্যের ছবি তুলে ধরে।
স্থানীয়দের মতে, ইসমাইলের এই সাফল্য উখিয়াসহ পুরো অঞ্চলের বেকার যুবকদের জন্য বড় উদাহরণ। চাকরির পেছনে না ছুটে পরিকল্পিতভাবে কৃষিকাজে নামলে পাহাড়ি এলাকাতেও যে স্বাবলম্বী হওয়া সম্ভব, তার বাস্তব প্রমাণ এই বরই বাগান এবং উদ্যোক্তা ইসমাঈল।
ইসমাইল হুজুরের বেকারত্ব দূরীকরণে শুধু একটি বাগানের সাফল্য নয়; এটি ধৈর্য, বিশ্বাস আর নিরলস পরিশ্রমের ফল। যেখানে নতুন করে স্বপ্ন দেখাতে পারে অসংখ্য বেকার যুবকদের। চেষ্টা আর সাধনায় নিজের মাটিতেই গড়ে তোলা যায় টেকসই জীবনের ভিত্তি,তার বাস্তব প্রমাণ ইসমাঈল হুজুর।
দৈনিক ‘নাগরিক ভাবনা’র অনলাইন পোর্টালটি ঢাকা হতে শেখ রিফান আহমেদ-এর সম্পাদনায় পরিচালিত।
হটলাইন: 09649-230220 ও 01915-708187, ইমেইল: info.nagorikvabna@gmail.com
@নাগরিক ভাবনা কর্তৃক সর্বস্বত্ত্ব সংরক্ষিত