অভিযোগ রয়েছে, সরকারি নীতিমালা উপেক্ষা করে কোনো ধরনের সরেজমিন পরিদর্শন ছাড়াই দীর্ঘদিন ধরে বন্ধ, সম্পূর্ণ অচল এমনকি অস্তিত্বহীন হাসকিং চাতাল ও চাল মিলের নামেও বিপুল পরিমাণ সিদ্ধ চাল সরবরাহের বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। তালিকা অনুযায়ী প্রতিটি মিলকে পরীক্ষিত ক্ষমতার ভিত্তিতে সর্বোচ্চ ১৮.৪২০ মেট্রিক টন ও সর্বনিম্ন ৭.৭৭০ মেট্রিক টন করে চাল সরবরাহের চুক্তিবদ্ধ দেখানো হয়।
কিন্তু সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায় সম্পূর্ণ ভিন্ন চিত্র। তালিকাভুক্ত ৪৮টি মিলের মধ্যে হাতে গোনা কয়েকটি ছাড়া অধিকাংশ মিলই দীর্ঘদিন ধরে বন্ধ। অনেক মিলের ঠিকানায় কোনো স্থাপনার অস্তিত্বই নেই। কোথাও পরিত্যক্ত ভবন ঝোপঝাড়ে ঢেকে গেছে, আবার কোথাও মিলের জায়গায় খড়ের ঢিবি কিংবা কৃষিপণ্য সংরক্ষণ করা হচ্ছে। বছরের পর বছর ধরে এসব চাতালে কোনো উৎপাদন বা উৎপাদনমুখী কার্যক্রম নেই।
স্থানীয় ব্যবসায়ী ও মিল সংশ্লিষ্টদের অভিযোগ, খাদ্য বিভাগ সংশ্লিষ্টদের তত্ত্বাবধানে একটি শক্তিশালী সিন্ডিকেট বন্ধ ও অস্তিত্বহীন মিলের নাম ব্যবহার করে বাইরে থেকে নিম্নমানের চাল সংগ্রহ করে খাদ্য গুদামে সরবরাহ করেছে। এমনকি ওই বরাদ্দের বিপরীতে সিন্ডিকেট-নিয়ন্ত্রিত মিলের নামে বিভিন্ন প্রকল্পের চাল কম দামে সংগ্রহ করে তা সরকারের নির্ধারিত দামে সরবরাহ করা হয়েছে।
এতে সরকার যেমন বড় অঙ্কের আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়ছে, তেমনি প্রকৃত সচল মিল ও সৎ মিলাররা ন্যায্য বরাদ্দ থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন। খাদ্য গুদাম সূত্রে জানা গেছে, ইতোমধ্যে চাল সংগ্রহের লক্ষ্যমাত্রা অর্জিত হয়েছে। তবে সংগৃহীত চালের একটি বড় অংশের মান নিয়েও গুরুতর প্রশ্ন উঠেছে স্থানীয়দের মধ্যে।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একাধিক মিল মালিক জানান, খাদ্য বিভাগের সঙ্গে যোগসাজশে রাজনৈতিক প্রভাবশালী ব্যক্তিরা বরাদ্দ দেখিয়ে ফরিয়া নিয়োগের মাধ্যমে বিভিন্ন প্রকল্পের চাল সংগ্রহ করে মজুদ রাখেন। পরে বন্ধ থাকা মিলের নামে দেখিয়ে সেই চালই খাদ্য গুদামে সরবরাহ করা হয়। ফলে প্রকৃত মিল মালিকরা মিল চালু রেখে উৎপাদন খরচ তুলতে না পেরে ঋণগ্রস্ত হয়ে পড়ছেন।
একজন প্রাক্তন মিল মালিক আরও গুরুতর অভিযোগ করে বলেন, খাদ্য গুদামে টাকার বিনিময়ে যেকোনো ধরনের চাল দেওয়া যায়। চাল সদৃশ্য হলেই যথেষ্ট, মান যাচাইয়ের কোনো বাছবিচার নেই। এ কারণেই গুদাম থেকে প্রায়ই পঁচা চাল বিতরণের অভিযোগ শোনা যায়।
স্থানীয়দের দাবি, অবিলম্বে নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত দোষীদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনানুগ ব্যবস্থা নিতে হবে। পাশাপাশি সচল মিলগুলো যাচাই করে নতুন করে বরাদ্দ নির্ধারণ এবং সরকারি চাল সংগ্রহ ব্যবস্থায় পূর্ণ স্বচ্ছতা নিশ্চিত করার আহ্বান জানান তারা।
এ বিষয়ে উপজেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রক মিসবাহুল হোসাইন বলেন, “সচল চাতাল মিল যাচাই-বাছাই করেই তালিকাভুক্ত মিল মালিকদের অনুকূলে মোট ৫৮৬.৯৯০ মেট্রিক টন চাল বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে।
কুড়িগ্রাম জেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রক (ভারপ্রাপ্ত) মোহাম্মদ কাজী হামিদুল হক বলেন, “আপনি বললেই তো হবে না, বিষয়টি আমি খতিয়ে দেখব।
উপজেলা নির্বাহী অফিসার মাহামুদুল হাসান বলেন, “বিষয়টি যাচাই-বাছাই করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে। ভবিষ্যতে যেন এ ধরনের ঘটনা না ঘটে, সে বিষয়ে খাদ্য বিভাগকে নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।