ভূমি সংক্রান্ত বিরোধ নিষ্পত্তিতে আইনানুগতার পাশাপাশি মানবিক দৃষ্টিভঙ্গি অনুসরণ করায় ভুক্তভোগীরা দ্রুত ও ন্যায্য সমাধান পাচ্ছেন। বিশেষ করে প্রান্তিক জনগোষ্ঠী, নারী ও বয়স্ক নাগরিকদের ক্ষেত্রে অগ্রাধিকারভিত্তিতে সেবা নিশ্চিত করার নির্দেশনার মাধ্যমে জনবান্ধব প্রশাসনের একটি অনুসরণযোগ্য দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছেন তিনি।
অবৈধ বালু ও মাটি কাটা বন্ধে সহকারী কমিশনার (ভূমি) এস এম মেহেদী হাসান কঠোর অবস্থান গ্রহণ করেন। সম্প্রতি উপজেলার বিভিন্ন ইউনিয়নে অবৈধভাবে ইস্কেভেটর (ভেকু) ও ড্রেজার মেশিন বসিয়ে বালু ও মাটি কাটার বিরুদ্ধে ভ্রাম্যমাণ আদালতের মাধ্যমে একাধিক অভিযান পরিচালিত হয়। অভিযানে অবৈধভাবে মাটি কাটায় ব্যবহৃত ট্রাক ও ড্রেজার মেশিন জব্দ করা হয়।
প্রশাসন সূত্রে জানা গেছে, পরিবেশ ও সরকারি জমির ক্ষতির দায়ে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে ৫০ হাজার টাকা থেকে শুরু করে ১ লক্ষ টাকা পর্যন্ত জরিমানা আরোপ করা হয়েছে। এসব পদক্ষেপ অবৈধ মাটি কাটার সঙ্গে জড়িতদের জন্য কঠোর বার্তা হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।
স্থানীয়দের মতে, দীর্ঘদিন ধরে একটি প্রভাবশালী চক্র অবৈধভাবে বালু ও মাটি কেটে কৃষিজমি ও পরিবেশের মারাত্মক ক্ষতি করে আসছিল। সহকারী কমিশনার (ভূমি) এস এম মেহেদী হাসানের নিয়মিত অভিযান ও কঠোর নজরদারিতে সেই অপতৎপরতা অনেকটাই বন্ধ হয়েছে, ফলে এলাকায় স্বস্তি ফিরে এসেছে।
এছাড়াও তিনি সরকারি খাস জমি দখলমুক্ত করা, অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদ এবং সরকারি সম্পদ রক্ষায় ধারাবাহিক অভিযান পরিচালনার মাধ্যমে ভূমি ব্যবস্থাপনায় শৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনতে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখছেন। তার এই সক্রিয় ভূমিকার ফলে স্থানীয় প্রশাসন ও সাধারণ মানুষের মধ্যে ইতিবাচক সাড়া সৃষ্টি হয়েছে।
ভূমি সেবা নিতে আসা একাধিক নাগরিক জানান, আগের তুলনায় বর্তমানে ভূমি অফিসে হয়রানি উল্লেখযোগ্যভাবে কমেছে। নির্ধারিত নিয়ম অনুসরণ করে আবেদন করলে দালালের আশ্রয় ছাড়াই সময়মতো সেবা পাওয়া যাচ্ছে।
এ বিষয়ে সহকারী কমিশনার (ভূমি) এস এম মেহেদী হাসান বলেন,
“বৃহৎ উলিপুর উপজেলার ১৪টি ইউনিয়নে আমরা নিয়মিতভাবে ভূমি সেবা প্রদান করছি। আমাদের মূল লক্ষ্য হলো সাধারণ মানুষ যেন সহজ, স্বচ্ছ ও সময়মতো সেবা পায় এবং কোনো হয়রানির শিকার না হয়। পাশাপাশি সরকারি সম্পদ ও পরিবেশ রক্ষায় ভ্রাম্যমাণ আদালতের মাধ্যমে নিয়মিত অভিযান পরিচালনা করা হচ্ছে। এসব অভিযানে যেন সাধারণ মানুষ বা কৃষিজমির ক্ষতি না হয়, সে বিষয়েও আমরা সর্বোচ্চ সতর্ক থাকি।”
তিনি আরও বলেন, “আমি চাই প্রতিটি সেবা গ্রহণকারী সরকারি সেবার নিয়ম ও প্রক্রিয়া সম্পর্কে সচেতন হোক। আমাদের এই উদ্যোগ যেন সাধারণ মানুষের জন্য স্বস্তি ও আস্থার প্রতীক হয়ে ওঠে। লক্ষ্য একটাই—উলিপুর উপজেলাকে ভূমি প্রশাসনে একটি সুশৃঙ্খল, জনবান্ধব ও প্রশংসনীয় উদাহরণ হিসেবে প্রতিষ্ঠা করা।”
সচেতন মহলের অভিমত, উলিপুর উপজেলায় ভূমি প্রশাসনে সুশাসন, নাগরিক সেবা ও পরিবেশ সুরক্ষায় সহকারী কমিশনার (ভূমি) এস এম মেহেদী হাসানের এই নেতৃত্ব নিঃসন্দেহে প্রশংসনীয় এবং অন্যান্য উপজেলার জন্য অনুসরণযোগ্য দৃষ্টান্ত।