প্রিন্ট এর তারিখঃ জুন ১৯, ২০২৬, ১:৪৯ এ.এম || প্রকাশের তারিখঃ ফেব্রুয়ারী ১, ২০২৬, ৬:২৭ পি.এম

অপু দাস, স্টাফ রিপোর্টার, রাজশাহী: রাজশাহী অঞ্চলে শিল্পায়নের গতি বাড়ানো, বেকারত্ব দূর করা এবং স্বাস্থ্যসেবার মানোন্নয়নের লক্ষ্যে একাধিক গুরুত্বপূর্ণ উদ্যোগ গ্রহণের আশ্বাস দিয়েছেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর মনোনীত রাজশাহী-২ আসনের সংসদ সদস্য প্রার্থী অধ্যাপক ডা. মোহাম্মদ জাহাঙ্গীর। তিনি দ্রুত একটি রপ্তানি প্রক্রিয়াজাতকরণ অঞ্চল (ইপিজেড) স্থাপন এবং রাজশাহীর স্বাস্থ্যখাতকে আধুনিক ও জনবান্ধব করার প্রতিশ্রুতি দেন।
রোববার (১ ফেব্রুয়ারি) রাজশাহী নগরীর পশ্চিম বুধপাড়া, কড়ইতলা মোড় ও বউ বাজার এলাকায় গণসংযোগকালে তিনি সাধারণ মানুষের সঙ্গে মতবিনিময় করেন এবং সাংবাদিকদের কাছে তার উন্নয়ন পরিকল্পনার কথা তুলে ধরেন।
ডা. জাহাঙ্গীর বলেন, রাজশাহী দীর্ঘদিন ধরে শিক্ষা নগরী হিসেবে পরিচিত হলেও বর্তমানে কর্মসংস্থানের অভাবে এ অঞ্চলের তরুণ সমাজ চরম হতাশায় ভুগছে। প্রতিবছর হাজার হাজার শিক্ষার্থী বিশ্ববিদ্যালয় ও কলেজ থেকে পাস করে বের হলেও তাদের জন্য পর্যাপ্ত চাকরি কিংবা শিল্পকারখানা নেই। ফলে বাধ্য হয়ে অনেকেই অন্য জেলায় বা বিদেশে পাড়ি জমাচ্ছে।
তিনি বলেন, দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে বহু ইপিজেড প্রতিষ্ঠিত হলেও রাজশাহী ও আশপাশের এলাকায় এখনো কোনো ইপিজেড নেই, যা এই অঞ্চলের প্রতি দীর্ঘদিনের অবহেলার প্রমাণ। নির্বাচিত হলে অগ্রাধিকার ভিত্তিতে রাজশাহীতে একটি ইপিজেড স্থাপন করে দেশি ও বিদেশি বিনিয়োগ আকর্ষণের উদ্যোগ নেওয়া হবে। এর মাধ্যমে ব্যাপক শিল্পায়ন ও কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি হবে।
শিল্পখাত প্রসঙ্গে তিনি বিসিক শিল্পনগরীর বর্তমান অবস্থা তুলে ধরে বলেন, প্রকৃত উদ্যোক্তারা সেখানে সময়মতো প্লট ও সুযোগ-সুবিধা পাচ্ছেন না। ফলে শিল্প স্থাপন বাধাগ্রস্ত হচ্ছে। বিসিককে দুর্নীতিমুক্ত ও কার্যকর প্রতিষ্ঠানে রূপান্তরের পাশাপাশি রাজশাহীর হাইটেক পার্ককে শুধু নামমাত্র প্রকল্পে সীমাবদ্ধ না রেখে উৎপাদন ও কর্মসংস্থানমুখী করার ওপর গুরুত্বারোপ করেন তিনি।
স্বাস্থ্যখাত নিয়ে বক্তব্য রাখতে গিয়ে ডা. জাহাঙ্গীর বলেন, প্রতিটি জেলায় একটি করে বিশেষায়িত হাসপাতাল প্রতিষ্ঠা করা হলে সাধারণ মানুষকে চিকিৎসার জন্য ঢাকায় কিংবা বিদেশে যেতে হবে না। এতে চিকিৎসা ব্যয় কমবে এবং জনগণের দুর্ভোগও হ্রাস পাবে।
তিনি রাজশাহীতে নির্মিত শিশু হাসপাতালটি এখনও চালু না হওয়ার বিষয়টি দুঃখজনক উল্লেখ করে বলেন, প্রয়োজনীয় জনবল না থাকায় হাসপাতালটি কার্যক্রম শুরু করতে পারেনি। দ্রুত জনবল নিয়োগ দিয়ে হাসপাতালটি চালুর দাবি জানিয়ে তিনি বলেন, প্রয়োজনে জামায়াতে ইসলামীর চিকিৎসকরা স্বেচ্ছায় বিনা পারিশ্রমিকে সেখানে সেবা দিতে প্রস্তুত রয়েছেন।
ডা. জাহাঙ্গীর আরও বলেন, রাজশাহীতে নতুন একটি সদর হাসপাতাল স্থাপন সময়ের দাবি। তিনি জানান, ঈদগাহ মাঠসংলগ্ন রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের নামে থাকা প্রায় নয় বিঘা জমিতে পূর্বের আলজ হোস্টেল অপসারণ করে একটি পূর্ণাঙ্গ হাসপাতাল চালুর প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে। এ বিষয়ে স্বাস্থ্য সচিব, স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালকসহ সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে অবহিত করা হয়েছে। এই হাসপাতাল চালু হলে নগরবাসীসহ আশপাশের জেলার মানুষ উন্নত চিকিৎসাসেবা ঘরের কাছেই পাবে।
তিনি আরও বলেন, রাজশাহীতে নির্মাণাধীন মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের কাজ দ্রুত শেষ করে সেটিকে কার্যকর করতে হবে। এর মাধ্যমে দক্ষ চিকিৎসক তৈরির পাশাপাশি আধুনিক চিকিৎসা ব্যবস্থা এই অঞ্চলে গড়ে উঠবে।
বেসরকারি স্বাস্থ্যসেবা প্রসঙ্গে তিনি বলেন, বেসরকারি ক্লিনিক, হাসপাতাল ও ডায়াগনস্টিক সেন্টারগুলোর চিকিৎসা ব্যয় সাধারণ মানুষের সাধ্যের মধ্যে আনতে হবে। চিকিৎসাসেবার মূল্য নির্ধারণে কার্যকর নজরদারি ও নীতিমালা প্রণয়নের আশ্বাস দেন তিনি।
ডা. জাহাঙ্গীর আরও জানান, রাজশাহী অঞ্চলের সামগ্রিক উন্নয়নের জন্য বরাদ্দকৃত বাজেট বর্তমানের তুলনায় ছয় থেকে আট গুণ পর্যন্ত বাড়ানোর দাবি সংশ্লিষ্ট মহলে জানানো হয়েছে। এসব পরিকল্পনা বাস্তবায়িত হলে রাজশাহীতে শিল্পায়ন, স্বাস্থ্যসেবা ও কর্মসংস্থানে যুগান্তকারী পরিবর্তন আসবে বলে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন।
গণসংযোগকালে স্থানীয় জনগণের মধ্যে ব্যাপক সাড়া লক্ষ্য করা যায়। বউ বাজার এলাকার ব্যবসায়ী আনোয়ার ইসলাম বলেন, “অনেক প্রতিশ্রুতি আমরা আগে শুনেছি, এবার সৎ ও নৈতিক নেতৃত্ব দেখতে চাই।”
একজন গৃহিণী সুলতানা পারভিন বলেন, “আমরা এমন নেতৃত্ব চাই যারা দুর্নীতির বিরুদ্ধে কঠোর হবে এবং ন্যায় ও ধর্মীয় মূল্যবোধ বজায় রাখবে।”
গণসংযোগ কর্মসূচিতে জামায়াতে ইসলামীর স্থানীয় নেতাকর্মী, সমর্থক এবং বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ উপস্থিত ছিলেন।