
প্রিন্ট এর তারিখঃ জুন ৬, ২০২৬, ৮:১৬ পি.এম || প্রকাশের তারিখঃ মার্চ ১, ২০২৬, ৫:৪০ পি.এম
অস্তিত্বের সংকটে কুটিরবিল ও শহীদ জিয়া স্মৃতিবিজড়িত খাল
![]()
নাঈম ইসলাম, কটিয়াদী(কিশোরগঞ্জ): নদীমাতৃক বাংলাদেশে যাতায়াত ও পণ্য পরিবহনের প্রধান মাধ্যম ছিল নৌপথ। সেই কারণেই নদীর পাড়ে পাড়ে গড়ে উঠে ব্যবসায়িক মোকাম, পত্তন ঘটে শহরের। এই দেশের প্রায় প্রতিটি বড় শহরই কোনো না কোনো নদীর তীরে। প্রমত্তা নদীর কূলে যেমন, তেমনই শাখা ও উপ-নদীর পাড়েও গড়ে উঠেছে নগর-বন্দর। সেইসব শহর ও বন্দর, মোকাম এখনও আছে। কিন্তু নেই পরিবহনের ঐতিহ্য, বিলীন হয়ে গিয়েছে প্রায়। কোনো কোনো ক্ষেত্রে ‘নাই’ হয়ে গিয়েছে নদীপথ। বড় নদীর সাথেই যেমন ছিল বহু বিচিত্র মনোহর নামের শাখা ও উপ-নদীর সংযোগ, তেমনই ছিল অসংখ্য খাল, হাওর, বাঁওড়, বিল-ঝিল। খাল ও বিলের সাথেও ছিলো নদীর যোগ।
বলছিলাম কিশোরগঞ্জের কটিয়াদীর জালালপুর ইউনিয়নধীন চরপুক্ষিয়া গ্রামের দুর্বাবিল-কুটিরবিল ও জালালপুর আড়িয়াল খাঁ নদ থেকে উৎপত্তি শহীদ জিয়া স্মৃতিবিজড়িত জালালপুর খালের কথা।
চরঝাকালিয়া মৌজার দূর্বাবিল থেকে কুটিরবিল পর্যন্ত ও জালালপুর ইউনিয়নের ৯ নম্বর ওয়ার্ডে আড়িয়াল খাঁ নদ থেকে উৎপত্তি হয়ে লোহাজুরী ইউনিয়নের অরিয়াধর বাজারসংলগ্ন এলাকায় কৃষিজমিতে মিলিত হওয়া জালালপুর খালটি কাটতে কাটতে প্রায় জমির সঙ্গে মিশে এখন অস্তিত্বে সংকটে। প্রায় ভরাট হয়ে যাওয়ায় পানির অভাবে ফসল উৎপাদন ব্যাহত হচ্ছে চাষিদের।
খালপাড়ের বাসিন্দা আল-আমিন(৩২) বলেন, এই খালের পানি দিয়ে কৃষকেরা চাষাবাদ করতেন। খালটির সঙ্গে আমার শৈশব জড়িত। অথচ এখন মাটিতে ভরাট ও দখলের কারনে খালটি নিঃশেষ করে দিয়েছে।
চরপুক্ষিয়া এলাকার আবুল খায়ের শফিক জানান, এই খাল দিয়ে নৌকা চলত। এই খালে দক্ষিণ-উত্তর চরপুক্ষিয়া ও চরঝাকালিয়াসহ আশেপাশে এলাকার বৃষ্টি পানি নেমে যেতো। কিন্তু এখন গুরুত্বপূর্ণ খালটির এমন দুর্দশা সত্যিই দুঃখজনক।
দূর্বাবিল থেকে কুটিরবিল খালটির দৈর্ঘ ছিলো প্রায় ১.২কি.মি এবং শহীদ জিয়া স্মৃতিবিজড়িত খালটির দৈর্ঘ প্রায় ৫কি.মি এবং প্রস্থ ১৬ ফুট। পানি প্রবাহ ঠিক রাখতে দীর্ঘ এই খালগুলো অগ্রাধিকার ভিত্তিতে পুনর্খনন করে সরকারের কাছে আগের অবস্থায় ফিরিয়ে আনার দাবি স্থানীয় কৃষকসহ এলাকাবাসীর। এ ছাড়া পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষা এবং ভূগর্ভস্থ পানির স্তর ধরে রাখতে খালপাড়ে বৃক্ষরোপণ করাও গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করছেন তারা।
বর্তমানে খালের বিভিন্ন অংশ মাটি জমে প্রায় ভরাট হয়ে গেছে। কোনো কোনো জায়গায় সামান্য পানি থাকলেও প্রবাহ না থাকায় কচুরিপানায় ঢেকে গেছে। একসময় এই খালের পানি দিয়ে বছরে তিনটি ফসল উৎপাদন করা হতো। কিন্তু বর্তমানে বোরো ধান ছাড়া অন্য মৌসুমি ফসল উৎপাদন করতে পারছেন না কৃষকরা।
জানা যায়,১৯৭৮ সালে আজ থেকে প্রায় ৪৮ বছর আগে তৎকালীন স্থানীয় সংসদ সদস্য বীর মুক্তিযোদ্ধা আনিসুজ্জামান খোকন এবং প্রয়াত জালালপুর ইউপি চেয়ারম্যান মুজিবুর রহমানের উপস্থিতিতে জালালপুরে খাল কাটা কর্মসূচি উদ্বোধন করেন শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান। কোদাল দিয়ে নিজে মাটি কেটে কাজ শুরু করেন তৎকালীন প্রেসিডেন্ট। কাগজপত্রে সেই খাল জালালপুর খাল নামে জায়গা পেলেও লোক মুখে এখনও রয়েছে কাটা খাল হিসেবে।
দৈনিক ‘নাগরিক ভাবনা’র অনলাইন পোর্টালটি ঢাকা হতে শেখ রিফান আহমেদ-এর সম্পাদনায় পরিচালিত।
হটলাইন: 09649-230220 ও 01915-708187, ইমেইল: info.nagorikvabna@gmail.com
@নাগরিক ভাবনা কর্তৃক সর্বস্বত্ত্ব সংরক্ষিত