
প্রিন্ট এর তারিখঃ জুন ৬, ২০২৬, ১২:১২ পি.এম || প্রকাশের তারিখঃ মার্চ ২, ২০২৬, ৪:৩৩ পি.এম
ভাষা সৈনিক বদরুজ্জামানের ১০৩ তম জন্মবার্ষিকীতে স্মরণসভা
![]()
রুবেল আহমেদ, মৌলভীবাজার প্রতিনিধি: মাতৃভাষার মর্যাদা ও আঞ্চলিক ভাষার সংরক্ষণে সচেতনতা বৃদ্ধির আহ্বানে মৌলভীবাজারে পালিত হলো ভাষাসৈনিক বদরুজ্জামানের ১০৩ তম জন্মবার্ষিকী।
দিনটি উপলক্ষে আয়োজিত আলোচনা সভা ও ইফতার মাহফিলে বক্তারা ভাষা আন্দোলনের ইতিহাস, সিলেটি ভাষার আন্তর্জাতিক অবস্থান এবং স্থানীয় ভাষা সংরক্ষণের প্রয়োজনীয়তা নিয়ে গুরুত্বপূর্ণ বক্তব্য তুলে ধরেন।
রোববার (১ মার্চ ২০২৬) বিকেল ২টা ৩০ মিনিটে শহরের ঐতিহ্যবাহী সৈয়দ মুজতবা আলী মিলনায়তন প্রাঙ্গণে তমদ্দুন মজলিশের জেলা শাখা ও ভাষাসৈনিক বদরুজ্জামান পর্ষদের উদ্যোগে এ অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়।
সভায় সভাপতিত্ব করেন তমদ্দুন মজলিশের জেলা সভাপতি ও পর্ষদের উপদেষ্টা, লেখক-গবেষক সৈয়দ কামাল আহমদ বাবু।
সঞ্চালনায় ছিলেন খিজির মুহাম্মদ জুলফিকার। প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ডা. সাদিক আহমদ। বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন অধ্যাপক শাহ আব্দুল ওদুদ, মৌলভীবাজার অনলাইন প্রেসক্লাবের সভাপতি খালেদ চৌধুরী, কালেক্টেড স্কুল এন্ড কলেজ মৌলভীবাজারের প্রিন্সিপাল রফি উদ্দিন, আল ইসলাহ’র জেলা শাখার সাবেক সভাপতি সিরাজুল ইসলাম সিদ্দিকী, মৌলভীবাজার প্রেসক্লাবের সাধারণ সম্পাদক নুরুল ইসলাম সেফুল, হাওর রক্ষা আন্দোলনের সদস্য সচিব খছরু চৌধুরী, অ্যাডভোকেট বদরুল ইসলাম, তাছনিম চৌধুরী বীথি, শিক্ষাবিদ বাবুল খান, মুজিবুর রহমান, শিক্ষক সমিতির জেলা সভাপতি খায়রুল আমীন, সাধারণ সম্পাদক জহির খান, শিক্ষাবিদ মুর্শেদ মুন্না, দেওয়ান মোনাকিব চৌধুরীসহ স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ।
বক্তারা উল্লেখ করেন, বিশ্বে বর্তমানে প্রায় সাত হাজারেরও বেশি ভাষা প্রচলিত রয়েছে।
আন্তর্জাতিক বিভিন্ন ভাষাতাত্ত্বিক জরিপে সিলেটি ভাষার অবস্থান ৯৭তম—যা এ অঞ্চলের ভাষাগত ঐতিহ্যের শক্তিশালী উপস্থিতির সাক্ষ্য বহন করে। তাঁরা বলেন, ভাষা শুধু যোগাযোগের মাধ্যম নয়; এটি একটি জাতির ইতিহাস, সংস্কৃতি ও আত্মপরিচয়ের ভিত্তি।
সভাপতির বক্তব্যে সৈয়দ কামাল আহমদ বাবু বলেন, ১৯৫২ সালের ভাষা আন্দোলন ছিল জাতিসত্তা রক্ষার এক ঐতিহাসিক সংগ্রাম। তিনি সিলেটি ভাষার ইতিহাস, গবেষণা ও প্রামাণ্য দলিল সংরক্ষণে সমন্বিত উদ্যোগ গ্রহণের ওপর গুরুত্বারোপ করেন এবং নতুন প্রজন্মকে স্থানীয় ভাষা ও ভাষা আন্দোলনের ইতিহাস জানাতে সামাজিক ও প্রাতিষ্ঠানিক উদ্যোগ বৃদ্ধির আহ্বান জানান।
আলোচনায় বক্তারা আরও বলেন, ১৯৫২ সালের ঐতিহাসিক বাংলা ভাষা আন্দোলনে বদরুজ্জামান সক্রিয়ভাবে অংশগ্রহণ করেন। সে সময় তিনি Murari Chand College-এর শিক্ষার্থী ছিলেন। পাকিস্তান সরকারের উর্দুকে একক রাষ্ট্রভাষা ঘোষণার সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে গড়ে ওঠা আন্দোলনে তিনি সংগঠক হিসেবে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেন। তবে জীবদ্দশায় কখনও নিজেকে ভাষাসৈনিক হিসেবে প্রচার করেননি কিংবা কোনো প্রকার রাষ্ট্রীয় স্বীকৃতি দাবি করেননি—যা তাঁর ব্যক্তিত্বের বিনয়ী ও আদর্শিক দিকটি তুলে ধরে।
মৌলভীবাজার সদর উপজেলার মিরপুর গ্রামের এই কৃতিসন্তান পেশায় ছিলেন একজন কৃষিবিদ ও সরকারি কৃষি কর্মকর্তা। স্থানীয়ভাবে তিনি ‘ছুটই মিয়া’ নামে সুপরিচিত ছিলেন। ২০২২ সালে বার্ধক্যজনিত কারণে তিনি ইন্তেকাল করেন।
অনুষ্ঠানের শেষপর্বে দেশ ও জাতির কল্যাণ কামনায় দোয়া অনুষ্ঠিত হয় এবং ইফতার মাহফিলের মাধ্যমে আয়োজনের সমাপ্তি ঘটে। বক্তারা বলেন, ভাষাসৈনিকদের অবদান যথাযথ গবেষণা ও দলিল সংরক্ষণের মাধ্যমে ভবিষ্যৎ প্রজন্মের কাছে তুলে ধরা এখন সময়ের অপরিহার্য দাবি।
দৈনিক ‘নাগরিক ভাবনা’র অনলাইন পোর্টালটি ঢাকা হতে শেখ রিফান আহমেদ-এর সম্পাদনায় পরিচালিত।
হটলাইন: 09649-230220 ও 01915-708187, ইমেইল: info.nagorikvabna@gmail.com
@নাগরিক ভাবনা কর্তৃক সর্বস্বত্ত্ব সংরক্ষিত