ঢাকা, বাংলাদেশ।
,
রবিবার, ২৪ মে ২০২৬
তাজা খবর
১১ মামলায় ওয়ারেন্ট থাকলেও ধরা-ছোঁয়ার বাইরে মুজিবুর
ক্যালিফোর্নিয়ায় ৪০ হাজার মানুষকে সরিয়ে নেওয়ার নির্দেশ
ট্রাম্প ও নেতানিয়াহুর মাথার দাম ৬ কোটি ডলার ঘোষণার কথা ভাবছে ইরান, উত্তেজনা বৃদ্ধির আশঙ্কা
মিড ডে মিলে দুর্গন্ধযুক্ত খাবার, প্রমাণও পেয়েছেন প্রতিমন্ত্রী
জ্বালানি সংকটে অচল দেশ: পাম্পে সংঘর্ষ
কাউখালীতে সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে অনিয়ম
বৃষ্টিতে পানির নিচে পেঁয়াজ: কান্নায় ভেঙে পড়েছেন কৃষকরা
হরমুজ প্রণালি ও ইরানে শাসক পরিবর্তন নিয়ে মুখ খুললেন মার্কো রুবিও
মধ্যপ্রাচ্যে মার্কিন সেনাবাহিনীর কয়েক হাজার প্যারাট্রুপার
বাংলাদেশ ব্যাংকে ১০৮ সহকারী পরিচালক পদে নিয়োগ
কুরবানির ঈদ সামনে রেখে, ব্যস্ত সময় পার করছেন কামার শিল্পীরা

সুশান্ত মালাকার, দুপচাঁচিয়া
- সর্বশেষ পরিমার্জন: ০৫:২৭:০০ অপরাহ্ন, শনিবার, ২৩ মে ২০২৬
- / ২০ বার পঠিত

সুশান্ত মালাকার, দুপচাঁচিয়া: কুরবানির ঈদ যত ঘনিয়ে আসছে, ততই ব্যস্ত হয়ে উঠছে বগুড়ার দুপচাঁচিয়ার কামার পল্লীগুলো। লাল আগুনে দপদপ করা লোহা, হাতুড়ির ঘনঘন আঘাত আর টুংটাং শব্দে সকাল থেকে গভীর রাত পর্যন্ত মুখরিত থাকছে কামারদের কর্মশালা। পশু কোরবানির জন্য প্রয়োজনীয় দা, বটি, চাপাতি, ছুরি ও জবাইয়ের সরঞ্জাম তৈরি আর পুরনো সরঞ্জামে শাণ দিতে এখন দম ফেলারও সময় পাচ্ছেন না কামার শিল্পীরা। বছরের অন্য সময় কাজের চাপ কম থাকলেও ঈদুল আজহাকে কেন্দ্র করে তাদের ব্যস্ততা কয়েক গুণ বেড়ে গেছে। উপজেলার তালোড়া, আলতাব নগর, কইল, আমশট্টসহ উপজেলার বিভিন্ন বাজার ও কামার পল্লী ঘুরে দেখা যায়, কাকডাকা ভোর থেকে শুরু হয়ে গভীর রাত পর্যন্ত চলছে লোহা পেটানোর কাজ। আগুনে তপ্ত লোহা হাতুড়ির আঘাতে রূপ নিচ্ছে ধারালো অস্ত্রে।
কামার শিল্পীরা জানান, ঈদ উপলক্ষে চাহিদা বাড়ায় বিক্রিও বেড়েছে কয়েক গুণ। বর্তমানে পশুর চামড়া ছাড়ানোর ছুরি ১০০ থেকে ২৫০ টাকা, দা ৩০০ থেকে ৬৫০ টাকা, বটি ২০০ থেকে ৫০০ টাকা, পশু জবাইয়ের ছুরি ৫০০ থেকে ১ হাজার টাকা এবং চাপাতি ৬০০ থেকে ৯০০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।
তাদের ভাষ্য, কাঁচামাল ও শ্রমিক সংকট ও খরচ বেড়ে যাওয়ায় দামও কিছুটা বাড়াতে হয়েছে। দুই মাস আগেও প্রতি বস্তা কয়লার দাম ছিল ৩৫০ থেকে ৪৫০ টাকা। বর্তমানে সেই কয়লা কিনতে হচ্ছে ৮০০ থেকে ৯০০ টাকায়। পাশাপাশি শ্রমিকের মজুরিও বেড়েছে।
কইল গ্রামের কামার শিল্পী শ্রী রতন কুমার কর্মকার ও শ্রী চৈতন্য চন্দ্র কর্মকার বলেন, ‘এখন কাজের এত চাপ যে নিশ্বাস ফেলার সময়ও নেই। ঈদের আগ পর্যন্ত রাত-দিন কাজ চালিয়ে যেতে হবে।
কামার পল্লীতে শুধু নতুন সরঞ্জাম কিনতেই নয়, পুরনো দা, বটি ও চাপাতিতে শাণ দিতেও ভিড় করছেন ক্রেতারা।
কামারদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, ঈদের দু-একদিন আগে থেকে তাদের দোকানগুলোতে সবচেয়ে বেশি ভিড় হয়। তখন রাত-দিন চলে বেচাকেনা ও সরঞ্জাম তৈরির কাজ।
ক্রেতা প্রবাসী আলহাজ্ব বেলাল হোসেন বলেন, আমি কিছু নতুন কিনেছি। পাশাপাশি পুরনো ছুরি, দা ও জবাইয়ের ছুরিসহ কয়েকটি জিনিস শাণ দিতে এসেছি।
আরেক ক্রেতা আবুল হোসেন (ছদ্মনাম) বলেন, ‘কুরবানির ঈদের সময় কসাই পাওয়া মুশকিল হয়ে পড়ে। তাই একটা নতুন বটি কিনেছি, আর পুরনো চাপতি, দা শাণ দিয়ে নিচ্ছি নিজেরাই কাজে লেগে যাব। তিনি আরো বলেন, গেল বছরের চেয়ে এ বছর পুরনো জিনিস শাণ দিতে মানভেদে ২০ থেকে ৫০ টাকা বেশি নেওয়া হচ্ছে বলে জানান তিনি। কামারদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, ঈদের দু-একদিন আগে থেকে তাদের দোকানগুলোতে সবচেয়ে বেশি ভিড় হয়। তখন রাত-দিন চলে বেচাকেনা ও সরঞ্জাম তৈরির কাজ।
ঈদ সামনে রেখে উপজেলার প্রত্যন্ত এলাকার কামার পল্লীগুলো এখন যেন নতুন প্রাণ ফিরে পেয়েছে। হাতুড়ির ছন্দ আর আগুনের ঝলকে জমে উঠেছে শত বছরের ঐতিহ্যবাহী এই পেশা।




















