
প্রিন্ট এর তারিখঃ মে ২৪, ২০২৬, ৭:৪২ পি.এম || প্রকাশের তারিখঃ মে ২৪, ২০২৬, ৫:০৫ পি.এম
যুবদল নেতাসহ কয়েকজনের বিরুদ্ধে অনিয়মের অভিযোগ

উলিপুর (কুড়িগ্রাম) প্রতিনিধি: কুড়িগ্রামের উলিপুর উপজেলার তবকপুর ইউনিয়নে ভিজিএফ (ভালনারেবল গ্রুপ ফিডিং) কর্মসূচির চাল আত্মসাত ও অনিয়মের অভিযোগে চালবোঝাই একটি অটোরিকশা আটক এবং পরবর্তীতে অভিযান চালিয়ে বিপুল পরিমাণ ভিজিএফ চাল জব্দ করেছে উপজেলা প্রশাসন। এ ঘটনায় স্থানীয় যুবদল নেতা বকুল মিয়া, তার সহযোগী মিলন মিয়া, চাঁদ মিয়া ও ফজলুর রহমান সাজুর বিরুদ্ধে অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগ উঠেছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, শনিবার (২৩ মে) বিকেলে তবকপুর ইউনিয়নের যুবদলের সাধারণ সম্পাদক বকুল মিয়া তার সহযোগীদের নিয়ে ইউনিয়ন পরিষদের প্যানেল চেয়ারম্যান রফিকুল ইসলামকে প্রভাবিত করে ভিজিএফ চাল বণ্টনে অনিয়ম করেছেন বলে অভিযোগ রয়েছে। অভিযোগ অনুযায়ী, প্রকৃত উপকারভোগীদের বঞ্চিত করে রাজনৈতিক প্রভাব খাটিয়ে নিজেদের অনুসারীদের নামে চাল উত্তোলন করা হয় এবং সেসব চাল বিক্রির উদ্দেশ্যে সরিয়ে নেওয়া হচ্ছিল।
স্থানীয়দের আরও অভিযোগ, ভিজিএফ কার্ড সংগ্রহ করে কিছু কার্ড স্থানীয় ব্যবসায়ীদের কাছেও বিক্রি করা হয়েছে। এতে তালিকাভুক্ত বহু দরিদ্র ও অসহায় মানুষ তাদের প্রাপ্য চাল থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন।
রোববার (২৪ মে) স্থানীয়রা সন্দেহভাজন একটি অটোরিকশা আটক করেন। অটোরিকশাটিতে ১৬ বস্তা ভিজিএফ চাল বহন করা হচ্ছিল বলে জানা যায়। স্থানীয়দের দাবি, অটোরিকশাটি উলিপুর পৌরসভার মোহাম্মদের মোড় এলাকার দিকে যাচ্ছিল। পরে বিষয়টি উপজেলা প্রশাসনকে জানানো হলে সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট এস এম মেহেদী হাসান, উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা (পিআইও) ফিজানুর রহমান এবং উলিপুর থানার পুলিশ ঘটনাস্থলে উপস্থিত হন।
অটোরিকশা চালক হোসেন আলীর দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে প্রশাসন সাদুল্যা নিরাশির পাতার বটতলা এলাকায় অবস্থিত মেসার্স সাহেব আলী ট্রেডার্স নামের একটি গোডাউনে অভিযান পরিচালনা করে। অভিযানে বিপুল পরিমাণ চাল পাওয়া যায়। পরে প্রতিষ্ঠানটির প্রতিনিধি আনিছুর রহমানের তথ্যের ভিত্তিতে ২৩ বস্তা ভিজিএফ চাল জব্দ করা হয় বলে প্রশাসন সূত্রে জানা গেছে।
স্থানীয়দের অভিযোগ, ভিজিএফ চাল বিতরণের সময় দীর্ঘদিন ধরে বকুল মিয়া, মিলন মিয়া, চাঁদ মিয়া ও ফজলুর রহমান সাজু গরিব মানুষের জন্য বরাদ্দকৃত চাল থেকে নিয়মিতভাবে ভাগ বসিয়ে আসছেন। এ ঘটনায় এলাকায় ব্যাপক ক্ষোভ বিরাজ করছে।
অভিযোগের বিষয়ে জানতে যুবদল নেতা বকুল মিয়ার সঙ্গে একাধিকবার মুঠোফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তার বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
অন্যদিকে, তবকপুর ইউনিয়ন পরিষদের প্যানেল চেয়ারম্যান রফিকুল ইসলামের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।
এ বিষয়ে কুড়িগ্রাম জেলা যুবদলের সাধারণ সম্পাদক নাদিম বলেন, “অভিযোগের বিষয়টি আমরা গুরুত্বের সঙ্গে দেখছি। তদন্তে অভিযোগের সত্যতা পাওয়া গেলে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তির বিরুদ্ধে সাংগঠনিক ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) এটি এম আরিফ বলেন, “ঘটনার বিষয়ে তদন্ত চলছে। বিধি মোতাবেক প্রয়োজনীয় আইনগত ও প্রশাসনিক ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।”
এ ঘটনায় স্থানীয়দের মধ্যে স্বচ্ছ তদন্ত এবং দোষীদের বিরুদ্ধে দ্রুত ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি উঠেছে।
দৈনিক ‘নাগরিক ভাবনা’র অনলাইন পোর্টালটি ঢাকা হতে শেখ রিফান আহমেদ-এর সম্পাদনায় পরিচালিত।
হটলাইন: 09649-230220 ও 01915-708187, ইমেইল: info.nagorikvabna@gmail.com
@নাগরিক ভাবনা কর্তৃক সর্বস্বত্ত্ব সংরক্ষিত