
ইসলামী ব্যাংকের পরিচালনা পর্ষদের নতুন স্বতন্ত্র পরিচালক ও চেয়ারম্যান পদে বাংলাদেশ ব্যাংকের সাবেক ডেপুটি গভর্নর খুরশীদ আলমকে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। এ বিষয় বাংলাদেশ ব্যাংক থেকে আদেশ জারি করা হয়েছে। ওই দিনই আদেশটি ব্যাংকের এমডির কাছে পাঠানো হয়েছে। এর আগে এদিন ব্যাংকের চেয়ারম্যানের পদ থেকে পদত্যাগ করেছেন অধ্যাপক এম জুবায়দুর রহমান। বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর বরাবর তিনি পদত্যাগপত্র জমা দেন। গত বছরের ২৩ জুলাই তাকে চেয়ারম্যান নিয়োগ দেওয়া হয়। ২০২৫ সালের জুলাইয়ে জুবায়দুর রহমানকে ব্যাংকটির স্বতন্ত্র পরিচালক হিসাবে নিয়োগ দিয়েছিল বাংলাদেশ ব্যাংক। এরপর থেকে তিনি চেয়ারম্যান নির্বাচিত হয়ে দায়িত্ব পালন করেন।
বাংলাদেশ ব্যাংকের একাধিক কর্মকর্তার সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, বিএনপি সরকার দায়িত্ব নেওয়ার পর এবং গভর্নর পদে মোস্তাকুর রহমান যোগদানের পর ইসলামী ব্যাংক নিয়ে বিভিন্ন সিদ্ধান্ত হয়। এসব নিয়ে বাংলাদেশ ব্যাংকের কর্মকর্তাদের সঙ্গে ওই ব্যাংকের উচ্চপদস্থ কর্মকর্তাদের মতবিরোধ হয়। অনলাইনে সভায় উপস্থিত থাকার শর্তে দেড় মাসের ছুটিতে যুক্তরাষ্ট্রে যান জুবায়দুর রহমান। পাশাপাশি ব্যাংকটির ব্যবস্থাপনা পরিচালক ওমর ফারুক খানকেও ছুটিতে পাঠানো হয়। গত ১২ এপ্রিল ইসলামী ব্যাংকের পরিচালনা পর্ষদের সভায় তাদের এই ছুটি অনুমোদিত হয়। বাংলাদেশ ব্যাংক ও ইসলামী ব্যাংকের কর্মকর্তারা জানান, রোববার ব্যাংকটির প্রধান কার্যালয়ে পরিচালনা পর্ষদের সভা ডাকা হয়েছিল। ব্যাংকের গ্রাহক ও বেশকিছু কর্মকর্তা প্রধান কার্যালয়ের নিচে আন্দোলন শুরু করেন। ওমর ফারুক খানকে পদত্যাগ না করার দাবিতে তারা আন্দোলন করেন। তবে তারা চেয়ারম্যান এম জুবায়দুর রহমানের পদত্যাগ চান। একই সঙ্গে এস আলম মুক্ত ইসলামী ব্যাংক ঘোষণা করেন তারা।
এমন পরিস্থিতিতে রোববার বাংলাদেশ ব্যাংকের কাছে পদত্যাগপত্র পাঠিয়েছেন জুবায়দুর রহমান। এদিকে ছুটিতে থাকা এমডি ওমর ফারুক খানও পরিচালনা পর্ষদের কাছে পদত্যাগপত্র জমা দিয়েছেন বলে ব্যাংকটির একটি সূত্র নিশ্চিত করেছে। পর্ষদের সভা বাতিল হওয়ায় এ বিষয়ে আর সিদ্ধান্ত হয়নি।
বিষয়টি জানতে এম জুবায়দুর রহমান ও ওমর ফারুক খানের সঙ্গে মুঠোফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করা হয়। তবে তাদের বক্তব্য পাওয়া যায়নি। ইসলামী ব্যাংকের ভারপ্রাপ্ত ব্যবস্থাপনা পরিচালক আলতাফ হোসেন যুগান্তরকে জানান, ওমর ফারুক খান তো পদত্যাগপত্র জমা দেবেন চেয়ারম্যানের কাছে। আর চেয়ারম্যান নিজেই তো বাংলাদেশ ব্যাংকের কাছে পদত্যাগপত্র জমা দিয়ে চলে গেছেন।
ব্যাংকটির বার্ষিক প্রতিবেদন অনুযায়ী, ২০১৬ সালে ইসলামী ব্যাংকের মুনাফা ছিল প্রায় ৪৪৭ কোটি টাকা। ২০২৫ সালে তা নেমেছে ১৩৭ কোটি টাকায়। তখন খেলাপি ঋণের হার ছিল ৪ দশমিক ২৫ শতাংশ, যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৪৯ শতাংশে। ব্যাংকটির ৯২ হাজার কোটি টাকার বেশি ঋণ এখন খেলাপি। ব্যাংকটির শেয়ার মালিকানায় বিদেশি বিনিয়োগকারীদের হিস্যা ৬৩ শতাংশ থেকে কমে ১৭ দশমিক ৯১ শতাংশে (মার্চ, ২০২৬) নেমেছে। অন্যদিকে ব্যাংকটির প্রায় ৮২ শতাংশ শেয়ারের সঙ্গে এস আলমের সংশ্লিষ্টতা থাকায় তা জব্দ করে বাংলাদেশ ব্যাংক। বর্তমানে ব্যাংকটি ‘এ’ থেকে ‘জেড’ ক্যাটাগরিতে নেমে এসেছে।
দৈনিক ‘নাগরিক ভাবনা’র অনলাইন পোর্টালটি ঢাকা হতে শেখ রিফান আহমেদ-এর সম্পাদনায় পরিচালিত।
হটলাইন: 09649-230220 ও 01915-708187, ইমেইল: info.nagorikvabna@gmail.com
@নাগরিক ভাবনা কর্তৃক সর্বস্বত্ত্ব সংরক্ষিত