
প্রিন্ট এর তারিখঃ জুন ৪, ২০২৬, ১০:৫৬ পি.এম || প্রকাশের তারিখঃ জুন ৩, ২০২৬, ৫:৩৫ পি.এম
সরকারি গাছ কাটার অভিযোগ সভাপতি জাহাঙ্গীর ও সেক্রেটারি তাওহীদের বিরুদ্ধে

রাজবাড়ীর গোয়ালন্দ উপজেলার চৌধুরী আবদুল হামিদ একাডেমির চত্বরের গাছ অবৈধভাবে কেটে ফেলার অভিযোগ উঠেছে বরাট ক্লাব হাউজের সভাপতি, সাধারণ সম্পাদক ও স্থানীয় বিএনপি নেতা জাহাঙ্গীর মোল্লার বিরুদ্ধে। বিদ্যালয়ের গাছ বিক্রির এ বিষয়টি জানে না উপজেলা প্রশাসন ও শিক্ষা অফিস।
এলাকাবাসীর অভিযোগের ভিত্তিতে সরজমিনে গিয়ে দেখা যায়,স্কুল চত্বরের ভিতর থেকে অনেক পুরাতন দুটি মেহগনি গাছ কেটে স্থানীয় ব্যাবসায়ী বাবুর নিকট বিক্রি করা হয়েছে। গাছ গুলো স্কুলের পাশেই ফেলা রাখা। পুরাতন এই গাছের বাজার মুল্য লাখ টাকা হলেও তড়িঘড়ি করে মাত্র চল্লিশ হাজার টাকায় বিক্রি করে দেওয়া হয়েছে। তবে জাহাঙ্গীর মোল্লার দাবি স্কুলের প্রধান শিক্ষকের সাথে কথা বলেই তিনি গাছ বিক্রি করেছেন এবং বিক্রির অর্ধেক টাকা স্কুলকে দিবেন।
স্থানীয় যুবক রাশেদ বলেন, আমরা গাছ কাটা বিষয়ে জানতে পারি শিক্ষা কর্মকর্তা তাদের অনুমতি দিলে বরাট ক্লাব হাউজের সভাপতি জাহাঙ্গীর মোল্লা,সাধারণ সম্পাদক তাওহীদ চৌধুরী এবং সহসভাপতি সজল চৌধুরীসহ কয়েকজন মিলে গাছ বিক্রি করেন। আরিফুল ইসলাম নামে আরেক যুবক জানান স্কুলের সরকারি গাছ এভাবে তারা বিক্রি করতে পারেন না। বিষয়টি জানার পর আমরা গাছ কিছু করতে নিষেধ করেছি এটা সমাধান না হওয়া পর্যন্ত রাখতে বলা হয়েছে।
সবুজ নামে একজন জানান, আমি এসে দেখলাম জাহাঙ্গীর মোল্লা ও বাবু এখানে রয়েছে তখন গাছ কাটা চলছিল। সরকারি গাছ কাটতে হলে একটা প্রসেসের মধ্যে দিয়ে করতে হয় কিন্তু তারা স্কুল বন্ধ থাকা অবস্থায় গাছ কেটে বিক্রি করে দিচ্ছে। এসময় অন্তত গোটা পঞ্চাশ স্থানীয় লোকজন জমে যায়। তারা জানান ৫ আগষ্টের পর জাহাঙ্গীর মোল্লা বরাট ক্লাব হাউজের কমিটি ভেঙে দিয়ে কাউকে না জানিয়ে কমিটি করে তারপর থেকে কাউকে ক্লাবে ঢুকতে দিচ্ছে না। দিনের পর দিন ক্লাব বন্ধ থাকায় স্থানীয় যুবকদের খেলাধুলা বিঘ্নিত হচ্ছে।
এ ব্যাপারে মুঠোফোনে জাহাঙ্গীর মোল্লা বলেন, গাছ কাটার বিষয়টি প্রধান শিক্ষক জানেন। তাকে বলেই গাছ কাটা হয়েছে। গাছ বর্তমান স্কুলের সরকারি সম্পদ হলেও একসময় ক্লাব গাছটি লাগিয়েছিল। এটা বৈধ কি না? এবিষয়ে তিনি বলেন, গাছ বিক্রির টাকার একটা অংশ দিয়ে স্কুলের শহীদ মিনার ভেঙে আরেক জায়গায় একটা করে দেওয়া হবে।
এব্যাপারে চৌধুরী আবদুল হামিদ একাডেমির প্রধান শিক্ষক মোঃ রফিকুল ইসলাম বলেন, গাছ কাটার বিষয়ে কথা হয়েছিল কিন্তু শিক্ষা কর্মকর্তা একটা কমিটি করে একটা প্রক্রিয়ার মধ্যে দিয়ে কাটার কথা বলেছিলেন। কিন্তু তারা স্কুল বন্ধ থাকা অবস্থায় গাছ কেটে বিক্রি করে দিবেন সেটা বুঝতে পারিনি।
উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মক্রতা জয়ন্ত কুমার দাস বলেন,আমি কাউকে গাছ কাটার নির্দেশ দেইনি। আমার সামনে গাছ কাটা বিষয়ে আলোচনা হয়েছিল তখন আমি বলেছি একটা কমিটি করে একটা প্রক্রিয়ার মধ্যে দিয়ে এটা করতে হবে।
গোয়ালন্দ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সাথী দাস বলেন, সরকারি বিদ্যালয়ের গাছ এভাবে কাটার কোনো নিয়ম নেই।গাছ কাটতে হলে একটা কমিটি করে প্রসেসের মাধ্যমে এটা করতে হবে।
যদি কেউ আইনবহির্ভূতভাবে গাছ কেটে বিক্রি করেন,তাহলে অবশ্যই তদন্ত সাপেক্ষে জড়িত ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে যথাযথ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
দৈনিক ‘নাগরিক ভাবনা’র অনলাইন পোর্টালটি ঢাকা হতে শেখ রিফান আহমেদ-এর সম্পাদনায় পরিচালিত।
হটলাইন: 09649-230220 ও 01915-708187, ইমেইল: info.nagorikvabna@gmail.com
@নাগরিক ভাবনা কর্তৃক সর্বস্বত্ত্ব সংরক্ষিত