
প্রিন্ট এর তারিখঃ জুন ৪, ২০২৬, ১০:৫০ পি.এম || প্রকাশের তারিখঃ জুন ৪, ২০২৬, ১২:০৭ পি.এম
অবরোধে ভালো নেই পাথরঘাটার হাজারো জেলে, বাড়তি সহায়তার দাবি

মাছের প্রজনন ও উৎপাদন বৃদ্ধি লক্ষ্যে বঙ্গোপসাগরে মাছ শিকারে সরকারের ঘোষিত ৫৮ দিনের নিষেধাজ্ঞা চলমান রয়েছে। গত ১৪ এপ্রিল থেকে শুরু হওয়া এ অবরোধ চলবে আগামী ১১ জুন পর্যন্ত। নিষেধাজ্ঞার কারণে কর্মহীন হয়ে পড়েছেন বরগুনার পাথরঘাটার হাজারো জেলে। তাদের দাবি, বর্তমান সহায়তা দিয়ে সংসার চালানো সম্ভব নয়, তাই বাড়তি সহায়তা ও বিকল্প কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা করা হোক। বিভিন্ন এলাকায় অধিকাংশ জেলে ট্রলার নোঙর করে অলস সময় কাটাচ্ছেন। কেউ ট্রলার মেরামত করছেন, আবার কেউ সমুদ্রে যাওয়ার দিনের অপেক্ষায় দিন গুনছেন।
উপজেলা মৎস্য অফিস সূত্রে জানা গেছে, পাথরঘাটায় প্রায় ২৫ হাজার জেলে রয়েছেন। এর মধ্যে সাগরগামী সরকারি নিবন্ধিত জেলের সংখ্যা ১১ হাজার ৪১১ জন। অবরোধকালীন সময়ে এসব নিবন্ধিত জেলেকে ৭৭ কেজি করে চাল সহায়তা দেওয়ার কথা রয়েছে।
জেলে আব্দুর রহমান বলেন , নিষেধাজ্ঞার পুরো সময়ে আমরা ৭৭ কেজি চাল পাই। কিন্তু এই চাল দিয়ে সংসার চলে না। পরিবার নিয়ে খুব কষ্টে দিন কাটছে। এই চাল সহায়তার সাথে আর্থিক সহায়তার দাবি জানান জেলেরা । ভিন্ন পেশার মানুষও এই জেলে তালিকের মধ্যে রয়েছে। নতুন করে এই তালিকা সংস্কারকরণের দাবি জানান তারা।
জেলে ফোরকান বলেন, দীর্ঘ ৫৮ দিনের মাছ ধরার নিষেধাজ্ঞা তাদের জন্য কাঙ্ক্ষিত সুফল বয়ে আনছে না। এতে জীবিকা নির্বাহে চরম সংকটে পড়তে হচ্ছে । তাদের ট্রলারে ১৩ জন জেলে রয়েছে এদের মধ্যে ৫ জন সরকারি সহায়তা পাচ্ছে।
ট্রলার মালিক মাসুম জানান, ৫৮ দিনের অবরোধকালীন সময়ে উপকূলীয় এলাকার জেলেরা সম্পূর্ণ কর্মহীন হয়ে পড়েন। সরকারি খাদ্য সহায়তা হিসেবে যে চাল প্রদান করা হয়, তা দিয়ে অধিকাংশ পরিবারের নিত্যপ্রয়োজনীয় চাহিদা পূরণ করা সম্ভব হয় না। ফলে অনেক জেলে পরিবার মানবেতর জীবনযাপন করতে বাধ্য হয়।
এদিকে ট্রলার মালিকরাও ঋণ ও দেনার চাপ নিয়ে চলছেন। আর্থিক সংকটের কারণে তারাও জেলেদের অতিরিক্ত সহায়তা দিতে পারছেন না। তাই জেলে ও ট্রলার মালিকদের পক্ষ থেকে বর্তমান সরকারের কাছে দাবি জানানো হচ্ছে, অবরোধকালীন সময়ে জেলে পরিবারের জন্য সরকারি সহায়তা বৃদ্ধি করা হোক, যাতে তারা ও তাদের পরিবার স্বাভাবিকভাবে জীবনযাপন করতে পারে।
পাথরঘাটা উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তা হাসিবুল হক বলেন , মাছের নিরাপদ প্রজনন ও উৎপাদন বৃদ্ধির জন্য সরকার এ নিষেধাজ্ঞা দিয়েছে। নিবন্ধিত জেলেদের মধ্যে ইতোমধ্যে ৭৭ কেজি চাল বিতরণ করা হয়েছে। যারা এখন পর্যন্ত পায়নি তারা পেয়ে যাবে। তিনি আরও জানান, নিবন্ধনের বাইরে থাকা জেলেদের তালিকা প্রণয়নের কাজ ইউনিয়ন পরিষদের মাধ্যমে চলমান রয়েছে। এছাড়া সরকারিভাবে অতিরিক্ত কোনো সহায়তা এলে তা জেলেদের কাছে পৌঁছে দেওয়া হবে।
দৈনিক ‘নাগরিক ভাবনা’র অনলাইন পোর্টালটি ঢাকা হতে শেখ রিফান আহমেদ-এর সম্পাদনায় পরিচালিত।
হটলাইন: 09649-230220 ও 01915-708187, ইমেইল: info.nagorikvabna@gmail.com
@নাগরিক ভাবনা কর্তৃক সর্বস্বত্ত্ব সংরক্ষিত