
প্রিন্ট এর তারিখঃ জুন ৬, ২০২৬, ৪:২৯ এ.এম || প্রকাশের তারিখঃ জুন ৫, ২০২৬, ৭:০৪ পি.এম
বাপুস ঝালকাঠি শাখার নির্বাচন ঘিরে অনিয়মের অভিযোগ, কেন্দ্রীয় কমিটির হস্তক্ষেপ দাবি

বাংলাদেশ পুস্তক প্রকাশক ও বিক্রেতা সমিতি (বাপুস) ঝালকাঠি জেলা শাখার আসন্ন নির্বাচনকে কেন্দ্র করে ভোটার তালিকা ও আর্থিক হিসাব নিয়ে অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে। নির্বাচনকে স্বচ্ছ ও গ্রহণযোগ্য করতে কেন্দ্রীয় নির্বাচন আহ্বায়ক কমিটির সরাসরি তত্ত্বাবধানে নির্বাচন আয়োজনের দাবি জানিয়ে কেন্দ্রীয় কমিটির কাছে লিখিত আবেদন করেছেন জেলার দুই সদস্য।
আবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে, ঝালকাঠি জেলা শাখার ৪০তম বার্ষিক সাধারণ সভায় উপস্থাপিত সাধারণ সম্পাদকের বার্ষিক প্রতিবেদন-২০২৫ অনুযায়ী সংগঠনের মোট সদস্য সংখ্যা ৩৮ জন। তবে একই প্রতিবেদনের আয়-ব্যয়ের হিসাব অনুযায়ী নির্ধারিত সময়ে মাত্র একজন নতুন সদস্য এবং ২৯ জন সদস্যের সদস্যপদ নবায়নের তথ্য দেখানো হয়েছে। এ হিসেবে মোট ৩০ জন সদস্যের কাছ থেকে সদস্য ফি বাবদ ১ লাখ ৫ হাজার টাকা আদায়ের হিসাব উপস্থাপন করা হয়।
অভিযোগকারীদের দাবি, বাস্তবে নতুন সদস্য হয়েছেন দুইজন। তাদের কাছ থেকে যথাক্রমে ২০ হাজার ও ১৫ হাজার টাকা গ্রহণ করা হলেও সেই অর্থের পূর্ণাঙ্গ বিবরণ আয়-ব্যয়ের হিসাবে প্রতিফলিত হয়নি। এছাড়া লাইব্রেরির মালিকানা পরিবর্তন, সদস্যপদ হস্তান্তর এবং সংশ্লিষ্ট আর্থিক লেনদেনের মাধ্যমে অতিরিক্ত অর্থ আদায় করা হলেও তার কোনো তথ্য বার্ষিক হিসাব বিবরণীতে অন্তর্ভুক্ত করা হয়নি বলে অভিযোগ করা হয়েছে।
আবেদনে আরও বলা হয়, সদস্যপদ নবায়নকারী সদস্যের সংখ্যা ৩০ জন হলেও ভোটার তালিকায় ৩৮ জনের নাম অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। এতে নির্বাচন প্রক্রিয়ার স্বচ্ছতা ও নিরপেক্ষতা নিয়ে প্রশ্ন দেখা দিয়েছে। অভিযোগকারীদের আশঙ্কা, এ অবস্থায় নির্বাচন অনুষ্ঠিত হলে সংগঠনের সদস্যদের মধ্যে বিভ্রান্তি, অসন্তোষ ও আস্থার সংকট সৃষ্টি হতে পারে।
এ বিষয়ে বক্তব্য জানতে বাপুস ঝালকাঠি জেলা শাখার সভাপতি ও মেসার্স আদর্শ লাইব্রেরির স্বত্বাধিকারী মো. আবুল কালাম আজাদ এবং সাধারণ সম্পাদক ও নুরিয়া লাইব্রেরির স্বত্বাধিকারী মো. হাসিবুল ইসলাম নিপুর সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তারা কোনো মন্তব্য করতে রাজি হননি।
এ পরিস্থিতিতে কেন্দ্রীয় নির্বাচন আহ্বায়ক কমিটির সরাসরি তত্ত্বাবধানে নির্বাচন আয়োজন, সদস্যপদ নবায়ন না করা ব্যক্তিদের ভোটার তালিকা থেকে বাদ দেওয়া, সদস্যপদ ও আর্থিক হিসাবের নিরপেক্ষ তদন্ত এবং হালনাগাদ ভোটার তালিকা প্রকাশের দাবি জানিয়েছেন আবেদনকারীরা। পাশাপাশি নতুন সদস্য গ্রহণ ও সদস্যপদ হস্তান্তর সংক্রান্ত আর্থিক লেনদেনের বিষয়েও তদন্তের আহ্বান জানানো হয়েছে। আবেদনপত্রে স্বাক্ষর করেছেন ইসলামিয়া লাইব্রেরির স্বত্বাধিকারী সাইফুল ইসলাম এবং ছাত্রবন্ধু লাইব্রেরির স্বত্বাধিকারী আবু জাফর বিশ্বাস। এ বিষয়ে কেন্দ্রীয় নির্বাচন আহ্বায়ক কমিটির কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি। তবে অভিযোগকে কেন্দ্র করে বাপুসের সংশ্লিষ্ট মহলে আলোচনা শুরু হয়েছে।
দৈনিক ‘নাগরিক ভাবনা’র অনলাইন পোর্টালটি ঢাকা হতে শেখ রিফান আহমেদ-এর সম্পাদনায় পরিচালিত।
হটলাইন: 09649-230220 ও 01915-708187, ইমেইল: info.nagorikvabna@gmail.com
@নাগরিক ভাবনা কর্তৃক সর্বস্বত্ত্ব সংরক্ষিত