
মুন্সি শাহাব উদ্দীন, চট্টগ্রাম: চট্টগ্রামের লোহাগাড়া উপজেলার উত্তর কলাউজান এলাকায় দীর্ঘদিনের পারিবারিক কবরস্থানের সীমানা প্রাচীর নির্মাণকাজে বাধা, ভয়ভীতি প্রদর্শন এবং সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে অপপ্রচারের অভিযোগ তুলে সংবাদ সম্মেলন করেছে ভুক্তভোগী পরিবার।
রবিবার (৭ জুন) বিকেলে লোহাগাড়া বটতলী এলাকার একটি মিলনায়তনে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্য উপস্থাপন করেন কলাউজান ইউনিয়ন পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান, কলাউজান শাহ রশিদিয়া ফাজিল মাদরাসার অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষক এবং জামায়াতে ইসলামীর লোহাগাড়া উপজেলার সাবেক আমির মাওলানা মোহাম্মদ ইদ্রিস।
সংবাদ সম্মেলনে তিনি জানান, উত্তর কলাউজান খালদাঁদ খান জামে মসজিদ সংলগ্ন তাদের খতিয়ানভুক্ত পারিবারিক কবরস্থানটি বহু বছর ধরে শতাধিক পরিবারের মৃত স্বজনদের দাফনের স্থান হিসেবে ব্যবহৃত হয়ে আসছে। কবরস্থানের জমি সংরক্ষণ, অবৈধ দখল প্রতিরোধ, পরিবেশ রক্ষা এবং পবিত্রতা অক্ষুণ্ণ রাখতে জেলা পরিষদের বরাদ্দ ও কবরস্থানের মালিকদের নিজস্ব অর্থায়নে সীমানা প্রাচীর নির্মাণের উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়।
লিখিত বক্তব্যে দাবি করা হয়, কবরস্থানের পার্শ্ববর্তী জমির মালিকদের উপস্থিতিতে সার্ভেয়ার দ্বারা জমি পরিমাপ করে সীমানা নির্ধারণের পর নির্মাণকাজ শুরু করা হয়। ইতোমধ্যে প্রাচীরের প্রায় অর্ধেক কাজ সম্পন্ন হলেও একটি স্বার্থান্বেষী মহল বিভিন্নভাবে বাধা সৃষ্টি করছে। এমনকি নির্মাণকাজে জড়িত ব্যক্তিদের ভয়ভীতি ও হুমকি প্রদর্শনের অভিযোগও তোলা হয়।
সংবাদ সম্মেলনে আরও বলা হয়, কবরস্থানের বৈধ মালিকদের বিরুদ্ধে ভূমি অফিসে ভিত্তিহীন অভিযোগ দায়ের করা হয়েছে। পাশাপাশি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম, অনলাইন নিউজ পোর্টাল এবং কিছু সংবাদমাধ্যমে একপাক্ষিক ও বিভ্রান্তিকর তথ্য প্রকাশ করে জনমনে বিভ্রান্তি সৃষ্টির অপচেষ্টা চালানো হচ্ছে। এসব প্রচারণায় কবরস্থানের খতিয়ানভুক্ত মালিকদের সামাজিকভাবে হেয়প্রতিপন্ন ও মানহানির শিকার করা হচ্ছে বলে অভিযোগ করেন তারা।
ভুক্তভোগী পরিবারের পক্ষ থেকে দাবি করা হয়, তাদের খতিয়ানভুক্ত মালিকানাধীন পারিবারিক কবরস্থানকে ঘিরে যে বিরোধ সৃষ্টি করা হচ্ছে, তা সম্পূর্ণ উদ্দেশ্যপ্রণোদিত। তাদের মতে, যারা নির্মাণকাজে বাধা দিচ্ছেন, তাদের অনেকেরই পৃথক কবরস্থান রয়েছে। এরপরও পারিবারিক কবরস্থানের সীমানা সংরক্ষণের কাজে প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করা দুঃখজনক এবং অযৌক্তিক।
সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত পরিবারের সদস্যরা বলেন, কবরস্থান শুধু একটি জমি নয়; এটি তাদের পূর্বপুরুষ ও প্রিয়জনদের স্মৃতিবিজড়িত একটি পবিত্র স্থান। এর নিরাপত্তা ও সংরক্ষণ নিশ্চিত করা প্রত্যেক উত্তরসূরির নৈতিক দায়িত্ব। তাই পারিবারিক কবরস্থানের সীমানা প্রাচীর নির্মাণকে কেন্দ্র করে কোনো ধরনের অপপ্রচার, বিভ্রান্তি কিংবা বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি না করে সবাইকে দায়িত্বশীল ভূমিকা পালনের আহ্বান জানান তারা।
পরিশেষে, ভুক্তভোগী পরিবার সংশ্লিষ্ট প্রশাসন, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী, জনপ্রতিনিধি এবং সচেতন নাগরিকদের প্রতি বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করার আহ্বান জানিয়ে কবরস্থানের সীমানা সংরক্ষণের কাজ নির্বিঘ্নে সম্পন্ন করতে প্রয়োজনীয় সহযোগিতা কামনা করেন।
দৈনিক ‘নাগরিক ভাবনা’র অনলাইন পোর্টালটি ঢাকা হতে শেখ রিফান আহমেদ-এর সম্পাদনায় পরিচালিত।
হটলাইন: 09649-230220 ও 01915-708187, ইমেইল: info.nagorikvabna@gmail.com
@নাগরিক ভাবনা কর্তৃক সর্বস্বত্ত্ব সংরক্ষিত