
প্রিন্ট এর তারিখঃ জুন ১১, ২০২৬, ৯:১০ পি.এম || প্রকাশের তারিখঃ জুন ৯, ২০২৬, ১০:১৭ এ.এম
ছাত্রীকে অ’শ্লীল ভিডিও দেখানোর অভিযোগে শিক্ষককে মা’রধর

আব্দুল হান্নান, শাজাহানপুর (বগুড়া): বগুড়ার শাজাহানপুর উপজেলায় এক সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষকের বিরুদ্ধে পঞ্চম শ্রেণীর এক ছাত্রীকে অশ্লীল ভিডিও দেখানোর অভিযোগ উঠেছে। এই অভিযোগকে কেন্দ্র করে স্থানীয় এলাকাবাসী ও ক্ষু'ব্ধ অভিভাবকরা ওই শিক্ষককে মা'রধর করে র'ক্তাক্ত ও অব'রুদ্ধ করে রাখে। পরবর্তীতে পুলিশ গিয়ে তাকে উদ্ধার করে।
সোমবার (৮ জুন) বেলা ১১টার দিকে শাজাহানপুর উপজেলার দহিকান্দি আদর্শ সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে এই ঘটনা ঘটে। অভিযুক্ত শিক্ষকের নাম মোজাহার আলী (৫৫), তিনি ওই বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক।
মারধরের শিকার শিক্ষক মোজাহার আলী অভিযোগ অস্বীকার করে জানান, সরকারি নির্দেশনা অনুযায়ী উপজেলা পর্যায়ের বাৎসরিক সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের জন্য তিনি শিক্ষার্থীদের নাচ শিখিয়ে আসছিলেন। গত ১৮ মে সেই অনুষ্ঠান সম্পন্ন হয়। ১৮ মে’র আগে একদিন তিনি শিক্ষার্থীদের অনুশীলনের সুবিধার্থে নিজের মোবাইলে নাচের ভিডিও চালু করে দিয়ে অফিস কক্ষে যান।
শিক্ষকের দাবি, "স্কুলের ওয়াইফাই মোবাইলে সংযুক্ত থাকায় স্বয়ংক্রিয়ভাবে বা অন্য কোনোভাবে কোনো অশ্লীল ভিডিও সামনে এসে থাকতে পারে, যা আমার জানা ছিল না। কোরবানির ঈদের ছুটি শেষে গত ৭ জুন স্কুল খোলার পর প্রধান শিক্ষক আমাকে জানান যে, দুজন ছাত্রী আমার বিরুদ্ধে অশ্লীল ভিডিও দেখানোর অভিযোগ করেছে। এরপর আজ (৮ জুন) হঠাৎ করেই অভিযোগকারী ছাত্রীর মা কয়েকজন যুবককে সাথে নিয়ে স্কুলে এসে আমাকে মারধর করে রক্তাক্ত করে এবং অবরুদ্ধ করে রাখে।"
মারধরের বিষয়টি অস্বীকার করে শিক্ষার্থীর বাবা জানান, তিনি নিজে মারধর করেননি এবং কে বা কারা এই ঘটনা ঘটিয়েছে সে বিষয়ে তিনি কিছু জানেন না।
মারধরের শিকার ওই শিক্ষকের মেয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, "আমার বাবা দীর্ঘ ৩০ বছর ধরে অত্যন্ত সুনামের সঙ্গে এই স্কুলে শিক্ষকতা করে আসছেন। স্কুলের পাশেই আমাদের বাড়ি হওয়ায় ব্যক্তিগত শত্রুতার জেরে পরিকল্পিতভাবে ‘মব’ (উচ্ছৃঙ্খল জনতা) সৃষ্টি করে আমার বাবাকে মারধর করা হয়েছে।"
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কয়েকজন স্থানীয় বাসিন্দা জানান, ওই শিক্ষকের পরিবারের সঙ্গে কিছু প্রতিবেশীর দীর্ঘদিন ধরে বিভিন্ন বিষয়ে মনোমালিন্য চলছিল। ধারণা করা হচ্ছে, সেই বিরোধের জের ধরেই সামান্য বিষয়কে কেন্দ্র করে তাকে লাঞ্ছিত ও হেনস্থা করার জন্য এ ঘটনার পুনরাবৃত্তি ঘটানো হয়েছে।
শাজাহানপুর থানা পুলিশ জানায়, জরুরি ফোন পেয়ে দুপুর ২টার দিকে তারা ঘটনাস্থলে পৌঁছান এবং অবরুদ্ধ শিক্ষককে উদ্ধার করে চিকিৎসার জন্য উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে পাঠান। এই বিষয়ে থানায় এখন পর্যন্ত কোনো লিখিত অভিযোগ করা হয়নি। উপজেলা প্রাথমীক শিক্ষা অফিসার আব্দুল লতিফ জানান, ঘটনা শোনার পর তিনি একাধিকবার ফোন পেয়ে বিদ্যালয়ে আসেন এবং প্রাথমিকভাবে শিক্ষার্থীদের বক্তব্য শোনেন। পুরো বিষয়টি তদন্ত সাপেক্ষে পরবর্তী আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
দৈনিক ‘নাগরিক ভাবনা’র অনলাইন পোর্টালটি ঢাকা হতে শেখ রিফান আহমেদ-এর সম্পাদনায় পরিচালিত।
হটলাইন: 09649-230220 ও 01915-708187, ইমেইল: info.nagorikvabna@gmail.com
@নাগরিক ভাবনা কর্তৃক সর্বস্বত্ত্ব সংরক্ষিত