প্রিন্ট এর তারিখঃ জুন ১৮, ২০২৬, ১২:০৪ এ.এম || প্রকাশের তারিখঃ জুন ১৬, ২০২৬, ১:১৩ পি.এম

আমের ভরা মৌসুমে দেশের অন্যতম বৃহৎ আমের মোকাম রাজশাহীর পুঠিয়া উপজেলার বানেশ্বর আম হাট পরিদর্শন করেছেন বাংলাদেশে নিযুক্ত মার্কিন রাষ্ট্রদূত ব্রেন্ট টি. ক্রিস্টেনসেন। মঙ্গলবার সকালে তিনি হাটে এসে আমের বেচাকেনা, সরবরাহ ব্যবস্থা এবং স্থানীয় কৃষি অর্থনীতির বিভিন্ন দিক সম্পর্কে সরেজমিনে ধারণা নেন।
সকাল ৯টার দিকে রাষ্ট্রদূত বানেশ্বর আম হাটে পৌঁছালে সেখানে উপস্থিত ব্যবসায়ী, আড়তদার ও স্থানীয়রা তাকে স্বাগত জানান। সফরসঙ্গী হিসেবে ছিলেন মার্কিন দূতাবাসের পলিটিক্যাল কাউন্সেলর এরিক গিলান, পলিটিক্যাল অফিসার চার্লস বেসনার্ড এবং দূতাবাসের আরও কয়েকজন কর্মকর্তা।
পরিদর্শনের সময় রাষ্ট্রদূত হাটের বিভিন্ন অংশ ঘুরে দেখেন এবং আম ব্যবসার সঙ্গে জড়িত ব্যক্তিদের সঙ্গে কথা বলেন। তিনি রাজশাহীতে উৎপাদিত বিভিন্ন জাতের আম, সেগুলোর বাজারমূল্য, চাহিদা এবং বিপণন পদ্ধতি সম্পর্কে জানতে চান। একইসঙ্গে আম উৎপাদন থেকে ভোক্তার হাতে পৌঁছানো পর্যন্ত পুরো প্রক্রিয়া সম্পর্কেও আগ্রহ প্রকাশ করেন।
হাটে থাকা কৃষকরা রাষ্ট্রদূতকে জানান, রাজশাহীর জলবায়ু ও মাটির গুণাগুণের কারণে এখানকার আমের স্বাদ ও মান দেশের অন্য অনেক অঞ্চলের তুলনায় আলাদা। প্রতিবছর মৌসুমে দেশের বিভিন্ন জেলা থেকে ব্যবসায়ীরা এখানে এসে আম সংগ্রহ করেন। সাম্প্রতিক বছরগুলোতে বিদেশেও রাজশাহীর আমের চাহিদা বাড়ছে বলে তারা উল্লেখ করেন।
পরিদর্শনকালে রাষ্ট্রদূত স্থানীয়ভাবে উৎপাদিত বিভিন্ন জাতের আমের স্বাদ গ্রহণ করেন। আমের গুণগত মান ও স্বাদে সন্তোষ প্রকাশ করে তিনি স্থানীয় কৃষকদের পরিশ্রম এবং উৎপাদন দক্ষতার প্রশংসা করেন।
হাটের ব্যবসায়ীরা বলেন, আন্তর্জাতিক অঙ্গনের একজন গুরুত্বপূর্ণ কূটনীতিকের এমন সফর রাজশাহীর আম শিল্পের জন্য ইতিবাচক বার্তা বহন করে। এতে বিদেশি বাজারে রাজশাহীর আম সম্পর্কে আগ্রহ আরও বাড়তে পারে। তারা মনে করেন, এ ধরনের সফর আন্তর্জাতিক ক্রেতাদের দৃষ্টি আকর্ষণে সহায়ক ভূমিকা রাখবে।
স্থানীয় কৃষকরাও সফরটিকে তাৎপর্যপূর্ণ বলে উল্লেখ করেন। তাদের ভাষ্য, বিদেশি প্রতিনিধিদের আগ্রহ দেশের কৃষিপণ্যের প্রতি আস্থা বাড়ায় এবং ভবিষ্যতে রপ্তানি সম্প্রসারণের ক্ষেত্র তৈরি করে। তারা আশা করেন, রাজশাহীর আম বিশ্ববাজারে আরও বড় পরিসরে পৌঁছাবে।
সাংবাদিকদের সঙ্গে মতবিনিময়কালে মার্কিন রাষ্ট্রদূত বলেন, রাষ্ট্রদূত হিসেবে এটি তার প্রথম রাজশাহী সফর। যদিও ২০২০ সালে তিনি একবার এই অঞ্চলে এসেছিলেন, তবে এবার তিনি বিশেষভাবে আমের মৌসুমে রাজশাহীর বিখ্যাত আম সম্পর্কে জানতেই এসেছেন।
তিনি বলেন, রাজশাহীতে এসে তিনি অত্যন্ত আনন্দিত। কৃষিনির্ভর একটি অঙ্গরাজ্য থেকে আসার কারণে কৃষিপণ্য উৎপাদনের বিষয়গুলো তার কাছে বিশেষ আগ্রহের। তার মতে, কোনো কৃষিপণ্যের প্রকৃত বৈশিষ্ট্য জানতে হলে উৎপাদনস্থলে গিয়ে সেটি দেখা এবং উৎপাদকদের সঙ্গে কথা বলা সবচেয়ে কার্যকর উপায়।
মার্কিন রাষ্ট্রদূত আরও বলেন, যুক্তরাষ্ট্রেও আমের জনপ্রিয়তা রয়েছে। তবে সেখানে বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই হিমায়িত বা প্রক্রিয়াজাত আম বেশি ব্যবহার করা হয়। রাজশাহীর মতো উৎপাদনস্থলে সরাসরি তাজা আম খাওয়ার অভিজ্ঞতা ভিন্ন এবং বিশেষ বলে তিনি মন্তব্য করেন।
বাংলাদেশের আম রপ্তানির সম্ভাবনা প্রসঙ্গে তিনি বলেন, আধুনিক কোল্ড চেইন বা শীতল সংরক্ষণ অবকাঠামোর উন্নয়ন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। উন্নত সংরক্ষণ ব্যবস্থা থাকলে আম দীর্ঘ সময় ভালো রাখা সম্ভব হবে এবং আন্তর্জাতিক বাজারে সারা বছর সরবরাহ নিশ্চিত করা সহজ হবে।
তিনি আরও বলেন, উৎপাদনের পাশাপাশি সংরক্ষণ, প্রক্রিয়াজাতকরণ ও পরিবহন ব্যবস্থার উন্নয়ন ঘটাতে পারলে বাংলাদেশের আম রপ্তানি আরও বৃদ্ধি পাবে। এতে কৃষক, ব্যবসায়ী এবং দেশের অর্থনীতি সমানভাবে লাভবান হবে।
মার্কিন রাষ্ট্রদূতের এই সফরকে রাজশাহীর আম শিল্পের আন্তর্জাতিক পরিচিতি বৃদ্ধির ক্ষেত্রে একটি ইতিবাচক পদক্ষেপ হিসেবে দেখছেন সংশ্লিষ্টরা। তাদের প্রত্যাশা, এ ধরনের সফরের মাধ্যমে দেশের কৃষিপণ্য বিশ্ববাজারে নতুন সুযোগ সৃষ্টি করবে এবং রাজশাহীর আমের সুনাম আরও বিস্তৃত হবে।